আজ কিংবদন্তি কবি ও সংগীতশিল্পী বিজয় সরকারের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলা লোকসংস্কৃতির ইতিহাসে তিনি এমন এক শিল্পস্রষ্টা, যার গান, কবিতা ও সুর এখনও গ্রামীণ ও শহুরে সংস্কৃতিতে সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।
১৯০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নড়াইলের দোুমদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করা বিজয় সরকার শৈশব থেকেই সংগীতচর্চায় অনুরাগী ছিলেন। ধীরে ধীরে তিনি লোকসংগীতের বিভিন্ন ঘরানার প্রতি গভীর আকর্ষণ বোধ করেন এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, সমাজ-বাস্তবতা ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধিকে গানের ভাষায় প্রকাশ করতে শুরু করেন।
লোকসংগীতের জারি, সারি, কীর্তন, ভজন, ভাটিয়ালি — এসব ঘরানায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ গান তিনি রচনা ও সুরারোপ করেন। তাঁর গান মানুষের আবেগ, সামাজিক চিত্র, মানবিক মূল্যবোধ এবং আধ্যাত্মিক চিন্তাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছিল, যা তাঁকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়।
তরুণ বয়স থেকেই বিজয় সরকার বিভিন্ন লোকবাদ্য, তাল-লয় এবং সুরের বৈচিত্র্য অনুশীলন করতেন। তিনি একটি যাত্রাদলের সঙ্গে অভিনয়ও করেন, যা তাঁর শিল্পীসত্তাকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলে।
১৯২৫ সালে তিনি মানোহর সরকার ও রাজেন্দ্র সরকারের কাছে যথাক্রমে দুই বছর ও এক বছর কবিগান শেখেন। পরবর্তীতে ১৯২৯ সালে তিনি একটি কবিগান দলের সঙ্গে যুক্ত হন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একজন দক্ষ কবিয়াল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর কবিগানের উপস্থাপনা, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশের দক্ষতা এবং সামাজিক-ধর্মীয় ভাবনার প্রকাশ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা অবস্থানে নিয়ে যায়।
লোকসংগীতের প্রতি অবদান ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সৃষ্টির জন্য বিজয় সরকারকে ২০১৩ সালে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়। তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও অবদান আজও গবেষক, শিল্পী এবং সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণা।
১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভারতের কলকাতার কেওতিয়ায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর শূন্যতা বাংলা সংগীতাঙ্গনে এখনও অনুভূত হয়। নানা সাংস্কৃতিক সংগঠন, গবেষক ও ভক্তরা তাঁর মৃত্যুদিনে আলোচনা, স্মরণসভা, সংগীতানুষ্ঠান ও তাঁর গানের পরিবেশনার মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকেন।
বিজয় সরকার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | বিজয় সরকার |
| জন্ম | ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯০৩, দোুমদী, নড়াইল |
| প্রধান অবদান | প্রায় ১,৮০০ লোকগানের রচয়িতা ও সুরকার |
| শেখার সময় | কবিগান– মানোহর সরকার (২ বছর), রাজেন্দ্র সরকার (১ বছর) |
| দলে যোগদান | ১৯২৯ সালে কবিগান দল |
| মৃত্যু | ৪ ডিসেম্বর ১৯৮৫, কেওতিয়া, কলকাতা, ভারত |
| মরণোত্তর পুরস্কার | একুশে পদক ২০১৩ |
এজে
