রোববার (১৮ অক্টোবর) আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার মগবাজারের সেলিব্রেশন কমিউনিটি পয়েন্টে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চন্দনা। সেখানে তিনি জানান, প্রয়াত এই সংগীতশিল্পীর অপ্রকাশিত গানগুলো এবি ফাউন্ডেশনের কাছে রয়েছে। উপযুক্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গানগুলো শ্রোতাদের সামনে আনা হবে।
চন্দনা বলেন, আইয়ুব বাচ্চুর প্রায় ২০০টি গান এখনো কেউ শোনেননি। গানগুলো এবি ফাউন্ডেশনের কাছে সংরক্ষিত আছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো প্রকাশ করা হবে।
এই ঘোষণা আইয়ুব বাচ্চুর সংগীতের ভক্তদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করতে পারে। কারণ, তাঁর পরিচিত ও জনপ্রিয় গানগুলোর বাইরে অপ্রকাশিত সৃষ্টিগুলো শোনার সুযোগ পাওয়া মানে শিল্পীর সংগীতজগতের আরও কিছু দিক আবিষ্কার করা। তবে গানগুলো কবে থেকে প্রকাশ করা হবে, কোন মাধ্যমে প্রকাশিত হবে কিংবা সেগুলোর ধরন কী—এসব বিষয়ে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর মাত্র ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতাঙ্গনে গভীর শূন্যতা তৈরি করে। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী কয়েক দশক ধরে নিজের কণ্ঠ, গিটার বাজানোর দক্ষতা এবং স্বতন্ত্র সংগীতশৈলীর মাধ্যমে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।
আইয়ুব বাচ্চু বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন ব্যান্ড এলআরবির প্রধান শিল্পী ও গিটারিস্ট হিসেবে। ব্যান্ডের গান দিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জনের পাশাপাশি একক শিল্পী হিসেবেও তিনি নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। প্রেম, বিরহ, নিঃসঙ্গতা, জীবনের টানাপোড়েন এবং মানুষের আবেগ তাঁর গানে বারবার উঠে এসেছে। তাঁর গায়কির স্বাতন্ত্র্য এবং গিটারের সুর বাংলা ব্যান্ড সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে।
একক শিল্পী হিসেবে আইয়ুব বাচ্চুর উল্লেখযোগ্য অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে ‘রক্ত গোলাপ’, ‘ময়না’, ‘কষ্ট’, ‘সময়’, ‘একা’, ‘প্রেম তুমি কি!’, ‘পথের গান’ ও ‘জীবন’। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি মোট ১৬টি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন। ব্যান্ড সংগীতের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। প্রায় এক ডজন সিনেমায় তাঁর কণ্ঠ শোনা গেছে।
আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয়তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তাঁর গান একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে সমানভাবে পরিচিত। পুরোনো শ্রোতাদের কাছে তাঁর গান স্মৃতির অংশ, আবার নতুন প্রজন্মের অনেকেই তাঁর সংগীতের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন বিভিন্ন মাধ্যমে।
এমন প্রেক্ষাপটে এবি ফাউন্ডেশনের কাছে থাকা অপ্রকাশিত গানগুলো প্রকাশের উদ্যোগ তাঁর সংগীতভান্ডার সংরক্ষণ ও নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গানগুলো প্রকাশিত হলে ভক্তরা প্রিয় শিল্পীর অশ্রুত সৃষ্টি শোনার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে আইয়ুব বাচ্চুর অবদান সম্পর্কে আরও বিস্তৃত ধারণা পাওয়ার পথও তৈরি হবে।
মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি আর কখনো ফিরবে না। কিন্তু সুর, কণ্ঠ ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আইয়ুব বাচ্চু এখনো শ্রোতাদের সঙ্গে আছেন। অপ্রকাশিত প্রায় ২০০ গানের খবর সেই সম্পর্ককে নতুন করে উজ্জীবিত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।














