প্রীতমের প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফর, সিডনিতে কনসার্ট শুরু

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের প্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান এবার অস্ট্রেলিয়ায় তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ সংগীত সফরে পৌঁছেছেন। দেশের বাইরে এটি তার প্রথম মঞ্চ উপস্থিতি, যা শুরু হয়েছে ৯ নভেম্বর, রোববার, সিডনি থেকে। ভক্তদের মধ্যে এই সফরকে কেন্দ্র করে আগ্রহের ঢেউ উঠেছে, বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে।

টিম প্রীতম’–এর সঙ্গে সিডনিতে পৌঁছেছেন প্রীতম। এর আগে নাটক শুটিং এবং অন্যান্য কাজের জন্য তিনি অস্ট্রেলিয়া সফর করলেও, এটি তার সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রথম পূর্ণাঙ্গ মঞ্চ। এই সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচুর আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ভক্তরা তার লুক, কণ্ঠ এবং পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

সিডনি ও মেলবোর্নের কনসার্টে প্রীতমের সঙ্গে থাকছেন তার ভাই, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসান, যা দুই ভাইয়ের যুগল উপস্থিতিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘বেস্ট অব বেঙ্গল’ জানিয়েছে, এই সফরের সব শহরের টিকিট প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্রহ প্রকাশ করছেন, এবং অনেকে দীর্ঘদিন ধরে এই মঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছেন।

প্রীতম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন,
“আমরা আবার সফরে ফিরেছি। এবার আমরা অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সবখানেই যাচ্ছি—সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড এবং পার্থ। ভক্তদের সঙ্গে আমাদের এই সাক্ষাৎ এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হবে।”

আয়োজক তানিম মান্নান বলেন,
“এই আয়োজন একেবারে টাইম মেশিনের মতো। দুটি প্রজন্মের সংগীত এক মঞ্চে উপভোগ করা হবে। আমরা খালিদ হাসান মিলুর কালজয়ী গান যেমন ‘তুমি আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয়’ বা ‘সেই মেয়েটি আমাকে ভালোবাসে কি না’–এর নস্টালজিয়ায় ভাসব, আবার পরমুহূর্তেই প্রীতমের ‘লাগে উরা ধুরা’ বা ‘দেওরা’–এর মতো চার্ট-টপার গানে মাতব।”

প্রীতমের অস্ট্রেলিয়া সফরের পূর্ণ সময়সূচি নিম্নে দেওয়া হলো:

তারিখশহরপ্রধান কার্যক্রম
৯ নভেম্বরসিডনিউদ্বোধনী কনসার্ট, ভক্তদের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকশন
১৫ নভেম্বরমেলবোর্নপ্রীতম ও প্রতীকের যুগল পারফরম্যান্স
১৬ নভেম্বরব্রিসবেনপ্রধান কনসার্ট, ভক্ত সাক্ষাৎ ও মিট অ্যান্ড গ্রিট
২২ নভেম্বরঅ্যাডিলেডবিশেষ পারফরম্যান্স, স্থানীয় সাংস্কৃতিক উৎসবের অংশ
২৩ নভেম্বরপার্থসফরের সমাপনী কনসার্ট, স্মৃতিচারণ ও সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান

এই সফর কেবল প্রীতমের সংগীত প্রতিভা উপস্থাপন করবে না, বরং বাংলাদেশি সংগীত ও সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করাবে। দুই ভাইয়ের যুগল উপস্থিতি ও প্রীতমের জনপ্রিয় গানের মেলবন্ধন প্রতিটি শহরের ভক্তদের মনে অমর স্মৃতি হিসেবে থাকবে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই সফরটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আনন্দের এক উৎসব। তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রীতমের মঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, এবং প্রতিটি শহরে তার পারফরম্যান্স ভক্তদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অস্ট্রেলিয়া সফরটির মাধ্যমে প্রীতম হাসান প্রমাণ করলেন যে, বাংলাদেশি সংগীত বিশ্বমঞ্চেও সমানভাবে সমাদৃত হতে পারে, এবং তিনি প্রবাসী ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শিল্পী ও শ্রোতার মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।