“আমার থাকতে পরান আরকি দেখা হবে” গানটি লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান এবং সুর করেছেন খন্দকার নুরুল আলম , তিনি একজন স্বনামধন্য বাংলাদেশীসঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার।
আমার থাকতে পরান আরকি দেখা হবে [ Amar Thakte Poran Arki Dekha hobe ]
গীতিকারঃ মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান
সুরকারঃ খন্দকার নুরুল আলম
প্রথম রেকর্ডের কন্ঠশিল্পীঃ কিরণ চন্দ্র রায়
Table of Contents
আমার থাকতে পরান আরকি দেখা হবে [ Amar Thakte Poran Arki Dekha hobe ]
আমার থাকতে পরান
আর কি দেখা
হবে রে তার সনে
সে রূপ কি আর
দেখবো না নয়নে।।
স্রোতে ভাসা শেওলা যেমন
কপাল দোষে হলাম তেমন রে ।।
আমার সুখের বসত
ভাঙলো কী কারণে।
সে রূপ কি আর
দেখবো না নয়নে।।
আমার থাকতে পরান
আর কি দেখা
হবে রে তার সনে !
ছিল আমার সাধের কুঞ্জবন
কপোত কপোতী হয়ে খেলিতাম দুজন ।।
সবই পুড়ে হলো রে ছাই
সেই সুখের আর আশা তো নাই রে ।।
এখন মরন যেন হয় রে তার চরণে।
মরন যেন হয় রে তার চরণে।
আমার থাকতে পরান
আর কি দেখা
হবে রে তার সনে !
সে রূপ কি আর
দেখবো না নয়নে।।
মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানঃ
মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান বাংলাদেশের একজন গীতিকবি ও লেখক। তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনী-চিত্রনাট্য-সংলাপ রচয়িতা। তিনি ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে এবং ২০০৮ সালে শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।
১৯৪৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান ঝিনাইদহ জেলার লক্ষ্নীপুরের ফুরসুন্দিতে মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি যশোর জেলার সদর উপজেলার খড়কীতে। তার বাবার নাম শাহাদাত আলী এবং মায়ের নাম সাজেদা খাতুন। ১৯৬৫ সাল থেকে বাংলাদেশে বেতারে নিয়মিত গীতিকার হিসেবে কাজ করছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। ইতিমধ্যে তার প্রকাশিত গানের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। ১৯৭৩ সাল থেকে তিনি নিয়মিত ভাবে চলচ্চিত্রের জন্য গান লিখছেন ।
খন্দকার নুরুল আলমঃ
খন্দকার নুরুল আলম একজন স্বনামধন্য বাংলাদেশী সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার। তিনি কণ্ঠশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রবেশ করলেও জনপ্রিয়তা লাভ করেন সঙ্গীত পরিচালনায়। দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে পরিচালনা করেছেন ছয়শতাধিক গান। খন্দকার নুরুল আলম ১৯৩৯ সালের ১৭ আগস্ট ভারতের আসামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা নেসারউদ্দিন খন্দকার ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও মা ফাতেমা খাতুন।পড়াকালীন তার সুর ও সঙ্গীতে আগ্রহ জন্মে এবং তার সঙ্গীত প্রতিভার কথা ছড়িয়ে পড়ে।চলচ্চিত্রের গান ছাড়াও নুরুল আলম আধুনিক গান, ফোক গান, দেশের গান, ও বিখ্যাত কিছু কবিতায় সুরারোপ করেছেন। এছাড়া তিনি জাতীয় ক্রীড়া সঙ্গীত, স্কাউট মার্চ সঙ্গীত, আনসার-ভিডিপি দলের সঙ্গীত, রোটারি ক্লাবের বাংলা ও ইংরেজি উভয় গানের সুর করেন।
তিনি ২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারি পরলোক গমন করেন।
কিরণ চন্দ্র রায়ঃ
আমার থাকতে পরান আরকি দেখা হবে গানের গায়ক বাউল ও লোকগানের পরিচিত শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়।মানিকগঞ্জের ভাটিবয়রা গ্রামে কেটেছে তাঁর শৈশব।তাঁর পরিবারে সবসময়েই ছিল গানের প্রচলন।তাঁর স্ত্রী চন্দনা মজুমদারও লোক গানের পরিচিত শিল্পী। তিনি লালনের অনেক গান করলেও নিজেকে লালন শিল্পী নয়, বরং বাউল শিল্পী বলে মনে করেন।গানের জন্য মেয়াদের ৩ বছর আগেই শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়েছেন কিরণ চন্দ্র রায়।