অনুষ্কা শংকর । ভারতীয় সেতার বাদক এবং সুরকার

অনুষ্কা শংকর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একজন খ্যাতনামা সেতার বাদক সুরকার। তিনি কিংবদন্তি ভারতীয় সেতারশিল্পী পণ্ডিত রবি শংকর এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী সুকন্যা রাজন-এর কন্যা। অনুষ্কা তার পিতার সংগীত-ঐতিহ্য বহন করেই থেমে থাকেননি—তিনি নিজস্ব একটি পথ তৈরি করেছেন বিশ্বসংগীত ও ফিউশন ধারায়, যা তাঁকে এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি।

 

অনুষ্কা শংকর

 

প্রাথমিক জীবন

  • জন্ম: জুন ১৯৮১, লন্ডন, যুক্তরাজ্য
  • পিতার বয়স তখন ছিল ৬১ বছর
  • শৈশব কেটেছে: লন্ডন নয়াদিল্লি

অনুষ্কার সংগীত জীবনের সূচনা হয় মাত্র বছর বয়সে, যখন তিনি তার বাবার কাছে সরাসরি সেতারের শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন। তার প্রথম জনসমক্ষে পরিবেশনা ঘটে তেরো বছর বয়সে, তবলায় ছিলেন বিখ্যাত জাকির হুসেন। ওই অনুষ্ঠান থেকেই তাঁর পেশাদার সংগীতজীবনের সূচনা হয়।

তাঁর পিতার পক্ষ থেকে তিনি আমেরিকান গায়িকা নোরা জোন্স (মূল নাম: গীতালি নোরাহ শংকর)-এর সৎবোন এবং প্রয়াত সংগীতশিল্পী শুভেন্দ্র শুভ শংকর-এরও বোন।

 

শিক্ষা

অনুষ্কা শংকর কৈশোরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এনকিনিটাস অঞ্চলে বসবাস করেন। তিনি পড়াশোনা করেন সান দিয়েগুইটো হাই স্কুল একাডেমি-তে।

  • স্নাতক হন ১৯৯৯ সালে, সম্মানসহ
  • এরপর সংগীতকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে
  • শৈশব থেকেই তার জীবন ছিল ত্রিকেন্দ্রিক—ভারত, যুক্তরাজ্য আমেরিকার সংস্কৃতির সংমিশ্রণ

 

অনুষ্কা শংকর

 

পেশাগত জীবন ও সঙ্গীতজগতে প্রবেশ

অনুষ্কা শংকরের রেকর্ডিং স্টুডিওর অভিজ্ঞতা শুরু হয় খুব অল্প বয়সে, যখন তার বাবার জন্মদিন উপলক্ষে Angel Records প্রকাশ করে ‘In Celebration’ নামে চারটি ডিস্কের একটি বক্স সেট। এর মধ্য দিয়ে স্টুডিওর কাজে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ঘটে।

  • ১৪ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে নিয়মিত বিশ্বজুড়ে কনসার্টে অংশ নিতে শুরু করেন।
  • ১৫ বছর বয়সে জর্জ হ্যারিসনের প্রযোজনায় তৈরি পণ্ডিত রবি শংকরের অ্যালবাম “Chants of India”-তে সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এখানে তিনি স্বরলিপি তৈরি থেকে রেকর্ড পরিচালনার কাজও করেছেন।
  • এর অভিজ্ঞতা দেখে Angel/EMI তাকে নিজস্ব চুক্তিতে সাইন করায় মাত্র ১৬ বছর বয়সে

 

অনুষ্কা শংকর

 

