আমি এখনও জ্ঞান অর্জনের পথে এগিয়ে চলছি

নব্বই দশকের প্রখ্যাত প্লে-ব্যাক শিল্পী খালিদ হাসান মিলু বাংলাদেশের সংগীতজগতে অবদান রেখে গেছেন এক অম্লান দৃষ্টান্ত। অল্প সময়ে তার দরাজ কণ্ঠ, স্বতন্ত্র গায়কী এবং অসাধারণ সুরশৈলী দর্শক হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছিল। ‘আড়াইশ’সহ বহু জনপ্রিয় সিনেমার গান গেয়ে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। আজ তার সঙ্গীত উত্তরাধিকার ধরে রেখেছেন কনিষ্ঠপুত্র প্রীতম হাসান, যিনি দেশীয় সংগীতের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন।

প্রীতমের বড় ভাই প্রতীক হাসানও একজন প্রতিভাবান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রশংসিত। ছোটবেলা থেকেই মিউজিকের সঙ্গে পরিচিত প্রীতম দেশি ও আন্তর্জাতিক সঙ্গীতের মিশ্রণে নিজস্ব সুর তৈরি করে দর্শককে মুগ্ধ করছেন। তার সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায় হিট গানের মধ্যে যেমন ‘লোকাল বাস’, ‘আসো মামা হে’, ‘জাদুকর’, ‘বেয়াইনসাব’ এবং ‘গার্লফ্রেন্ডের বিয়া’। এ গানগুলো তাকে কেবল কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নয়, বরং একজন উদীয়মান কম্পোজার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

কোক স্টুডিও প্রজেক্টে প্রীতমের স্বকীয় সুর ও কণ্ঠ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া নাটক ও ওয়েব ফিল্মে তার অভিনয়ও প্রশংসিত; তার উপস্থিতি প্রজেক্টগুলোর ভিজ্যুয়াল এবং সঙ্গীতের মানকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

২০২৪ ও ২০২৫ সাল প্রীতমের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই বছরে তিনি একের পর এক সুপারহিট সিনেমার গান উপহার দিয়েছেন। বিস্তারিতভাবে তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য তালিকাভুক্ত করা হলো:

বছরসিনেমাগানপ্রেক্ষাপটবিশেষত্ব
২০২৪তুফানউরাধুরাশাকিব খান ও মিমি চক্রবর্তীর পারফর্মেন্সসর্বোচ্চ ভিউরেকর্ড
২০২৫বরবাদচাঁদ মামাইউটিউব ট্রেন্ডিংদেশজুড়ে জনপ্রিয়তা
২০২৫বরবাদদ্বিধারোমান্টিক মেলোডিপ্রশংসিত সঙ্গীত
২০২৫তাণ্ডবলিচুর বাগানকোক স্টুডিও ধাঁচট্রেন্ডিং গান

প্রীতম মানবজমিনকে বলেছেন, “আমি মনে করি না যে আমি কোনো বিস্ময় সৃষ্টি করতে পেরেছি। অনেক পথ এখনও বাকি। এখনো শেখার মধ্য দিয়েই যাচ্ছি। তবে মিউজিকে নতুন ডাইমেনশন তৈরি করার চেষ্টা চলছেই।” তার মতে, মিউজিক শুধুই পেশা নয়, বরং নেশা; এবং সেই নেশা থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে নতুনত্বের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

২০২৬ সালে প্রীতম হাসান নতুন বছরের গান নিয়ে দর্শক ও শ্রোতাকে আরও বিস্ময় দেখাবেন। এখন যে কোনো বিয়ে, পার্টি বা ডান্স অনুষ্ঠানে তার গান অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। নতুন সুর ও ভিন্নধর্মী প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রীতম ধারাবাহিকভাবে নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে যাচ্ছেন, যা নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের মন জয় করতে সাহায্য করছে।