বাংলাদেশের সংগীত জগতে নতুন এক আলোচিত নাম ফিঙ্গারস্টাইল গিটারিস্ট, সংগীত পরিচালক এবং গায়ক আন্টু দাস।
রংপুরের পাকপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা এই প্রতিভাবান সংগীতশিল্পী, যিনি বিখ্যাত ফটোjournalist রঞ্জিত দাসের ছোট ছেলে, কঠোর পরিশ্রম, ভালোবাসা এবং অবিচল নিষ্ঠার মাধ্যমে তার সংগীত ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন, এমনটাই জানানো হয়েছে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
শৈশবেই আন্টু ছিলেন শান্ত ও অন্তর্মুখী, তবে সংগীতের প্রতি তার আগ্রহ ছিল অল্প বয়সে। অন্যরা যখন খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতো, আন্টু তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংগীত শুনে সময় কাটাতেন, সুরে ডুবে থাকতেন।
২০০৭ সালে আন্টুর সংগীতযাত্রা শুরু হয়, তবে এটি সহজ ছিল না। তার চারপাশের অনেকেই তার সংগীতের পথকে অবাস্তব মনে করেছিলেন এবং বলেছিলেন, “সংগীতে কোন ভবিষ্যত নেই।” কিন্তু আন্টু হাল ছাড়েননি। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, প্রতিভা ও নিষ্ঠার সমন্বয়ে কিছুই অসম্ভব নয়। এক সময় তিনি দিনে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অনুশীলন করতেন, কখনো খাবারও খেতেন না, শুধুমাত্র তার কাজের প্রতি বিশ্বাসের শক্তিতে।
২০১৭ সালে ঢাকা শহরের পেশাদার সংগীত পরিবেশে পা রাখেন আন্টু। শুরুতে ধীরে ধীরে কাজ শুরু করলেও শীঘ্রই দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের গানগুলোতে তার অনন্য গিটার সুরের উপস্থিতি পাওয়া যেতে থাকে। তার খ্যাতি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে তার কাজের পরিসরও বিস্তৃত হয়।
শাকিব খান অভিনীত “বরবাদ” সিনেমার গান “চাঁদ মা” তে তার গিটার বাজনা ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। এছাড়া তিনি ওয়েবফিল্ম নেটওয়ার্কের “নেটওয়ার্ক-er বাইরে বন্ধু”-এও কাজ করেন। বছরের পর বছর তিনি শতাধিক ট্র্যাকের সংগীতায়োজনে কাজ করেছেন এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে যৌথভাবে সংগীত সৃষ্টি করেছেন।
২০২০ সালে আন্টুর ফোক ফিউশন গান “আমি তোমায় ভালোবাসি, জগতে হইয়াছি দোষী” ভাইরাল হয়ে যায়, এবং তাকে কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা এনে দেয়। ২০২৫ সালে তার মূল গান “মণ্ডো হটনা” চোরকি ওয়েবফিল্ম “ঘুমপোরি”-তে প্রকাশিত হলে তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে।
আন্টু দাস রুনা লায়লা, ফাহমিদা নাবী, এবং পশ্চিমবঙ্গের নাচিকেতার মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে রেকর্ড করেছেন। তার দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার মধ্যে রয়েছেন জয় শাহরিয়ার, প্রীতম হাসান, পাঠিক হাসান, মিনার রহমান এবং ব্যান্ড ‘আবাশ’।
আজকাল তিনি দেশের অন্যতম আইকনিক সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিচ্ছেন, যা তার উত্থানের সফলতার আরেকটি প্রমাণ।
এখন থেকেই ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, কারণ আন্টু শীঘ্রই তার প্রথম একক অ্যালবাম “শূন্যস্থান” প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। তার অনন্য স্টাইল এবং সংগীতের প্রতি গভীর সংযোগের জন্য প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই অ্যালবামটি তার ক্যারিয়ারে আরেকটি বড় মাইলফলক হবে।
রংপুরের এক শান্ত ছেলে থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে আলোচিত তরুণ সংগীতশিল্পী হয়ে ওঠা আন্টু দাস, এখন একটি নাম যা আরও বেশি শোনা যাবে।
