স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তৌসিফ আহমেদ অবশেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন। গত শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবে গভীর এক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন এই শিল্পী। কারণ, অসুস্থতার খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে নেতিবাচক মন্তব্য, কটূক্তি ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ। সাইবার বুলিংয়ের এমন অভিজ্ঞতায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তৌসিফ।
শনিবার সকালে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে তৌসিফ আহমেদ বলেন, ফেসবুকে নিজের অসুস্থতার খবর জানানোর পর থেকেই একটি শ্রেণির ব্যবহারকারী অমানবিক ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করতে শুরু করেন। কেউ কেউ তাঁর অসুস্থতা নিয়ে বিদ্রূপ করেছেন, আবার কেউ পরিবারকে জড়িয়ে মিথ্যা গল্প ছড়িয়েছেন। এসব মন্তব্য তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার বর্ণনায় তৌসিফ জানান, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুরের নিজ বাসায় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান তিনি। দীর্ঘ সময় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকার ফলে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং তাঁকে ২৭টি সেলাই দিতে হয়। পরে স্ত্রী ও সন্তান তাঁকে ওই অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। কয়েক দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি বাসায় ফেরেন।
ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তৌসিফ লেখেন, ‘আমার স্ট্রোকের খবরে কয়েকজন ব্যক্তি অমানবিক ও নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। যদিও এসব মন্তব্য আমাকে ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা দুর্বল করতে পারে না, তবে সাইবার বুলিং, মানহানি ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করার কথা ভাবছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে দেখছি, আমাদের সমাজে সহনশীলতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কারও অসুস্থতার খবরে সহানুভূতির বদলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হচ্ছে। এমনকি আমার পরিবারকে নিয়েও মিথ্যা কথা ছড়ানো হয়েছে, যা আমি গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখি। যাঁরা আমাকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, তাঁরা জানেন আমি কেমন মানুষ। দয়া করে আমার পরিবারকে ছোট করবেন না।’
ভক্তদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় তৌসিফ বলেন, বড় শিল্পী না হলেও তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—দেড় যুগ আগে প্রকাশিত তাঁর গানগুলো আজও মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছে। একজন শিল্পীর জন্য এটিই সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি সবাইকে গুজব থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।
দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তৌসিফ আহমেদ। বর্তমানে কিছুটা সুস্থ থাকলেও সামনে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি। সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই শিল্পী।
তৌসিফ আহমেদের স্বাস্থ্যগত ইতিহাস (সংক্ষেপে)
| বছর/তারিখ | শারীরিক সমস্যা | অবস্থা |
|---|---|---|
| এপ্রিল ২০২২ | প্রথম হার্ট অ্যাটাক | চিকিৎসা ও বিশ্রাম |
| অক্টোবর ২০২৪ | দ্বিতীয় হার্ট অ্যাটাক | দীর্ঘমেয়াদি বিশ্রাম |
| ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | স্ট্রোক ও মাথায় আঘাত | হাসপাতালে ভর্তি, ২৭ সেলাই |
| জানুয়ারি ২০২৬ | বাসায় ফেরা | পর্যবেক্ষণে |
উল্লেখযোগ্য গান ও কাজ
| অ্যালবাম/গান | প্রকাশকাল |
|---|---|
| অভিপ্রায় (একক অ্যালবাম) | ২০০৭ |
| দূরে কোথাও আছি বসে | — |
| বৃষ্টি ঝরে যায় | — |
| এ মনের আঙিনায় | — |
| জান পাখি | — |
গায়ক হিসেবে পরিচিত হলেও গান লেখা, সুর করা ও সংগীতায়োজন—সব ক্ষেত্রেই সমান দক্ষ তৌসিফ আহমেদ। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও তিনি যে মানসিক শক্তি ও আত্মসম্মান বজায় রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, সেটিই আজ তাঁর গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।
