কে-পপ জগতের দুই জনপ্রিয় মুখ—জাংকুক ও উইন্টার—সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন, যা প্রথম দেখায় তুচ্ছ মনে হলেও পরবর্তীতে তা বড় রটনার জন্ম দিয়েছে। তাঁদের দু’জনের হাতেই দেখা গেছে একই ধরনের ট্যাটু, এবং একই স্থানে। অনলাইনে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিকমাধ্যমে শুরু হয়েছে গুঞ্জন—এই মিল কি সত্যি কোনও সম্পর্কের ইঙ্গিত?
ট্যাটুটি দেখতে অত্যন্ত সরল—তিনটি কুকুরছানার মুখের নকশা। কিন্তু এই সরল নকশাই এখন হাজারো পোস্ট, ভিডিও ও বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের মতে, এই ট্যাটু নিছক কাকতালীয় হওয়ার সম্ভাবনা কম। অনেকের মন্তব্য—এটি ‘কাপল ট্যাটু’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
জাংকুক ও উইন্টার দু’জনেরই ভক্তবেস অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষুদ্রতম তথ্যও আলোচনার জন্ম দেয়। ট্যাটুর মিল ছাড়াও ভক্তরা আরও কয়েকটি পয়েন্ট তুলে ধরে বলছেন—এ দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের ইঙ্গিত বেশ স্পষ্ট।
প্রথমত, তাঁদের ইনস্টাগ্রাম ইউজারনেমে ছিল মিল। উইন্টার ব্যবহার করেন ‘আই অ্যাম উইন্টার’, আর জাংকুকও কিছুদিন আগে পর্যন্ত ব্যবহার করতেন ‘আই অ্যাম জাংকুকু’। যদিও জাংকুক বর্তমানে নাম পরিবর্তন করেছেন, নেটিজেনরা বলছেন—এটি সম্পর্কের একটি সাংকেতিক ইঙ্গিত হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, মঞ্চে ব্যবহৃত ইন-ইয়ার মনিটর দু’জনেরই একই ডিজাইনের। একই ডিভাইস বা একই কাস্টম ডিজাইন একসঙ্গে ব্যবহার করা অনেকেই ব্যক্তিগত বন্ধনের লক্ষণ বলে মনে করছেন।
তৃতীয়ত, তাঁদের নিজ নিজ এজেন্সি—বিগহিট মিউজিক ও এসএম এন্টারটেইনমেন্ট—এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব। গুঞ্জন যখন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, তখন কোনও ব্যাখ্যা না দেওয়া অনেককেই ভাবাচ্ছে। নীরবতা কখনো কখনো সরাসরি অস্বীকৃতির চেয়ে বেশি গুঞ্জন উসকে দেয়।
তবে বাস্তবে এই দাবিগুলোর কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনও পর্যন্ত নেই। জাংকুক ও উইন্টার কেউই নিজে থেকে এ বিষয়টি নিয়ে কিছু বলেননি। ট্যাটুর মিল ব্যক্তিগত নকশার প্রতি সাধারণ ভালোবাসাও হতে পারে। একই জিনিস ব্যবহার করা বা একই রকম আইডি নেওয়া নেহাত কাকতালীয়ও হতে পারে। কিন্তু ভক্তদের আবেগ ও কৌতূহল থামানো কঠিন।
কে-পপ ইন্ডাস্ট্রিতে তারকার ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই খুব গোপন রাখা হয়। ফলে ভক্তরা সামান্য ইঙ্গিত দেখলেই নানা ব্যাখ্যা তৈরি করেন। জাংকুক–উইন্টার ট্যাটু বিতর্ক সেই দীর্ঘ ধারারই সর্বশেষ সংযোজন। বর্তমানে অনলাইনে চলছে উত্তেজনা, বিতর্ক ও নানা তত্ত্বের খেলা। সত্যিটা কী—তা সময়ই বলে দেবে।
