ঋষভের গুরু দাবি নাকচ আনুশকার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও ও রিলসের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া তরুণ সেতারবাদক ঋষভ রিখিরাম সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে নিয়মিত পরিবেশনা করে আলোচনায় এসেছেন। নিজের প্রতিটি অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করে আসছেন যে, তিনি কিংবদন্তি সেতারবাদক রবিশঙ্কর–এর ‘শেষ এবং সর্বকনিষ্ঠ শিষ্য’। তবে এ দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছেন রবিশঙ্করের একমাত্র কন্যা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সেতারবাদক আনুশকা শঙ্কর

সম্প্রতি ভারত সফরে এসে এক সাক্ষাৎকারে আনুশকা শঙ্কর বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, ঋষভ কখনোই তাঁর পিতার কাছে প্রাতিষ্ঠানিক বা নিয়মিত তালিম নেননি। বরং তিনি সেতার শিখেছেন রবিশঙ্করের ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় শিষ্য পরিমল সদাপালের কাছে। আনুশকার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিমলের কাছে শিক্ষালাভের সময় ঋষভ হয়তো রবিশঙ্করের কাছ থেকে কিছু ‘ধুন’ বা সুরের আঙ্গিক দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু সেটিকে শিষ্যত্বের দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।

রবিশঙ্কর ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতজ্ঞ, যিনি সেতারকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর সঙ্গে পাশ্চাত্যের শিল্পীদের সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিবেশনা ভারতীয় রাগসংগীতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বহন করছেন আনুশকা শঙ্কর নিজেও, যিনি একাধিক গ্র্যামি মনোনয়নপ্রাপ্ত শিল্পী এবং বিশ্বব্যাপী কনসার্টে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন।

ঋষভ রিখিরামের পারিবারিক পরিচয়ও সঙ্গীতজগতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর পিতা সঞ্জয় রিখিরাম শর্মা দিল্লিভিত্তিক বিখ্যাত বাদ্যযন্ত্র নির্মাতা পরিবারের সদস্য। শঙ্কর পরিবারের সঙ্গেও তাঁদের দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে। আনুশকা উল্লেখ করেন, ছোটবেলা থেকেই ঋষভ তাঁদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলে যাতায়াত করতেন এবং স্নেহের সম্পর্ক বজায় ছিল।

নিচে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও সম্পর্কের একটি সংক্ষিপ্ত সারণি দেওয়া হলো—

নামপরিচয়সম্পর্ক/ভূমিকা
রবিশঙ্করকিংবদন্তি সেতারবাদকঋষভের দাবি অনুযায়ী গুরু, তবে আনুশকার মতে সরাসরি শিক্ষক নন
আনুশকা শঙ্করআন্তর্জাতিক সেতারবাদকরবিশঙ্করের কন্যা; ঋষভের দাবি অস্বীকার করেছেন
ঋষভ রিখিরামতরুণ সেতারবাদকপরিমল সদাপালের শিষ্য
পরিমল সদাপালসেতারশিল্পীরবিশঙ্করের শিষ্য; ঋষভের শিক্ষক
সঞ্জয় রিখিরাম শর্মাবাদ্যযন্ত্র নির্মাতাঋষভের পিতা

ভারত সফরে দিল্লি, মুম্বাই ও কলকাতাসহ ছয়টি কনসার্টে অংশ নেন আনুশকা শঙ্কর। কলকাতার শেষ পরিবেশনাটি তিনি ‘স্বপ্নের মতো’ বলে অভিহিত করেন। ওই অনুষ্ঠানে অতিথি শিল্পী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং, যার অংশগ্রহণে কনসার্টে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়।

সার্বিকভাবে, এই বিতর্ক সেতারজগতের উত্তরাধিকার, শিষ্য-পরম্পরা ও শিল্পীসত্তার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। গুরু-শিষ্য সম্পর্ক ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের মূল ভিত্তি; ফলে এ ধরনের দাবি ও পাল্টা বক্তব্য শিল্পমহলে যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।