অরিজিত সিংয়ের প্লেব্যাক অবসরের ঘোষণা

ভারতের সুপরিচিত সংগীতশিল্পী অরিজিত সিং হঠাৎ করেই সিনেমার প্লেব্যাক ক্যারিয়ার থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে সমালোচনা ও সমর্থনের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। কণ্ঠের মাধুর্য্য ও অনুভূতিময় সংগীতের জন্য ভক্তদের হৃদয় জয় করা এই শিল্পীর সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন জল্পনা এবং প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে।

তবে সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অরিজিত স্পষ্ট করেছেন যে, প্লেব্যাক কাজ থেকে অবসরের পরও গান এবং সঙ্গীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা অটুট থাকবে। পোস্টে তিনি ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যদি আপনি আমার শ্রোতা না হন, তাহলে আমার পোস্ট দেখার কোনো প্রয়োজন নেই। আমার শ্রোতা-অনুরাগীদের আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই—আমি তোমাদের অসম্ভব ভালোবাসি। এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে তোমাদের ভালোবাসা পেয়ে আমি আপ্লুত।”

অরিজিতের পোস্টে তুলে ধরা হয়েছে অবসরের প্রধান বিষয়গুলো নিম্নরূপ:

বিষয়বিস্তারিত
অবসরের বিষয়সিনেমার প্লেব্যাক ক্যারিয়ার থেকে অবসর নেওয়া
স্টুডিও কাজইতিমধ্যে হাতে থাকা প্রোজেক্ট শেষ করবেন; নতুন প্রোজেক্ট গ্রহণ বন্ধ
ভক্তদের বার্তা“আমি তোমাদের অসম্ভব ভালোবাসি, তোমাদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ”
সামাজিক কর্মকাণ্ডনিজের শহর জিয়াগঞ্জে সমাজসেবা ও সংগীত শিক্ষার কাজে মনোনিবেশ
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাপ্লেব্যাক কাজ শেষ করে স্বাধীন মিউজিক প্রোজেক্টে মনোনিবেশ

অরিজিত জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর হাতে থাকা প্লেব্যাক প্রোজেক্ট শেষ করতে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই সময়ে তিনি ভক্তদের অনুরোধ করেছেন, অহেতুক কটাক্ষ বা বিতর্কে নিজেকে যুক্ত না হওয়ার।

সামাজিক মাধ্যমেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই বিপুল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এক নেটিজেন লিখেছেন, “আপনার গান ছাড়া দিন শুরু হয় না।” অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, “একটু বিরতি নিন, কিন্তু পুরোপুরি ছেড়ে যাবেন না।”

বর্তমানে অরিজিত নিজের শহর জিয়াগঞ্জে সময় দিতে বেশি আগ্রহী। সেখানে তিনি সমাজসেবা, সংগীত শিক্ষা ও স্থানীয় শিল্পীদের উন্নয়নে মনোনিবেশ করবেন। প্লেব্যাক কাজ শেষ হওয়ার পর তিনি স্বাধীনভাবে নতুন সঙ্গীত প্রোজেক্ট শুরু করার পরিকল্পনা করছেন।

সংক্ষেপে, অরিজিত সিংয়ের এই অবসর শুধুমাত্র সিনেমার প্লেব্যাক গানকে কেন্দ্র করে—তার সঙ্গীত যাত্রা শেষ হয়নি। তিনি নতুন ধারা ও সৃজনশীল প্রোজেক্টে মনোনিবেশ করতে প্রস্তুত, এবং ভক্তদের সমর্থনই তাঁর সঙ্গীতের মূল শক্তি।

অরিজিতের এই সিদ্ধান্ত পুরো সংগীত জগতে এবং ভক্ত মহলে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে, যেখানে সবাই কৌতূহল ও উচ্ছ্বাসের মিশ্রণ অনুভব করছে।