গানের জন্য চাকরি ছাড়লেন নিলয় আহমেদ

সমকালীন বাংলাদেশের গানের অঙ্গনে স্বকীয় উপস্থিতি তৈরি করছেন নিলয় আহমেদ। সম্প্রতি তিনি ওয়েব সিরিজ ‘আঁতকা’-এর গান ‘হায় মন’ গেয়ে নতুনভাবে শ্রোতার মন জয় করেছেন। সিরিজের পরিচালক আরাফাত মহসিন নিধীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় নিলয়কে এই সুযোগ এনে দিয়েছে। গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন নিধী নিজেই।

নিলয় জানান, “নিধী যখন ‘আঁতকা’ নির্মাণের পরিকল্পনা করছিলেন, তিনি আমাকে এই গান গাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা আগে কাজ করেছি, তাই কোনো দ্বিধা ছাড়াই গানটি গাওয়া শুরু করি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চরকির অনুমোদন পাওয়ার পর গানটি চূড়ান্ত রূপ পেল।”

ওয়েব সিরিজে প্লেব্যাকের অভিজ্ঞতা

নিলয় বলেন, “অডিও বা ভিডিও গানের সঙ্গে প্লেব্যাকের কাজ মূলত একই ধরনের হলেও প্লেব্যাকের ক্ষেত্রে গল্পের চরিত্র ও পরিস্থিতি মাথায় রাখতে হয়। এটি গানের এক্সপ্রেশন ও আবহ নির্ধারণে সহায়ক হয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “সিনেমা, নাটক বা ওয়েব সিরিজ—সব মাধ্যমেই একই ধরনের সংগীত ও সুরের স্বাধীনতা থাকে।”

শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া

‘হায় মন’ গানটি প্রকাশিত হওয়ার পর শ্রোতারা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গীতিকার তন্ময় পারভেজ, সুরকার আরাফাত মহসিন নিধী এবং কণ্ঠশিল্পী রাবা খানও গানটির প্রশংসা করেছেন। নিলয় বলেন, “শ্রোতাদের ভালো লাগা একজন শিল্পীর জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

আগের ও সাম্প্রতিক প্লেব্যাক অভিজ্ঞতা

নিলয় উল্লেখ করেন, “‘হ্যালো অমিত’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’ সিনেমার পর ওয়েব সিরিজের প্লেব্যাক নতুন অভিজ্ঞতা। ছোটবেলা থেকেই আমি প্লেব্যাক শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। ডি’রকস্টার রিয়েলিটি শো, বিভিন্ন অ্যালবাম ও টিভি বিজ্ঞাপনের গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েও সত্যিকারের স্বপ্নপূরণ হয়েছে প্রথম প্লেব্যাকের মাধ্যমে।”

তিনি বলেন, “প্লেব্যাকের পরিচিতি পেলেও অন্যান্য মাধ্যমে গান গাইতে কোনো বিরতি নেই। শ্রোতার প্রত্যাশা পূরণই মূল লক্ষ্য। এমনকি গান করার জন্য চাকরি ছেড়েও কোনো দ্বিধা হয়নি।”

নতুন প্রকল্প

নিলয় সম্প্রতি ‘ময়না’র পর ‘ও জান’ শিরোনামের একটি দ্বৈত গান রেকর্ড করেছেন কণ্ঠশিল্পী কোনালের সঙ্গে।

তথ্যবিবরণ
গানও জান
কণ্ঠনিলয় আহমেদ, কোনাল
গীতিকারআসিফ ইকবাল
সুর ও সংগীতায়োজনআভরাল সাহির ও লিংকন
মিউজিক ভিডিও শুটিংবাংলাদেশ ও নেপাল
মডেলসুনেরাহ বিনতে কামাল, রেহান
পরিচালকতানিম রহমান অংশু

নিলয় আশা করছেন, এটি মিউজিক্যাল ফিল্ম হিসেবে প্রশংসিত হবে। তিনি বলেন, “আমার লক্ষ্য প্লেব্যাক শিল্পী পরিচিতি তৈরি করা এবং সব মাধ্যমে শ্রোতার ভালো লাগা পৌঁছে দেওয়া।”