অ্যালবাম প্রকাশ ও সংগীতধারা

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অ্যালবামসমূহ:
  • Anoushka (1998) – প্রথম অ্যালবাম
  • Anourag (2000) – দ্বিতীয় অ্যালবাম
  • Live at Carnegie Hall (2001) – তৃতীয় অ্যালবাম, গ্র্যামি মনোনয়নপ্রাপ্ত
  • Rise (2005) – প্রথম নন-ক্লাসিকাল ও স্বউৎপাদিত ফিউশনধর্মী অ্যালবাম
ফিউশন ও বিশ্বসঙ্গীত:
  • Traveller (2011) – ফ্ল্যামেঙ্কো ও ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীতের সংমিশ্রণ
  • Traces of You (2013) – বোন নোরা জোন্সের সাথে কোলাবরেশন
  • Land of Gold (2016) – শরণার্থী সংকট ও বিশ্বমানবতার উপর ভিত্তি করে
  • Love Letters (2020) – নারীর অভিজ্ঞতা, বিচ্ছেদ, শক্তি ও পুনর্জন্ম

 

অনুষ্কা শংকর

 

গ্র্যামি ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা

অনুষ্কা শংকর এখন পর্যন্ত বার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত হয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  1. Live at Carnegie Hall (2003) – প্রথম মনোনয়ন (সেতারে)
  2. Rise (2005) – বেস্ট কনটেম্পরারি ওয়ার্ল্ড মিউজিক ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন
  3. Traveller (2012) – তৃতীয় মনোনয়ন
  4. Traces of You (2014) – চতুর্থ মনোনয়ন
  5. Love Letters (2021) – ষষ্ঠ মনোনয়ন

🔸 তিনি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড মঞ্চে পারফর্ম করা প্রথম ভারতীয় নারী শিল্পী

 

বিশ্বজুড়ে প্রভাব ও বৈশ্বিক স্বীকৃতি

  • প্রতি বছর গড়ে ৫০-৬০টি আন্তর্জাতিক কনসার্ট করেছেন তিনি।
  • ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে পশ্চিমা বিশ্বে এক নতুন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
  • ভারত, ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য সহ বহু দেশে স্টেজ পারফর্মেন্স, ওয়ার্ল্ড ট্যুর কোলাবরেটিভ প্রজেক্ট করেছেন।

 

পেশাগত জীবন ও সঙ্গীতজগতে প্রবেশ

অনুষ্কা শংকরের রেকর্ডিং স্টুডিওর অভিজ্ঞতা শুরু হয় খুব অল্প বয়সে, যখন তার বাবার জন্মদিন উপলক্ষে Angel Records প্রকাশ করে ‘In Celebration’ নামে চারটি ডিস্কের একটি বক্স সেট। এর মধ্য দিয়ে স্টুডিওর কাজে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ঘটে।

  • ১৪ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে নিয়মিত বিশ্বজুড়ে কনসার্টে অংশ নিতে শুরু করেন।
  • ১৫ বছর বয়সে জর্জ হ্যারিসনের প্রযোজনায় তৈরি পণ্ডিত রবি শংকরের অ্যালবাম “Chants of India”-তে সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এখানে তিনি স্বরলিপি তৈরি থেকে রেকর্ড পরিচালনার কাজও করেছেন।
  • এর অভিজ্ঞতা দেখে Angel/EMI তাকে নিজস্ব চুক্তিতে সাইন করায় মাত্র ১৬ বছর বয়সে

 

অ্যালবাম প্রকাশ ও সংগীতধারা

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অ্যালবামসমূহ:
  • Anoushka (1998) – প্রথম অ্যালবাম
  • Anourag (2000) – দ্বিতীয় অ্যালবাম
  • Live at Carnegie Hall (2001) – তৃতীয় অ্যালবাম, গ্র্যামি মনোনয়নপ্রাপ্ত
  • Rise (2005) – প্রথম নন-ক্লাসিকাল ও স্বউৎপাদিত ফিউশনধর্মী অ্যালবাম
ফিউশন ও বিশ্বসঙ্গীত:
  • Traveller (2011) – ফ্ল্যামেঙ্কো ও ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীতের সংমিশ্রণ
  • Traces of You (2013) – বোন নোরা জোন্সের সাথে কোলাবরেশন
  • Land of Gold (2016) – শরণার্থী সংকট ও বিশ্বমানবতার উপর ভিত্তি করে
  • Love Letters (2020) – নারীর অভিজ্ঞতা, বিচ্ছেদ, শক্তি ও পুনর্জন্ম

