Table of Contents
গানের বিস্তারিত তথ্য
| তথ্যবিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| গানের নাম | মন তোরে পারলাম না বুঝাইতে |
| গীতিকার ও সুরকার | মুজিব পরদেশী |
| মূল কণ্ঠশিল্পী | মুজিব পরদেশী |
| সংগীতধারা | লোকসংগীত / দেহতত্ত্ব ও বাউল ভাবধারা |
| মূল উপজীব্য | দেহতত্ত্ব, নশ্বরতা, অবাধ্য মানবমন ও ভবভ্রান্তি |
| প্রধান রূপক | সোনার ঘর ও ঘুণপোকা, তিন তক্তার নৌকা, ভবের স্বপ্ন |
| সুরশৈলী | লোকজ বাউল সুর / ফোক মেলোডি |
মন তোরে পারলাম না বুঝাইতে [ Mon tore parlam na bujhaite ] | মুজিব পরদেশী
গীতিকারঃ মুজিব পরদেশী
সুরকারঃ মুজিব ‘পরদেশী
মন তোরে পারলাম না ‘বুঝাইতে লিরিক্স :
সোনা দিয়া বান্ধাইয়াছি ঘর
ও মন রে ঘুণে করলো জড়ো জড়
আমি কি করে বাস করিব এই ঘরে রে
তুই সে আমার মন
মন তোরে পারলাম না বুঝাইতে রে
তুই সে আমার মন
তিন তক্তার এ নৌকা খানি
ও মনরে গাঙে গাঙে চুয়ায় পানি
আমি কি করে সেঁচিবো নৌকার পানিরে
তুই সে আমার মন
মন তোরে পারলাম না ‘বুঝাইতে রে
তুই সে আমার মন
আসি রাইতে ভবের মাঝারে
ও মনরে স্বপ্ন দেইখা রাইলি ভুলে
আমার এই স্বপন কি মিথ্যা হইতে পারে রে
তুই সে আমার মন
মন তোরে পারলাম না বুঝাইতে রে
তুই সে আমার মন
Mon tore parlam na bujhaite :
Shona Diya Bandhachi Ghor
O Mon Re Ghune Korlo Joro Jor
Ami Ki Kore Bash Koribo Ei Ghore Re
Tui She Amar Mon
Mon Tore Parlam Na Bujhaite Re
Tui She Amar Mon
Tin Toktar Ei Nouka Khani
O Monre Gange Gange Chuyay Pani
Ami Ki Kore Sechibo Noukar Panire
Tui She Amar Mon
Mon Tore Parlam Na Bujhaite Re
Tui She Amar Mon
Ashi Raite Vober Majhare
O Mon Re Shopno Deikha Roili Vule
Amar Ei Shopon Ki Mittha Hoite Pare Re
Tui She Amar Mon
Mon Tore Parlam Na Bujhaite Re
Tui She Amar Mon
গানের মূল ভাব
চরণ ও স্তবক বিশ্লেষণ
১. সোনার ঘর ও ঘুণপোকার বিনাশ
- “সোনা দিয়া বান্ধাইয়াছি ঘর / ও মন রে ঘুণে করলো জড়ো জড় / আমি কি করে বাস করিব এই ঘরে রে…”এখানে ‘ঘর’ হলো মানবদেহের প্রতীক। পরম যত্নে লালিত এই শরীরকে ‘সোনার ঘর’ বলা হলেও পাপ, মোহ ও বার্ধক্যের রূপক ‘ঘুণপোকা’ একে ভেতর থেকে অন্তঃসারশূন্য করে ফেলে। ক্ষয়িষ্ণু এই দেহে আত্মিক শান্তি নিয়ে বসবাস করা যে অসম্ভব, সাধক সেই আর্তনাদ ব্যক্ত করেছেন।
২. তিন তক্তার নৌকা ও নদী পারাপার
- “তিন তক্তার এ নৌকা খানি / ও মনরে গাঙে গাঙে চুয়ায় পানি / আমি কি করে সেঁচিবো নৌকার পানিরে…”লোকদর্শনে ‘তিন তক্তা’ বলতে জীবনের তিন কাল (শৈশব, যৌবন ও বার্ধক্য) অথবা শরীরের ত্রি-নাড়ী (ইড়া, পিঙ্গলা, সুষুম্না) কিংবা ত্রি-গুণকে (সত্ত্ব, রজ, তম) নির্দেশ করে। এই দুর্বল তরণী বেয়ে যখন ভবসমুদ্র পার হতে হয়, তখন চারিদিক দিয়ে ইন্দ্রিয়সুখের পানি ভেতরে ঢুকতে থাকে। সেই পানি সেঁচে নৌকা ডুবন্ত দশা থেকে রক্ষা করা একাকী মানবের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।
৩. ভবের স্বপন ও মায়াজাল
- “আসি রাইতে ভবের মাঝারে / ও মনরে স্বপ্ন দেইখা রাইলি ভুলে / আমার এই স্বপন কি মিথ্যা হইতে পারে রে…”সংসারকে এক রাত্রির স্বপ্নের সাথে তুলনা করা হয়েছে। মানুষ এই মায়াময় পৃথিবীতে এসে স্বপ্নকেই চিরন্তন সত্য ভেবে বসে থাকে। কিন্তু প্রভাতে যখন চোখ খোলে, অর্থাৎ মৃত্যুর ডাক আসে, তখন সব স্বপ্ন কর্পূরের মতো উবে যায়। মায়ার মোহভঙ্গ ঘটানোর জন্যই মনের প্রতি এই সতর্কবার্তা।
