অরিজিৎ সিং-এর পর শ্রেয়া ঘোষালও প্লেব্যাক থেকে বিরতি নিচ্ছেন

বছরের শুরুতেই জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং-এর প্লেব্যাক অবসরের ঘোষণা দেশে-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এবার সেই পথ অনুসরণের ইঙ্গিত দিলেন দেশের এক সর্বজনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল। তিনি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন যে, তিনি বর্তমানে ক্লান্ত বোধ করছেন এবং ভবিষ্যতে গান থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার বিষয়ে ভাবছেন।

শ্রেয়া বলেন, “বর্তমান সময়ের গানের জগতে যে পরিবর্তনগুলো আসছে, সবসময় তা অনুসরণ করে চলা আনন্দের নয়। বিশেষ করে লাইভ কনসার্টে লিপ-সিঙ্ক বা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে গান পরিবেশন আমার পছন্দ নয়। যেদিন আমাকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে লিপ-সিঙ্ক করতে হবে, সেদিন আমি গান গাওয়া বন্ধ করে দেব।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অরিজিতের প্লেব্যাক বিরতির বিষয়টি লক্ষ্য করে মাঝে মাঝে তারও বিরতি নেওয়ার ইচ্ছা জন্মে। শ্রেয়া জানান, সংগীত তার জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, কখনও কখনও মানসিক ও শারীরিক বিশ্রামের প্রয়োজন অনুভব করেন।

এর আগে অরিজিত সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে জানিয়ে দেন যে, তিনি প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে নতুন কোনো কাজ নেবেন না। তিনি লিখেছিলেন, “সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। গত কয়েক বছর ধরে শ্রোতাদের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে এখন থেকে প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আমি নতুন কোনো কাজ গ্রহণ করব না। এই সংগীত যাত্রা অত্যন্ত চমৎকার ছিল।”

শ্রেয়া ঘোষালের ঘোষণার সঙ্গে অরিজিতের পদক্ষেপ তুলনা করলে দেখা যায়, আধুনিক প্লেব্যাক জগতে মানসিক চাপ, লাইভ পারফরম্যান্সে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং সৃজনশীল স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা অনেক শিল্পীকে বিরতির পথে ঠেলে দিচ্ছে।

নিম্নে দুই শিল্পীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:

শিল্পীর নামঅবসরের ঘোষণাকারণসোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
অরিজিৎ সিংহ্যাঁশ্রোতার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও নতুন কাজের সীমাবদ্ধতাহ্যাঁ
শ্রেয়া ঘোষালনা (ইঙ্গিত)মানসিক ক্লান্তি, লিপ-সিঙ্কের অনীহানা

শ্রেয়া ঘোষালের পক্ষ থেকে যেভাবে তিনি তার ব্যক্তিগত মানসিক ও সৃজনশীল সীমারেখা প্রকাশ করেছেন, তা অনেক কণ্ঠশিল্পীর জন্য প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, প্লেব্যাক শিল্পীদের জন্য মানসিক স্বস্তি এবং সৃজনশীল স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ভবিষ্যতের সংগীত দৃশ্যে নতুন মান নির্ধারণ করতে পারে।

বর্তমানে শ্রেয়া ঘোষাল কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা না দিলেও, গানের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং লিপ-সিঙ্ক বিষয়ক প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করছে যে, শিল্পী জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। এতে কেবল শ্রোতার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে না, বরং দেশের সংগীত জগতে শিল্পীদের কাজের মান ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

শ্রেয়া ঘোষালের এই ধরণের পদক্ষেপ প্লেব্যাক শিল্পীদের মানসিক ও সৃজনশীল স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং এটি গানের জগতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।