মিউজিক গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ১:৩৫ পিএম

জাতীয় সংস্কৃতি ও সংগীত অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করে বাংলাদেশ বেতারে সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন ৯২ জন প্রবীণ ও নবীন সংগীতশিল্পী। গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ বেতারের নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি করা এই প্রস্তাবিত তালিকা প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘদিনের সংগীতসাধনা, পরিবেশনা এবং শিল্পভাবনার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে এই তালিকাভুক্তিকে দেশের সংগীত অঙ্গনে একটি ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকাশিত এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন দেশের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় ও গুণী শিল্পী। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—আলম আরা মিনু, মেহরীন মাহমুদ, সানিয়া সুলতানা লিজা, সুকন্যা মজুমদার, সুমন কল্যাণ এবং রাজেশ ঘোষ। গান গাওয়ার পাশাপাশি তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সংগীত রচনা, সুরসংযোজন এবং সংগীত পরিচালনার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
কণ্ঠশিল্পী আলম আরা মিনু বহুকাল ধরে বাংলাদেশি সংগীতে নিজের অবস্থান মজবুত রেখেছেন। দীর্ঘদিনের এই পথচলায় কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সুর ও সংগীত পরিচালনায় নিজস্ব স্বাক্ষর রেখেছেন। বেতারে আনুষ্ঠানিকভাবে সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে নতুন পরিচয়ে যুক্ত হতে পেরে তিনি গভীর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুভূতি শেয়ার করার পাশাপাশি তালিকায় সুযোগ পাওয়া অন্যান্য সহশিল্পীদেরও আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান এই গুণী শিল্পী।
অন্যদিকে, সংগীত অঙ্গনে দুই দশকের ক্যারিয়ারজুড়ে নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখেছেন সাজিয়া সুলতানা পুতুল। প্রায় দেড় দশক ধরে তিনি নিয়মিত গান লেখা ও সুর করার কাজে যুক্ত। ক্যারিয়ারের প্রথম অ্যালবামের পর থেকে পরবর্তী সব অ্যালবামের গান এবং একচ্ছত্র একক (সিঙ্গেল) প্রকাশনার কাজ তিনি নিজেই লিখেছেন, সুর করেছেন এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন।
বাংলাদেশ বেতারে নতুন এই তালিকায় নিজের নাম দেখে আবেগপ্লুত পুতুল জানান, এই অর্জন তাঁর শিল্পীজীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। তিনি বলেন, “অনেকে বিভিন্ন সময়ে আমার সুরে ও সংগীতে গান গাইতে চেয়েছেন, কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এবার বাংলাদেশ বেতারের মতো রাষ্ট্রীয় ও ঐতিহ্যবাহী মাধ্যমের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করতে পারব। অন্য শিল্পীদের নিয়ে নতুন নতুন কাজ করার এই সুযোগ আমার সংগীতের পথচলাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশ বেতারের এমন উদ্যোগে সংগীতশিল্পীদের পাশাপাশি ভক্ত-শ্রোতাদের মধ্যেও এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নতুন এই তালিকাভুক্তির ফলে শিল্পীরা এখন রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন, যা দেশীয় সংগীতে এক নতুন জোয়ার আনবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য