বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে টেলর সুইফটের নাম এক স্বতন্ত্র অধ্যায়। সেই অধ্যায়েরই আবেগঘন পরিসমাপ্তি টানতে ডিজনি+ এ মুক্তি পেয়েছে ছয় পর্বের ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘Taylor Swift: The End Of An Era’। গত শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, সিরিজটির প্রথম দুই পর্ব একযোগে স্ট্রিমিংয়ে আসে। বাকি চারটি পর্ব পর্যায়ক্রমে ১৯ ও ২৬ ডিসেম্বর—প্রতি সপ্তাহে দুইটি করে—মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
এই সিরিজে ধরা পড়েছে টেলর সুইফটের ইতিহাস গড়া ‘The Eras Tour’, যা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের মার্চে এবং শেষ হয় গত বছরের ডিসেম্বরে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে। মোট ১৪৯টি শো নিয়ে এই ট্যুর শুধু সংগীত সফর নয়, বরং এক বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে পরিণত হয়। টিকিট বিক্রি থেকেই আয় হয় দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি—যা এটিকে সর্বকালের অন্যতম সফল কনসার্ট ট্যুরে পরিণত করেছে।
টেলর সুইফট নিজেই এই সিরিজের আবেগী প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে বলেন,
“এটা ছিল সত্যিই একটি যুগের শেষ। আমরা জানতাম, আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তীব্র অধ্যায়টির সমাপ্তি ঘটছে। তাই আমরা প্রতিটি মুহূর্ত ধরে রাখতে চেয়েছি—শেষ শোটি সম্পূর্ণভাবে ধারণ করার সিদ্ধান্তও সেখান থেকেই।”
একই দিনে মুক্তি পেয়েছে আরেকটি কনসার্ট ফিল্ম—‘Taylor Swift: The Eras Tour – The Final Show’, যেখানে ভ্যাঙ্কুভারের শেষ শো থেকে ‘Tortured Poets Department’ সেটের পূর্ণ পরিবেশনা তুলে ধরা হয়েছে।
অতিথি শিল্পীদের উপস্থিতি: পর্দার আড়ালের গল্প
‘The Eras Tour’-এর মতো তারকাখচিত সফরে অতিথি শিল্পীদের উপস্থিতি প্রত্যাশিতই ছিল। ডকুমেন্টারিতে সেইসব মুহূর্তেরই অন্তরঙ্গ চিত্র উঠে এসেছে।
অতিথি শিল্পীদের তালিকা
| পর্ব | শিল্পীর নাম | উপস্থিতির ধরন | উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত |
|---|---|---|---|
| পর্ব ১ | এড শিরান | ব্যাকস্টেজ ও মঞ্চ | লন্ডনে চমকপ্রদ যৌথ পরিবেশনা, পুরোনো গান নিয়ে মেডলি |
| পর্ব ২ | ফ্লোরেন্স ওয়েলচ | রিহার্সাল ও সাক্ষাৎকার | ‘Florida!!’ গান, প্রথমবার স্টেজ লিফট ব্যবহার |
| আসন্ন পর্ব | গ্রেসি আব্রামস | প্রত্যাশিত | ট্যুরের বিশেষ মুহূর্ত |
| আসন্ন পর্ব | সাবরিনা কার্পেন্টার | প্রত্যাশিত | সহশিল্পী হিসেবে উপস্থিতি |
প্রথম পর্বে লন্ডনে এড শিরানের সঙ্গে টেলরের আবেগঘন পুনর্মিলন দেখানো হয়েছে। দু’জন মিলে ‘Everything Has Changed’, ‘End Game’ এবং ‘Thinking Out Loud’-এর অংশবিশেষ নিয়ে রিহার্সাল করেন। ভিয়েনায় টেলরের তিনটি শো বাতিল হওয়ার পেছনে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা এবং সেই মানসিক চাপ নিয়েও দু’জনের কথোপকথন উঠে এসেছে—যা সিরিজটিকে আরও মানবিক করে তুলেছে।
দ্বিতীয় পর্বে দেখা যায় ফ্লোরেন্স অ্যান্ড দ্য মেশিন-এর ফ্রন্টওম্যান ফ্লোরেন্স ওয়েলচকে। লন্ডনে ‘Florida!!’ গানের জন্য টেলরের সঙ্গে নাচের রিহার্সাল, মঞ্চের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং নিজের অনুভূতি নিয়ে তাঁর খোলামেলা বক্তব্য সিরিজে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।
আবেগের শীর্ষবিন্দু
ডকুমেন্টারির সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্তগুলোর একটি হলো, দক্ষিণপোর্টে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস ছুরিকাঘাতের ঘটনার প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে টেলর সুইফটের অশ্রুসজল হয়ে পড়া। খ্যাতি, নিরাপত্তাহীনতা ও শিল্পীর মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে এই সিরিজ কেবল একটি কনসার্টের দলিল নয়, বরং আধুনিক পপ-তারকার জীবনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
সব মিলিয়ে ‘Taylor Swift: The End Of An Era’ সুইফটিদের জন্য এক আবেগী স্মৃতির ভাণ্ডার—যেখানে সংগীত, বন্ধুত্ব, ভয় ও ভালোবাসা মিলেমিশে এক অনন্য যুগের সমাপ্তি ঘোষণা করে।
