জানা গেছে, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন রাসেল খান। বৃহস্পতিবার সকালে বড় বোনের বাসার বাথরুমে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান তিনি। পরে চিকিৎসক এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে রাসেল খান দেশের প্রথম সারির প্রায় সব সংগীতশিল্পীর সঙ্গে গিটার বাজিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন শিল্পীর মঞ্চ পরিবেশনায় তার গিটারের সুর ছিল পরিচিত অনুষঙ্গ। গানের সঙ্গে গিটারের সামঞ্জস্য তৈরি করা, সুরের বৈচিত্র্য যোগ করা এবং সামগ্রিক পরিবেশনার আবহ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একজন দক্ষ গিটারবাদকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রাসেল খান দীর্ঘদিন ধরে এই কাজের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন।
গিটারবাদক হিসেবেই তার পরিচিতি বেশি থাকলেও মাঝেমধ্যে নিজেও গান গাইতেন তিনি। সংগীতের প্রতি তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা তাকে দেশের বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। মঞ্চে গিটার বাজিয়ে অন্য শিল্পীদের পরিবেশনাকে সমৃদ্ধ করাই ছিল তার পেশাগত জীবনের অন্যতম প্রধান দিক। এভাবেই তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতাঙ্গনে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন তিনি।
গত ১৩ অক্টোবর মানিকগঞ্জের একটি অনুষ্ঠানে গিটার বাজিয়েছিলেন রাসেল খান। সেটিই ছিল তার জীবনের শেষ মঞ্চ পরিবেশনা। মাত্র কয়েক দিন আগেও মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করা এই শিল্পীর আকস্মিক মৃত্যু তার পরিবার, সহকর্মী ও পরিচিতজনদের জন্য বেদনাদায়ক ঘটনা।
বাংলাদেশের সংগীতজগতে গিটারসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের শিল্পীরা অনেক সময় সামনে থেকে আলোচনায় না এলেও একটি পরিবেশনাকে পূর্ণতা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গানের ছন্দ ও সুরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর মাধ্যমে তারা শিল্পীর পরিবেশনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন। রাসেল খানের দীর্ঘ সংগীতজীবনেও এই ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দেশের বহু প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার পেশাগত পথচলার উল্লেখযোগ্য দিক।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর বনানীর একটি মসজিদে রাসেল খানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বিক্রমপুরে গ্রামের বাড়িতে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
মৃত্যুকালে রাসেল খান স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে পরিবার হারিয়েছে প্রিয়জনকে, আর সংগীতাঙ্গন হারিয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন গিটারবাদককে।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গিটারের সুরে অন্য শিল্পীদের পাশে ছিলেন রাসেল খান। জীবনের শেষ মঞ্চ পরিবেশনাও করেছিলেন মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে। তার সেই দীর্ঘ সংগীতযাত্রা থেমে গেলেও বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে কাজের মধ্য দিয়ে রেখে যাওয়া অবদান সংগীতাঙ্গনের স্মৃতিতে জায়গা করে থাকবে।