 

গ্র্যামি ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা

অনুষ্কা শংকর এখন পর্যন্ত বার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত হয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  1. Live at Carnegie Hall (2003) – প্রথম মনোনয়ন (সেতারে)
  2. Rise (2005) – বেস্ট কনটেম্পরারি ওয়ার্ল্ড মিউজিক ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন
  3. Traveller (2012) – তৃতীয় মনোনয়ন
  4. Traces of You (2014) – চতুর্থ মনোনয়ন
  5. Love Letters (2021) – ষষ্ঠ মনোনয়ন

🔸 তিনি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড মঞ্চে পারফর্ম করা প্রথম ভারতীয় নারী শিল্পী

 

বিশ্বজুড়ে প্রভাব ও বৈশ্বিক স্বীকৃতি

  • প্রতি বছর গড়ে ৫০-৬০টি আন্তর্জাতিক কনসার্ট করেছেন তিনি।
  • ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে পশ্চিমা বিশ্বে এক নতুন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
  • ভারত, ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য সহ বহু দেশে স্টেজ পারফর্মেন্স, ওয়ার্ল্ড ট্যুর কোলাবরেটিভ প্রজেক্ট করেছেন।

 

সমাজচেতনা ও মানবাধিকার কার্যক্রম

অনুষ্কা শংকর কেবল একজন সেতারশিল্পী নন—তিনি একাধারে একজন মানবাধিকার কর্মী, নারী-অধিকার চেতনায় বিশ্বাসী এবং সামাজিক সচেতনতার প্রচারক

  • ২০১৩ সালে তিনি নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে পুরো দুনিয়াকে নাড়িয়ে দেন।
  • ওই বছরই তিনি One Billion Rising আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন, যা বিশ্বব্যাপী নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল।
  • তার অ্যালবাম “Love Letters” মূলত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ, নারী-মনস্তত্ত্ব এবং নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক সাহসী প্রকাশ। এ অ্যালবামটি ব্যক্তিগত হলেও সামাজিক বার্তা সমৃদ্ধ।
  • শরণার্থী সংকট, অভিবাসী সমস্যা, এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো বিষয়ও তাঁর গানের উপজীব্য হয়েছে, বিশেষ করে “Land of Gold” (2016) অ্যালবামে, যেখানে তাঁর সন্তানসম পলায়নপর শিশুদের জন্য গভীর সহানুভূতি ফুটে ওঠে।

 

পুরস্কার ও স্বীকৃতি

অনুষ্কা শংকরের প্রাপ্ত সম্মাননাগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই কেবল সংগীত প্রতিভার জন্য নয়, বরং তাঁর সামাজিক অবস্থান, সাহসী কণ্ঠ এবং বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতার জন্য।

🎖️ গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা:
  • ১৯৯৮: ব্রিটিশ হাউস অফ কমন্স শিল্ড (সবচেয়ে কম বয়সে এই সম্মান প্রাপ্ত, প্রথম ভারতীয় নারী)
  • ২০০০: রামকৃষ্ণ মিশনে সেতার পরিবেশনকারী প্রথম নারী
  • ২০০৩: ইন্ডিয়ান টেলিভিশন একাডেমি, আসামি ও ইন্ডিয়া টাইমস কর্তৃক ‘বর্ষসেরা চারজন মহিলা’র একজন
  • ২০০৩: “Live at Carnegie Hall” অ্যালবামের জন্য প্রথম গ্র্যামি মনোনয়ন
  • ২০০৪: টাইম ম্যাগাজিন এশিয়া সংস্করণে “20 Asian Heroes” তালিকায় স্থান
  • ২০০৫: “Rise” অ্যালবামের জন্য দ্বিতীয় গ্র্যামি মনোনয়ন
  • ২০১২: Songlines Music Award – Traveller অ্যালবামের জন্য
  • ২০১৩-২০১৬: পরপর গ্র্যামি মনোনয়ন—Traveller, Traces of You, Land of Gold
  • ২০২0: “Love Letters” অ্যালবামের জন্য গ্র্যামি মনোনয়ন

