অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি ‘অঞ্জনা’ খ্যাত মিল্টন খন্দকার

বাংলা গানের জগতে ‘অঞ্জনা’ এক তুমুল জনপ্রিয় ও চিরচেনা চরিত্র। এই কাল্পনিক চরিত্রটিকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনির খান গেয়েছেন অর্ধশতাধিক গান, যা দশকের পর দশক ধরে কোটি শ্রোতার হৃদয়ে দোলা দিয়ে আসছে। বাংলা সঙ্গীতপ্রেমীদের মনের মণিকোঠায় অঞ্জনাকে স্থায়ী রূপ দেওয়া সেই নেপথ্য কারিগর তথা প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার মিল্টন খন্দকার এখন গুরুতর অসুস্থ। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে আজ সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জানা গেছে, এই গুণী শিল্পী দীর্ঘদিন ধরেই কাঁধ, কোমর এবং মেরুদণ্ডের তীব্র ব্যথায় ভুগছিলেন। ইদানীং শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতে হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি এই গুণী সঙ্গীতব্যক্তিত্ব নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তার ভক্ত, অনুসারী ও সহকর্মীদের নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতালের বিছানা থেকে মিল্টন খন্দকার জানান, বর্তমানে তিনি দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ইয়াকুব আলীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে খুব দ্রুতই তার শরীরে একটি জরুরি অস্ত্রোপচার (অপারেশন) করা হবে। নিজের সুস্থতার জন্য দেশবাসী ও অনুরাগীদের কাছে দোয়া চেয়ে এই কিংবদন্তি বলেন, “আমি আমার প্রিয়জন, সহকর্মী ও শ্রোতাদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি। সবাই আমার জন্য একটু আন্তরিকভাবে দোয়া করবেন, যেন সফল অস্ত্রোপচার শেষে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার প্রিয় চেনা ভুবনে ফিরে আসতে পারি।”

চার দশকের সঙ্গীত সফর ও কালজয়ী সৃষ্টিসমূহ

মিল্টন খন্দকার কেবল একজন সাধারণ গীতিকার বা সুরকার নন, তিনি বাংলা আধুনিক ও চলচ্চিত্র সঙ্গীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি একটানা নিরলস সঙ্গীত সাধনা করে যাচ্ছেন। তার ক্ষুরধার লেখনী আর অনবদ্য সুরের মূর্ছনায় সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের আধুনিক গানের ভাণ্ডার। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তার অসংখ্য সৃষ্টি আপামর মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

কণ্ঠশিল্পী মনির খানের কণ্ঠে ‘অঞ্জনা’ সিরিজের কালজয়ী গানগুলো ছাড়াও তার ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য কালজয়ী ও শ্রোতাপ্রিয় গান। তার লেখা ও সুরে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া কিছু উল্লেখযোগ্য গানের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

  • ‘আকাশেতে লক্ষ তারা, চাঁদ কিন্তু একটারে’

  • ‘রংচটা জিন্সের প্যান্ট পরা’

  • ‘পাথরে ফুল ফোটাব’

  • ‘তোমরা কাউকে বোলো না’

  • ‘আমি যে তোমার কে’

বাংলাদেশি সঙ্গীতজগতে অনন্য ও অতুলনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেছেন দেশের চলচ্চিত্র জগতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’। শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে এই গৌরব অর্জন করেছিলেন তিনি। মিল্টন খন্দকার কেবল স্টুডিওর গানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, চলচ্চিত্রের গানেও তিনি সমান দাপট দেখিয়েছেন।

তার এই আকস্মিক অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তির খবরে দেশের সঙ্গীত অঙ্গনে এবং তার লাখো ভক্তের মাঝে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার ও সাধারণ মানুষ অনেকেই তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে আবেগঘন বার্তা দিচ্ছেন। সবাই এখন সাগ্রহে ও পরম প্রার্থনায় অপেক্ষা করছেন তার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার এবং সুস্থ হয়ে আবার গানের চেনা ভুবনে ফিরে আসার খবরের জন্য।