বাংলাদেশের তরুণ সংগীতশিল্পী, সুরকার ও গীতিকার জাহিদ অন্তু সম্প্রতি একটি অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় আসেন। রাজধানীর গুলশান এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি গ্রেফতার হলেও এক দিনের মধ্যে আদালত থেকে জামিন পান। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে জাহিদ অন্তু নিজের একটি ছবি শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্য প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, কোনো বিষয়ে একপক্ষের বক্তব্য শুনে মন্তব্য করা উচিত নয়। তিনি আরও লেখেন, যদি তাঁর দ্বারা কোনো অপরাধ ঘটে থাকে তবে তিনি সর্বোচ্চ শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও। একই সঙ্গে তিনি ন্যায়বিচারের বিষয়ে আস্থা রেখে বিচারকে সর্বোচ্চ সত্তার ওপর ন্যস্ত করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গিটার শেখানোর একটি ক্লাস চলাকালে জাহিদ অন্তুর সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে যায় এবং যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় একটি ফটোশুটের অজুহাতে ওই শিক্ষার্থীকে গুলশানের একটি বাসায় ডাকা হয়। সেখানে যাওয়ার পর তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়। বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় এবং এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে স্বজনদের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। ঘটনার পর ৩০ মার্চ তিনি গুলশান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং পরে আদালত তাঁকে জামিন দেন।
ঘটনার ধারাবাহিকতা ও গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো নিচে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২৭ মার্চ | ফটোশুটের কথা বলে বাসায় ডেকে নেওয়া এবং অভিযোগ অনুযায়ী নির্যাতনের ঘটনা |
| ৩০ মার্চ | ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের |
| ২ এপ্রিল | গ্রেফতারের পর আদালত থেকে জামিন প্রদান |
| ৭ এপ্রিল | সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাহিদ অন্তুর মন্তব্য প্রকাশ |
| ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত | আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ নির্ধারণ |
উল্লেখ্য, জাহিদ অন্তু তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একজন পরিচিত সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত। তিনি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গান প্রকাশের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি সংগীত প্রতিযোগিতার বাছাই পর্বে অংশগ্রহণ করে আলোচনায় আসেন।
বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, যেখানে একাংশ তাঁর বক্তব্যকে ব্যক্তিগত অবস্থান হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