 

ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট

অনুষ্কা শংকরের পারিবারিক জীবন যেমন জটিল, তেমনি সৃজনশীলতার আধার।

  • বাবা: পণ্ডিত রবি শংকর, সেতারের কিংবদন্তি
  • মা: সুকন্যা রাজন
  • সৎবোন: নোরা জোন্স – বিশ্বখ্যাত জ্যাজ ও পপ গায়িকা
  • স্বামী (প্রাক্তন): ব্রিটিশ চলচ্চিত্র পরিচালক জো রাইট (Pride and Prejudice, Atonement খ্যাত), বিবাহ: ২০১০, বিচ্ছেদ: ২০১২
  • সন্তান: দুটি পুত্রসন্তান নিয়ে তিনি বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করেন
  • স্নেহময়ী মা হয়েও তিনি তাঁর বিশ্ব সংগীত সফর, রেকর্ডিং, অ্যাক্টিভিজম সব একসাথে ব্যালেন্স করে চলেছেন

 

গ্রহাণু 292728 Anoushankar

অনুষ্কার সম্মানে নামকরণ করা হয়েছে এক গ্রহাণুর—292728 Anoushankar

  • এটি আবিষ্কার করেন ইতালীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী সিলভানো ক্যাসুলি
  • আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ সংস্থা Minor Planet Center এই নাম সরকারিভাবে প্রকাশ করে ১২ জানুয়ারি ২০১৭ সালে
  • এই সম্মান শুধুমাত্র বিজ্ঞান ও শিল্পের ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিতে দেওয়া হয়

 

YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 অনুষ্কা শংকর । ভারতীয় সেতার বাদক এবং সুরকার

 

অনুষ্কা শংকর কেবল পণ্ডিত রবি শংকরের কন্যা নন—তিনি নিজেই এক পরিপূর্ণ পরিচয়। তাঁর সংগীতের মধ্যে যেমন রয়েছে পূর্বের রাগরূপ, তেমনি রয়েছে বিশ্বের কন্ঠস্বর। তিনি সেতারের প্রতিটি তারে শুধু সুর নয়, তুলে ধরেন নারী, মানবতা, প্রতিবাদ প্রেমের বার্তা

সাধারণত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পীদের পরিচয় সীমাবদ্ধ থাকে কিছু রাগ-রাগিনী, ঐতিহ্য আর শ্রোতার গণ্ডিতে। কিন্তু অনুষ্কা সেই সীমা অতিক্রম করে গিয়েছেন বহু দূর।
তিনি সেতারকে ব্যবহার করেছেন একটি প্রতিবাদী ভাষা হিসেবে—যেখানে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, নারীজীবনের ভাঙাগড়া, রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা এবং শরণার্থীদের কান্নাও জায়গা পেয়েছে।

তাঁর অ্যালবামগুলো যেন ডায়েরির মতো—প্রতিটি রচনায় মিশে আছে যন্ত্রণার ছায়া, স্মৃতির গন্ধ, প্রতিবাদের শব্দ ও আশার আলো। তিনি যখন “Love Letters” বা “Land of Gold” বাজান, তখন তা শুধুই সংগীত থাকে না—তা হয়ে ওঠে সময়ের দলিল।

আর এই যাত্রা তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন দুই সন্তানের জননী, সিঙ্গেল মাদার, কর্মশীল নারী এবং বিশ্বমানব হিসেবে—একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনের পরিচয় হয়ে।

Leave a Comment