আমার প্রাণ যায় প্রাণ বন্ধু বিহনে [ Amar Pran Jay Pranbondhu Bihone ]

বাংলা লোকসংগীতের অমূল্য ভাণ্ডারের এক গভীর আবেগময় সৃষ্টি “আমার প্রাণ যায় প্রাণ বন্ধু বিহনে”। গানটি রচনা ও সুর করেছেন বাংলা লোকসংগীতের পুরোধা কবি, বৈষ্ণব বাউল ও সাধক রাধারমণ দত্ত। প্রেম-বিরহ, আত্মদহন ও ভক্তিসাধনার মিশেলে গঠিত এই গানটি যুগ যুগ ধরে বাংলার লোকমানসে গভীরভাবে প্রোথিত। আধুনিক সময়ে এই গানটি নতুন প্রাণ পেয়েছে প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী চন্দনা মজুমদার-এর আবেগঘন পরিবেশনায়।

রাধারমণ দত্ত কেবল একজন লোককবি নন—তিনি ছিলেন একজন সাধক পুরুষ, বৈষ্ণব বাউল ধারার অন্যতম প্রধান পুরুষ, এবং ধামালি নৃত্যের প্রবর্তক। তাঁর রচিত গানগুলোতে মানবপ্রেম, আত্মিক আকুলতা ও দার্শনিক বোধ এক অনন্য রূপে প্রকাশ পেয়েছে। “আমার প্রাণ যায় প্রাণ বন্ধু বিহনে” গানটিও তার ব্যতিক্রম নয়—এটি প্রেমিক-হৃদয়ের গভীর হাহাকার ও আত্মসমর্পণের এক চিরন্তন দলিল।

গানের মৌলিক তথ্য

  • গানের নাম: আমার প্রাণ যায় প্রাণ বন্ধু বিহনে

  • ইংরেজি নাম: Amar Pran Jay Pranbondhu Bihone

  • গীতিকার: রাধারমণ দত্ত

  • সুরকার: রাধারমণ দত্ত

  • ধারা: বাংলা লোকসংগীত / বাউল / বৈষ্ণব পদাবলি

  • ভাব: প্রেম-বিরহ, আত্মিক আকুলতা

  • জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী (আধুনিক পরিবেশনা): চন্দনা মজুমদার

 

 

আমার প্রাণ যায় প্রাণ বন্ধু বিহনে – গানের কথা

আমার প্রাণ যায় প্রাণ বন্ধু বিহনে গো
প্রাণ বিন্দে আমার, প্রাণ যায় প্রাণ বন্ধু বিহনে

বন্ধু হারা জিতে মরা, হইয়াছি পাগলের ধারা গো
আমি পাগল না হই পাগলিনির মতো গো।
প্রাণ বিন্দে আমার, প্রাণ যায় প্রাণ বন্ধু বিহনে

একা ঘরে শুইয়া থাকি, শুইলে স্বপনে দেখি গো
আমি জাগিয়া না পাইলাম চিকন কালারে।
প্রাণ বিন্দে আমার, প্রাণ যায় প্রাণ বন্ধু বিহনে

ভাইবে রাধারমণ বলে, প্রেমানলে অঙ্গ জ্বলে গো
আমি পিরিত করে হইলাম জিতে মরা।
প্রাণ বিন্দে আমার, প্রাণ যায় প্রাণ বন্ধু বিহনে।

গানের ভাবার্থ ও তাৎপর্য

এই গানটি মূলত বিরহী প্রেমিকের অন্তর্লোকের আকুতি। এখানে ‘বন্ধু’ কেবল পার্থিব প্রেমিক নয়—সে ঈশ্বর, প্রিয়তমা কিংবা আত্মিক সত্তার প্রতীক। প্রেমের আগুনে দগ্ধ হয়ে কবি নিজেকে ‘জিতে মরা’ বলে অভিহিত করেছেন। রাধারমণের এই দার্শনিক প্রেমভাবনা বাংলার লোকসংগীতকে দিয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক মাত্রা।

 

ভিডিও দেখুনঃ

রাধারমণ দত্তঃ

জন্মসূত্রে রাধারমণ দত্ত, (১৮৩৪ – ১৯১৫) একজন বাংলা সাহিত্যিক, সাধক কবি, বৈঞ্চব বাউল, ধামালি নৃত্য-এর প্রবর্তক। সংগীতানুরাগীদের কাছে তিনি রাধারমণ বলেই সমাধিক পরিচিত। বাংলা লোকসংগীতের পুরোধা লোককবি রাধারমণ দত্ত। তার রচিত ধামাইল গান সিলেট ও ভারতের বাঙ্গালীদের কাছে পরম আদরের ধন। রাধা রমন নিজের মেধা ও দর্শনকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মনে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। কৃষ্ণ বিরহের আকূতি আর না-পাওয়ার ব্যথা কিংবা সব পেয়েও না-পাওয়ার কষ্ট তাকে সাধকে পরিণত করেছে। আমার বন্ধু দয়াময় গানটি তিনি রাধা রমণ দত্ত এর লেখায় গেয়েছেন ।

 

YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 আমার প্রাণ যায় প্রাণ বন্ধু বিহনে [ Amar Pran Jay Pranbondhu Bihone ]
আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

কবি রাধারমণের পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় উপাসনার প্রধান অবলম্বন সংগীতের সংগে তার পরিচয় ছিল শৈশব থেকেই। খ্যাতিমান লোককবি জয়দেবের গীতগৌবিন্দ এর বাংলা অনুবাদ করেছিলেন তার পিতা রাধামাধব দত্ত। পিতার সংগীত ও সাহিত্য সাধনা তাকেও প্রভাবিত করেছিল।১২৫০ বঙ্গাব্দে রাধারমণ পিতৃহারা হন এবং মা সুবর্ণা দেবীর কাছে বড় হতে থাকেন। ১২৭৫ বঙ্গাব্দে মৌলভীবাজারের আদপাশা গ্রামে শ্রী চৈতন্যদেবের অন্যতম পার্ষদ সেন শিবানন্দ বংশীয় নন্দকুমার সেন অধিকারীর কন্যা গুণময়ী দেবীকে বিয়ে করেন।

তিনি ১৯১৫ সালে বাংলাদেশে মৃতুবরণ করেন । 

 

 

Leave a Comment