মহান শিল্পী বশির আহমেদ: ৬০ বছরের সংগীতযাত্রা!

বশির আহমেদ, একজন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী, যিনি বাংলা সংগীতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছেন। ১৯৩৯ সালের ১৯ নভেম্বর কলকাতার খিদিরপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সংগীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা শৈশব থেকেই ছিল। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি সুরের পেছনে ছুটে যান এবং বোম্বেতে সংগীতজগতের নামকরা ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে সংগীত শিক্ষা গ্রহণ করেন।

১৯৫৬ সালে বাংলাদেশের গীতা দত্তের সঙ্গে বোম্বে চলচ্চিত্রে গান গেয়ে তিনি সংগীত জগতে পদার্পণ করেন। এরপর তিনি ঢাকা ফিরে এসে গজল পরিবেশন করেন এবং তাতে সবাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করেন। তার কণ্ঠের বিশেষত্ব ছিল যে, তা শ্রোতাদের হৃদয়ে এক গভীর ছাপ রেখে যেত।

১৯৬০-এর দশকে তিনি ঢাকায় এসে সঙ্গীতজগতে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন। ‘তালাশ’ চলচ্চিত্রের গান গেয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এছাড়া, ১৯৬৯ সালে ‘ময়নামতি’ চলচ্চিত্রের জন্য গাওয়া ‘ডেকো না আমারে তুমি কাছে ডেকো না’ এবং ‘অনেক সাধের ময়না আমার বাঁধন কেটে যায়’ গানের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করেন।

বশির আহমেদ শুধু একজন প্লেব্যাক গায়কই ছিলেন না, তিনি গীতিকার, সুরকার এবং সংগীত পরিচালকও ছিলেন। তাঁর অসংখ্য গান এখনো মানুষের কাছে প্রিয়। ‘যা রে যাবি যদি যা, পিঞ্জর খুলে দিয়েছি’ গানটি তার অমর গানের একটি উদাহরণ। তাঁর গানের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম, প্রেম, দুঃখ, এবং মানুষের অন্তরের অনুভূতি।

তিনি এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করতেন এবং সংগীতের সাধনায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। বশির আহমেদ বাঙালি সংগীত সংস্কৃতির একজন অমূল্য রত্ন, যিনি আজীবন সঙ্গীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা দিয়ে আমাদের কাছে অমর হয়ে আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পাশাপাশি, তিনি উর্দু সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন এবং সংগীতশিক্ষা নিয়ে তাঁর জীবন শুরু করেন। তাঁর স্ত্রী মীনা বশিরও একজন বিশিষ্ট গায়িকা ছিলেন, এবং তারা একসাথে বহু জনপ্রিয় দ্বৈত গান গেয়েছেন।

বশির আহমেদ জীবদ্দশায় একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যার মধ্যে ২০০৫ সালে একুশে পদক অন্যতম। ২০১৪ সালে তিনি প্রয়াত হন, কিন্তু তাঁর গান, কণ্ঠ এবং সংগীতশিল্পের প্রতি নিবেদন আজও আমাদের স্মৃতিতে জীবিত।

তথ্যবিবরণ
জন্ম তারিখ১৯৩৯ সালের ১৯ নভেম্বর
জন্মস্থানকলকাতা, খিদিরপুর
পিতানাসির আহমেদ
মাতামোমেনা খাতুন
প্রধান শিষ্যওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খান
বিবাহিতমিনা বশির
পুরস্কারএকুশে পদক (২০০৫)