বলিউড এবং পাকিস্তানি বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ আলি জাফর। গায়ক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ‘তেরে বিন লাদেন’, ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহন’ কিংবা ‘ডিয়ার জিন্দেগি’র মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন। তবে অভিনয়ের চেয়েও বর্তমানে তিনি বেশি আলোচনায় রয়েছেন তার করা বিভিন্ন বিতর্কিত এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কারণে। সম্প্রতি ইয়ামি গৌতমসহ বেশ কয়েকজন অভিনেত্রীর সঙ্গে তার করা অসদাচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
Table of Contents
ইয়ামি গৌতমকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য
আলি জাফরের আপত্তিকর আচরণের শিকার হওয়া অভিনেত্রীদের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ইয়ামি গৌতমের নাম। একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে ইয়ামি তার স্বপ্নের চরিত্র সম্পর্কে কথা বলছিলেন। তিনি জানান, বড় পর্দায় তিনি একজন ‘যোদ্ধা রাজকুমারী’র (Warrior Princess) চরিত্রে অভিনয় করার স্বপ্ন দেখেন।
ইয়মির এই আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানানোর বদলে আলি জাফর অত্যন্ত অশালীনভাবে তাকে বিদ্রূপ করেন। তিনি ইয়ামিকে খোঁচা দিয়ে বলেন— “যোদ্ধা রাজকুমারীদের কিন্তু পা দেখা যায়।” এই অপ্রত্যাশিত এবং লিঙ্গবাদী মন্তব্যে ইয়ামি দৃশ্যত অস্বস্তিতে পড়ে যান। তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও নেটিজেনরা আলি জাফরের এই মানসিকতাকে ‘নারীবিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
‘ধর্ষণ’ নিয়ে কুরুচিপূর্ণ রসিকতা
আলি জাফরের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দেয় মুম্বাইয়ের এক সাক্ষাৎকারে তার করা একটি মন্তব্য। নিজের সাবেক প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্কের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি ‘ধর্ষণ’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি বলেছিলেন, সেই সম্পর্কে থাকাকালীন তার নিজেকে ‘ধর্ষিত’ মনে হতো। যখন সাংবাদিক তাকে সংশোধন করার সুযোগ দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি কি আসলে ‘নিরাপত্তাহীনতা’ বা ‘অস্বস্তি’ বোঝাতে চেয়েছেন কি না, তখন আলি জাফর হেসে উত্তর দেন— “না না! আমার বেশ ভালোই লাগত।”
একজন পাবলিক ফিগার হয়েও ধর্ষণের মতো একটি সংবেদনশীল এবং ভয়াবহ অপরাধকে হাস্যরসে পরিণত করায় সর্বস্তরে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। সাংবাদিক সরাসরি তার এই শব্দচয়ন প্রত্যাখ্যান করলেও আলির মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি।
আলি জাফরের ক্যারিয়ার ও উল্লেখযোগ্য বিতর্ক
নিচে আলি জাফরের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ | বর্তমান অবস্থা |
| মিটু (#MeToo) অভিযোগ | ২০১৮ সালে গায়িকা মিশা শাফি তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। | আদালত মিশা শাফির বিরুদ্ধে মানহানির রায় দেয়। |
| ইয়ামি গৌতম ইস্যু | অভিনেত্রীর পোশাক ও শরীর নিয়ে অশালীন মন্তব্য। | ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচিত। |
| ধর্ষণ নিয়ে মন্তব্য | ধর্ষণের মতো অপরাধকে নিয়ে জনসমক্ষে রসিকতা। | নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার শিকার। |
| শ্রদ্ধা ও পরিণীতি | বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে এই দুই অভিনেত্রীকেও অস্বস্তিতে ফেলার অভিযোগ। | ভক্তদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। |
অন্যান্য অভিনেত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ
কেবল ইয়ামি গৌতম নন, বলিউড অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর এবং পরিণীতি চোপড়াও বিভিন্ন সময়ে আলি জাফরের বিব্রতকর আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন। প্রোমোশনাল ইভেন্ট বা সংবাদ সম্মেলনে রসিকতার নামে তিনি প্রায়ই সহ-অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত সীমানা লঙ্ঘন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে নারী নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে সম্মানজনক পরিবেশ নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বাড়ছে, তখন আলি জাফরের মতো প্রভাবশালীদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বিনোদন জগতের অন্ধকার দিকটিই ফুটিয়ে তোলে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র সমালোচকরাও মনে করছেন, শৈল্পিক প্রতিভার আড়ালে এমন কুরুচিপূর্ণ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে ‘ধর্ষণ’ বা ‘নারীর পোশাক’ নিয়ে করা তার এই মন্তব্যগুলো সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন বলে অনেকে মনে করছেন।
