জানিয়া মনেট: বাস্তবে নেই, তবুও বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এক এআই গায়িকা
সঙ্গীত জগতে এমন ঘটনা খুবই বিরল যেখানে কোনো শিল্পী বাস্তবে উপস্থিত না থাকলেও তার জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। জানিয়া মনেট ঠিক এমনই এক এআই–নির্মিত গায়িকা, যিনি গান না গেয়েও বিশ্বের শ্রোতাদের মন জয় করছেন। তার গান মিলিয়ন মিলিয়ন স্ট্রিম পাচ্ছে, বিলবোর্ড চার্টে স্থান পেয়েছে, এবং পুরো প্রজেক্টের বাজার মূল্য ৩ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
প্রকল্পটির মূল লেখক তেলিশা জোনস, যিনি মিসিসিপি-জন্মের একজন শিল্পী। তিনি নিজের লেখা লিরিক্স Suno নামের এআই–সঙ্গীত জেনারেটরে ব্যবহার করে জানিয়া মনেটের গান তৈরি করেন। গানগুলোতে গসপেল এবং আরঅ্যান্ডবি প্রভাব স্পষ্ট, এবং এআই কণ্ঠের মানবিক আবেগের পরিপূর্ণতা শ্রোতাদের বিশ্বাস করাতে বাধ্য করে যে এটি একটি বাস্তব কণ্ঠ।
স্ট্রিমিং জগতে জানিয়া মনেটের উপস্থিতি সত্যিই অভাবনীয়। কয়েক কোটি স্ট্রিম ছাড়িয়েছে এবং তিনি Adult R&B Airplay ও R&B Songs চার্টেও জায়গা করে নিয়েছেন—যা এআই–নির্ভর কণ্ঠের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যালবাম, ইপি এবং ধারাবাহিক সিঙ্গেল প্রকাশের মাধ্যমে অ্যালগরিদমের সাহায্যে তার জনপ্রিয়তা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
এই জনপ্রিয়তার ফলে জানিয়া মনেটের টিম ৩ মিলিয়ন ডলারের শিল্প চুক্তি করেছে। তবে এর সঙ্গে বিতর্কও শুরু হয়েছে। অনেক শিল্পী অভিযোগ করেছেন, এআই কণ্ঠ মানব শিল্পীদের শ্রম, সময় ও সৃজনশীলতাকে চ্যালেঞ্জ করছে। অন্যদিকে প্রজেক্ট টিম জানিয়েছে, জানিয়া কোনো মানুষের জায়গা নিতে তৈরি হয়নি; বরং এটি ভবিষ্যতের সৃজনশীল কর্মপদ্ধতির অংশ।
আইনি বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন—এআই তৈরি কণ্ঠের মালিকানা কার হবে, স্টাইল নকলের অভিযোগ কীভাবে দেখা যাবে, এবং মানব শিল্পীরা ক্ষতিপূরণ পাবেন কীভাবে। এ ধরনের প্রশ্নের এখনও স্পষ্ট উত্তর নেই, যা শিল্প জগতের জন্য নতুন আইনি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: দর্শকদের মধ্যে এআই–ভিত্তিক শিল্পীদের প্রতি তীব্র আগ্রহ রয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং সৃজনশীলতার মিশ্রণ এক নতুন সঙ্গীত ভবিষ্যতের পথ খুলে দিয়েছে, যেখানে মানব ও এআই শিল্পীর সংমিশ্রণ নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে।