সাহিত্যিক ও দেহতত্ত্বের বৈশিষ্ট্য
- ঐতিহ্যবাহী লোকজ রূপক (Metaphor): ঘর, ঘুণপোকা, নদী ও তিন তক্তার নৌকার মতো চিরচেনা উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে জটিল আধ্যাত্মিক তত্ত্বকে অত্যন্ত সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- আত্মকথনমূলক শৈলী: নিজের মনের সাথে কথোপকথন (Monologue) বাউল গানের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। মনকে শাসন করা ও একই সাথে তার কাছে অসহায়ত্ব প্রকাশের মাধ্যমে এক অদ্ভুত মানবিক আর্তি তৈরি হয়েছে।
- সরল ভাষার গভীরতা: কোনো পণ্ডিতি ভাষা ব্যবহার না করে গ্রামীণ মুখের ভাষায় জীবনদর্শনের সবচেয়ে কঠিন সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
সংগীততাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও গায়কীর স্বকীয়তা
- মুজিব পরদেশীর অনন্য কণ্ঠশৈলী: মুজিব পরদেশীর কণ্ঠে এক ধরণের সহজাত হাহাকার ও অনুনাসিক টান রয়েছে, যা শ্রোতার হৃদয়ে সরাসরি আঘাত করে। তাঁর গায়কীর স্নিগ্ধ অথচ ব্যথিত মেজাজ গানটির দেহতাত্ত্বিক ভাবকে তীব্রতর করে।
- লোকজ সুরের আবহ: দোতারা, বাঁশির করুণ সুর এবং তবলার প্রবহমান চালে গানটি পরিবেশিত হয়। সুরের ধীর ও উদাসী গতি শ্রোতাকে এক নিস্তব্ধ আত্মমগ্নতার জগতে নিয়ে যায়।
শিল্পী পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক প্রভাব
- মুজিব পরদেশী (মুজিবুর রহমান মোল্লা): করাচিতে জন্ম নেওয়া ও পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকানো এই শিল্পী শাস্ত্রীয় সংগীতে ওস্তাদ গোলাম হায়দার আলী খান ও ওস্তাদ ফজলুল হকের মতো গুণীজনদের কাছে তালিম নেন। প্রখ্যাত বংশীবাদক ও লোকসংগীতের কিংবদন্তি আবদুল আলীমের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে থেকে তিনি লোকগীতিতে নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শব্দসৈনিক ছিলেন।
- সাংস্কৃতিক তাৎপর্য: আশির দশকে যখন বাংলাদেশে ক্যাসেট সংস্কৃতির জোয়ার আসে, তখন মুজিব পরদেশীর “মন তোরে পারলাম না বুঝাইতে”, “আমি বন্দী কারাগারে”, “আমারে কান্দাইলি রে বন্ধু”-র মতো গানগুলো গণমানুষের হৃদস্পন্দনে পরিণত হয়। আধুনিক যুগেও বিভিন্ন রিয়্যালিটি শো ও সমসাময়িক শিল্পীদের কভারের মাধ্যমে গানটি তার আদি আবেদন নিয়ে টিকে রয়েছে।
উৎস ও তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ লোকসংগীত সংগ্রহমালা, লোকসংস্কৃতি গবেষণা সেল।
- মুজিব পরদেশীর অফিসিয়াল অডিও অ্যালবাম আর্কাইভ (আশির দশকের ক্যাসেট রিলিজ)।
- বাংলা বাউল ও দেহতত্ত্বের ইতিহাস, ফোকলোর বিভাগ।
সব ধরনের প্রচলিত ও অপ্রচলিত বাংলা গানের কথা সংগ্রহ করে সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য প্রকাশে কাজ করছে ‘লিরিক ডেস্ক’। আপনার কাঙ্ক্ষিত গানটি আমাদের ওয়েবসাইটে না পেলে জানান; আমরা তা সংগ্রহ করে দ্রুত আপলোড করে দেব।







![মন তোরে পারলাম না বুঝাইতে [ Mon tore parlam na bujhaite ] | মুজিব পরদেশী 1 মুজিব পরদেশী](https://bn.musicgoln.com/wp-content/uploads/2023/02/মুজিব-পরদেশী.png)





