বাংলা গানের পরিচিত সুর ও বৈশ্বিক সংগীতধারার সংমিশ্রণে নতুন এক সংগীত প্রয়াস নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইনা খান ও আকাশ মাহমুদ। তাদের নতুন গান ‘ডালিম ঠোঁট’ প্রকাশের পর থেকেই সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি করেছে। বাংলা ভাষার গানের সঙ্গে আফ্রো বিটের প্রাণবন্ত ছন্দের মেলবন্ধন ঘটিয়ে নির্মিত এই গানটি প্রকাশিত হয়েছে আকাশ ড্রিম মিউজিক ইউটিউব চ্যানেলে।
গানটির কথা লিখেছেন ইনা খান। সুর ও সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন আকাশ মাহমুদ। কেবল কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই নয়, মিউজিক ভিডিওতেও মডেল হিসেবে অংশ নিয়েছেন এই দুই শিল্পী। ভিডিওটির কোরিওগ্রাফি করেছেন গৌবর গোগো এবং নির্মাণ করেছেন আশিক মাহমুদ। আধুনিক দৃশ্যায়ন, প্রাণবন্ত নৃত্য, রঙের ব্যবহার এবং সমসাময়িক পোশাক পরিকল্পনার মাধ্যমে ভিডিওটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
নতুন গানটি নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ইনা খান বলেন, বিদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠার পরও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তার টান কখনো কমেনি। সেই ভালোবাসা থেকেই তিনি বাংলা গানের সঙ্গে আফ্রো বিটের ছন্দ মিলিয়ে নতুন ধরনের একটি কাজ করার পরিকল্পনা করেন। তিনি জানান, পুরো প্রকল্পজুড়ে তার দুই ভাই আশিক মাহমুদ ও আকাশ মাহমুদের প্রতি পূর্ণ আস্থা ছিল। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই গানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগ শ্রোতারা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে পুরো টিমের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
আকাশ মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতারা তার কাছে ভিন্নধর্মী ও নতুন স্বাদের গানের প্রত্যাশা জানিয়ে আসছিলেন। সেই প্রত্যাশা থেকেই তিনি আফ্রো বিট ঘরানায় কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষায়, ‘ডালিম ঠোঁট’ কেবল একটি গান নয়, বরং তিন ভাইবোনের সম্মিলিত সৃজনশীল প্রচেষ্টার ফল। পরিচিত সংগীতধারার বাইরে গিয়ে নতুন ছন্দ ও উপস্থাপনা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল আনন্দের। তিনি বিশ্বাস করেন, গানটির সংগীতায়োজন ও পরিবেশনা শ্রোতাদের জন্য নতুন এক অনুভূতির জন্ম দেবে।
নির্মাতা আশিক মাহমুদ জানান, ‘ডালিম ঠোঁট’ দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তব রূপ। বাংলা গানের জগতে আফ্রো বিটভিত্তিক মৌলিক কাজ এখনও তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। সেই জায়গা থেকেই ভিন্ন কিছু উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা এই আয়োজন করেছেন। পরিকল্পনা, শুটিং, সম্পাদনা এবং প্রকাশ—প্রতিটি ধাপেই পুরো দল আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান সময়ে বিশ্বসংগীতের বিভিন্ন ধারা স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে নতুন ধরনের গান তৈরির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। লাতিন, পপ, ইলেকট্রনিক, আরঅ্যান্ডবি কিংবা আফ্রো বিট—বিভিন্ন ঘরানার প্রভাব এখন বাংলা গানেও ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ শ্রোতাদের কাছে নতুন ছন্দ ও আধুনিক সংগীতায়োজনের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় শিল্পীরাও নতুন নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উৎসাহী হচ্ছেন। এই পরিবর্তনের ধারায় বাংলা গানের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে আন্তর্জাতিক সংগীতধারার উপাদান যুক্ত করার প্রবণতা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
সেই প্রেক্ষাপটে ‘ডালিম ঠোঁট’কে বাংলা গানের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলা ভাষার গীতিকবিতার আবেগের সঙ্গে আফ্রো বিটের প্রাণচঞ্চল ছন্দ মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে ভিন্নধর্মী সংগীত অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এটি বাংলা গানের বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করার একটি প্রয়াস বলেও মনে করছেন তারা।
শিল্পী ও নির্মাতাদের প্রত্যাশা, নতুন সুর, আধুনিক সংগীতায়োজন, প্রাণবন্ত দৃশ্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক সংগীতধারার সংমিশ্রণে নির্মিত ‘ডালিম ঠোঁট’ শ্রোতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাবে। তাদের বিশ্বাস, এই গান শুধু নতুন একটি প্রকাশনা হিসেবেই নয়, বাংলা গানের পরিবর্তনশীল ধারার একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবেও আলোচনায় থাকবে।
