“আগুন লাগাইয়া দিলো কনে” গানটির লিখেছিলেন রাজা/কবি হাসন রাজা (ছদ্মনাম) । তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন মরমী কবি এবং বাউল শিল্পী। তার প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রাজা।
আগুন লাগাইয়া দিলো কনে [ Agun lagiya dilo kone ]
গীতিকারঃ হাসন রাজা
আগুন লাগাইয়া দিলো কনে [ Agun lagiya dilo kone ]
আগুন লাগাইয়া দিলো কনে, কনে
আগুন লাগাইয়া দিলো কনে
আগুন লাগাইয়া দিলো কনে
হাসন রাজার মনে
আগুন লাগাইয়া দিলো কনে
নিভে না দারুন আগুন
নিভে না দারুন আগুন
জ্বলে দিলো জানে
আগুন লাগাইয়া দিলো কনে
হাসন রাজার মনে
আগুন লাগাইয়া দিলো কনে
ধক-ধক করি উঠলো আগুন
ধইলো আমার প্রাণে
ধক-ধক করি উঠলো আগুন
ধইলো আমার প্রাণে
সুরমা নদীর জল দিলে
সুরমা নদীর জল দিলে
নিভে না সে কেনে
আগুন লাগাইয়া দিলো কনে
হাসন রাজার মনে
আগুন লাগাইয়া দিলো কনে
দেওয়ান হাসন রাজা:
আগুন লাগাইয়া দিলো কনে গীতিকার হাছন রাজার জন্ম ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর (৭ পৌষ ১২৬১) সেকালের সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী সুরমা নদীর তীরে লক্ষণছিরি পরগণার তেঘরিয়া গ্রামে। হাছন রাজা জমিদার পরিবারের সন্তান। তার পিতা দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরী ছিলেন প্রতাপশালী জমিদার। হাসন রাজা তার তৃতীয় পুত্র। আলী রাজা তার খালাতো ভাই আমির বখ্শ চৌধুরীর নিঃসন্তান বিধবা হুরমত জাহান বিবিকে পরিণত বয়সে বিয়ে করেন। হুরমত বিবির গর্ভেই হাছন রাজার জন্ম। হাছনের পিতা দেওয়ান আলী রাজা তার অপূর্ব সুন্দর বৈমাত্রেয় ভাই দেওয়ান ওবেদুর রাজার পরামর্শ মত তারই নামের আকারে তার নামকরণ করেন অহিদুর রাজা।
রাজার পূর্বপুরুষেরা হিন্দু ছিলেন। তাদেরই একজন বীরেন্দ্রচন্দ্র সিংহদেব মতান্তরে বাবু রায় চৌধুরী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন । রাজার পুর্বপুরুষের অধিবাস ছিল অয্যোধ্যায়। সিলেটে আসার আগে তারা দক্ষিণবঙ্গের যশোর জেলার কাগদি নামক গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। ষোড়শ শতাব্দীর শেষে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানার কোণাউরা গ্রামে তার পূর্ব পুরুষ বিজয় সিংহ বসতি শুরু করেন, পরে কোন একসময় বিজয় সিংহ কোণাউরা গ্রাম ত্যাগ করে একই এলাকায় নতুন আরেকটি গ্রামের গোড়াপত্তন করেন এবং তার বংশের আদি পুরুষ রামচন্দ্র সিংহদেবের নামের প্রথমাংশ “রাম” যোগ করে নামকরণ করেন রামপাশা।হাছন রাজা পাখি ভালোবাসতেন। ‘কুড়া’ ছিল তার প্রিয় পাখি । এই ভাবে হাছন রাজার মোট ৭৭টি ঘোড়ার নাম মিলে মোটকথা, শৌখিনতার পিছনেই তার সময়কাটতে লাগলো।
![আগুন লাগাইয়া দিলো কনে [ Agun lagiya dilo kone ] 1 YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 আগুন লাগাইয়া দিলো কনে [ Agun lagiya dilo kone ]](https://bn.musicgoln.com/wp-content/uploads/1965/12/YaifwwriN4BzRFCyqbslL4-300x225.png)
তার চিন্তাভাবনার পরিচয় পাওয়া যায় গানে। তিনি কত গান রচনা করেছেন তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। ‘হাছন উদাস’ গ্রন্থে তার ২০৬ টি গান সংকলিত হয়েছে। এর বাইরে আর কিছু গান ‘হাছন রাজার তিনপুরুষ’ এবং ‘আল ইসলাহ্’ সহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। শোনা যায়, হাছন রাজার উত্তরপুরুষের কাছে তার গানের পান্ডুলিপি আছে। অনুমান করা চলে, তার অনেক গান এখনো সিলেট-সুনামগঞ্জের লোকের মুখে মুখে আছে, কালের নিয়মে বেশ কিছু গান বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পদ্যছন্দে রচিত হাছনের অপর গ্রন্থ ‘শৌখিন বাহার’-এর আলোচ্য বিষয়-‘স্ত্রীলোক, ঘোড়া ও কুড়া পাখির আকৃতি দেখে প্রকৃতি বিচার (লোকসাহিত্য পত্রিকা, জুলাই-ডিসেম্বর ১৯৭৯। সৈয়দ মুর্তাজা আলী, ‘মরমী কবি হাসন রাজা’)। ‘হাছন বাহার’ নামে তার আর একটি গ্রন্থ কিছুকাল পূর্বে আবিস্কৃত হয়েছে। হাছন রাজার আর কিছু হিন্দী গানেরও সন্ধান পাওয়া যায়।
রাজার তার গানের ভাষাভঙ্গি ভাষাতাত্ত্বিকদের পর্যালোচনার আকর্ষনীয় উপকরণ হতে পারে।হাছন রাজার কোনো কোনো গানে স্থান কাল পাত্রের পরিচয় চিহ্নিত আছে। লক্ষণছিরি ও রামপাশা-তার জন্মগ্রাম ও জমিদারী এলাকার উল্লেখ বারবার এসেছে।রাজার জীবনের উপর ভিত্তিকৃত প্রথম চলচ্চিত্র ‘হাসন রাজা’ ২০০২ সালে মুক্তি পায়।সিলেটে তখন আরবী-ফার্সির চর্চা খুব প্রবল ছিল। সিলেটে ডেপুটি কমিশনার অফিসের নাজির আবদুল্লা বলে এক বিখ্যাত ফার্সি ভাষাভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ মতে তার নামকরণ করা হয়- হাসন রাজা। বহু দলিল দস্তাবেজে হাসন রাজা আরবি অক্ষরে নাম দস্তখত করেছেন- হাসান-রাজা।
তিনি ডিসেম্বর ৬, ১৯২২ সালে মৃত্যুবরণ করেন ।