সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই মে ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম

আজ ২৫ বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। বাংলা সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা ও দর্শনের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত বাঙালিরা দিনটি নানা সাংস্কৃতিক ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করছে। জোড়াসাঁকো, শিলাইদহ, শাহজাদপুর ও পতিসরসহ রবীন্দ্র-স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোতে রয়েছে বিশেষ আয়োজন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ, ব্রিটিশ ভারতের কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। তিনি ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদাসুন্দরী দেবীর চতুর্দশ সন্তান। ১৯১৩ সালে তাঁর ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি নোবেল সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন, যা বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করে তোলে। তাঁর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃত।
তিনি একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সুরস্রষ্টা, চিত্রশিল্পী, শিক্ষাচিন্তক ও দার্শনিক ছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধগ্রন্থ, অসংখ্য ছোটগল্প এবং ২ হাজারেরও বেশি গান। তাঁর সৃষ্টিকর্ম মানবতা, প্রেম, প্রকৃতি ও সমাজচেতনার গভীর প্রকাশ ঘটিয়েছে।
রবীন্দ্রনাথের চিন্তাধারা ও সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষাকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ রূপ দিয়েছে। তাঁর গান ও কবিতা দেশপ্রেম, মানবতা, আনন্দ-বেদনা এবং জীবনবোধের বহুমাত্রিক প্রকাশ ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর গান ও দর্শন অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে।
রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যায়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আলোচনা সভা, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন চলছে। বিশেষ করে শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ঢাকার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে চার দিনব্যাপী উৎসব আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে রবীন্দ্রসংগীত, নাট্য প্রদর্শনী, নৃত্য ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চলছে।
বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে দুই দিনের জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, যেমন ছায়ানট, পৃথকভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।
| স্থান | কর্মসূচি | সময়কাল |
|---|---|---|
| শিলাইদহ কুঠিবাড়ি, কুষ্টিয়া | আলোচনা, সংগীত, নৃত্য পরিবেশনা | ৮–১০ মে |
| বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা | রবীন্দ্র উৎসব (সংগীত, নাটক, আবৃত্তি) | ৮–১১ মে |
| মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ঢাকা | জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব | ২ দিন |
| শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ | সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা | নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী |
| পতিসর, নওগাঁ | লোকমেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন | নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী |
আগামী ১১ মে বাংলা একাডেমিতে ‘রবীন্দ্র পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করার কথা রয়েছে।
রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী কেবল একটি স্মরণ অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা ও চর্চার এক ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
মন্তব্য