একেলা বসে বিরহ বাসে [ Ekela Bose Biroho Base ] | রমেশ শীল
একেলা বসে বিরহ বাসে গানটি লিখেছেন রমেশ শীল তাকে কবিয়াল রমেশ শীল বা রমেশ মাইজভান্ডারী নামেও ডাকা হয় । তিনি বাংলা কবিগানের অন্যতম রূপকার। কবিগানের লোকায়ত ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক সমাজ সচেতনতার সার্থক মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।
একেলা বসে বিরহ বাসে [ Ekela Bose Biroho Base ]
গীতিকারঃ রমেশ শীল
একেলা বসে বিরহ বাসে [ Ekela Bose Biroho Base ] | রমেশ শীল
একেলা বসে বিরহ বাসে
তোমারি আশে গাহিব গান
আমারি বেদনে ব্যথিত পাপিয়া
নিরালা বসিয়া ধরেছে তান
হৃদয় মন্দিরে আশারি বাতি
নিরালা জাগিলেম এ সুখরাতি
সোহাগ ভাণ্ডে মিলন মধু
বধুর সনে করিতে পান
বিরহ বারিদে চন্দ্রিমা ডাকে
আশাতে চাহিয়া কুমুদি থাকে
চিন্ন বারিদে কিরণ বিতরি
তবু কি তোষে না প্রেয়সীর প্রাণ
বিজন বসে ডাকিছে কোয়ালা
জ্যোৎস্না রাতে বাড়ালে জ্বালা
ভাণ্ডারে বসি বাজালে বাঁশী
উদাসি করিলে রমেশেরি প্রাণ ।
রমেশ শীলঃ
রমেশ ‘শীল কবিগানের লোকায়ত ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক সমাজ সচেতনতার সার্থক মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন মাইজভান্ডারী গানের কিংবদন্তি সাধক। জনপ্রিয় এই গণসঙ্গীত শিল্পী ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনে এবং সেই সাথে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন পরবর্তী নুরুল আমিন বিরোধী আন্দোলনে তিনি প্রত্যক্ষ ভাবে অংশ নেন।
তিনি ১৮৭৭ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের বোয়ালখালি থানার অন্তর্গত গোমদন্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম চন্ডীচরণ শীল। চন্ডীচরণ শীল ছিলেন পেশাতে নাপিত ও কবিরাজ।
প্রথম দিকে প্রথাগত কবিয়ালদের মত রমেশ’ শীল পুরাণ ও কিংবদন্তি নির্ভর গান বাধতেন। তখন তার গানের বিষয় ছিল নারী-পুরুষ, সত্য-মিথ্যা, গুরু-শিষ্য, সাধু-গেরস্থ ইত্যাদি কেন্দ্রিক। পরবর্তি কালে সমাজতান্ত্রিক আদর্শে অনুপ্রাণিত কবি প্রবলভাবে সমাজ সচেতন হয়ে ওঠেন। কবিগানের বিষয়বস্তুতে আসে আমুল পরিবর্তন। যুদ্ধ-শান্তি, চাষী-মযুদদার, মহাজন-খাতক, স্বৈরতন্ত্র-গনতন্ত্র, এসব হয়ে যায় কবিগানের উপজীব্য। তিনি মাইজভান্ডারী তরিকার আধ্যাত্মিক গানের অন্যতম রূপকার ছিলেন ।
![একেলা বসে বিরহ বাসে [ Ekela Bose Biroho Base ] | রমেশ শীল 1 YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 একেলা বসে বিরহ বাসে [ Ekela Bose Biroho Base ] | রমেশ শীল](https://bn.musicgoln.com/wp-content/uploads/1965/12/YaifwwriN4BzRFCyqbslL4-300x225.png)
কোনরকম পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই ১৮৯৭ সালে প্রথম মঞ্চে কবিগান পরিবেশন করেন এবং সমাদৃত হন। ১৮৯৯ সালে কবিগান পরিবেশনায় প্রতিদ্বন্দী তিনজন কবিয়ালকে পরাজিত করলে উদ্যোক্তা ও শ্রোতাকূলের কাছ থেকে মোট তের টাকা সন্মানী লাভ করেন, যা পেশা হিসাবে পরবর্তিকালে কবিগানকে বেছে নিতে রমেশ ‘শীলকে অনুপ্রানিত করে।
১৯৩৮ সালে বাংলা কবিগানের ইতিহাসে প্রথম সমিতি গঠিত হয় রমেশ’ শীলের উদ্যোগে। কবিয়ালদের এই সমিতির নাম রাখা হয় ‘রমেশ উদ্বোধন কবি সংঘ’। অশ্লীলতা মুক্ত কবিগান ছিল এ সমিতির অন্যতম লক্ষ্য। ১৯৪৪ সালে কবি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৪৮ সালে কলকাতার শ্রদ্ধানন্দ পার্কে কবিকে সম্বর্ধিত ও ‘বঙ্গের শ্রেষ্ঠতম কবিয়াল’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে জোরাল অবস্থান নিয়েছিলেন।
যে কারণে যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙ্গে দেওয়ার পরে অন্যান্য নেতা-কর্মীর সাথে রমেশ’ শীলকেও গ্রেফতার করা হয়। তার ‘ভোট রহস্য’ পুস্তিকাটি বাজেয়াপ্ত করে কেন্দ্রীয় সরকার। কবি দীর্ঘ্যদিন কারাভোগ করেন এসময়। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সামরিক সাসনের বিরধিতা করায় রমেশ’ শীলের সাহিত্য ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেষ জীবনে কবি নিদারুণ অর্থ কষ্টের সম্মুখিন হন। কবির প্রথম স্ত্রী ছিলেন অপূর্ববালা, এবং দ্বিতীয় স্ত্রী অবলাবালা। এ ঘরে কবির চার পুত্র ও এক কন্যা জন্মলাভ করে।
তিনি এপ্রিল ৬, ১৯৬৭ সালে সকলকে ছেড়ে মৃতুর দেশে চলে যান।