বাংলাদেশের জনপ্রিয় রক-ধারার সংগীতদল ওয়ারফেজ-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রধান গিটারবাদক ইব্রাহিম আহমেদ কমল সম্প্রতি তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং ভিসা জটিলতা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে আপস করতে হলে সেই দেশে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন তিনি অনুভব করেন না।
দলটির চার দশক পূর্তি উপলক্ষে ২০২৪ সালে আয়োজিত ‘ফোরটি ইয়ার্স লিগ্যাসি কনসার্ট ট্যুর’-এ যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন কমল। সে সময় তাঁর অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে অসুস্থতা ও পারিবারিক ব্যস্ততার কথা বলা হলেও সম্প্রতি জানা যায়, তাঁর ভিসা আবেদন বাতিল হয়েছিল। কমলের ধারণা, ফিলিস্তিনের পক্ষে সামাজিক মাধ্যমে সরব অবস্থান নেওয়াই এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
চলতি বছর গ্রীষ্মে আবারও যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা রয়েছে ওয়ারফেজের। তবে কমল নিজেই জানিয়েছেন, তিনি এ সফরে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন। তাঁর ভাষায়, “যে দেশে যাওয়ার জন্য ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লিখতে পারব না, সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কমলের ব্যক্তিগত স্মৃতি গভীর ও বেদনাবিধুর। নব্বইয়ের দশকে তিনি পড়াশোনার জন্য মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানকার মানুষের আচরণ সম্পর্কে ইতিবাচক স্মৃতি থাকলেও ১৯৯৭ সালের ১১ আগস্ট এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর একমাত্র ছোট ভাইয়ের মৃত্যু তাঁর জীবনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। এই দুর্ঘটনার পর পরিবার ভেঙে পড়ে এবং ১৯৯৮ সালে তিনি স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসেন। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি আর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি।
২০২৪ সালে পুনরায় কনসার্টের উদ্দেশ্যে ভিসার আবেদন করলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়। এ বিষয়ে কমল বলেন, তাঁর কোনো আক্ষেপ নেই। বরং তাঁর মতে, যে যুক্তরাষ্ট্র তিনি একসময় দেখেছেন, বর্তমান বাস্তবতায় তা অনেকটাই বদলে গেছে। তাঁর কাছে দেশটি এখন কেবল পড়াশোনার একটি স্থান হিসেবেই সীমাবদ্ধ।
নিচের সারণিতে কমলের যুক্তরাষ্ট্র-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলো—
| বছর | ঘটনা |
|---|---|
| নব্বইয়ের দশক | মিনেসোটায় পড়াশোনার জন্য যাত্রা |
| ১৯৯৭ | সড়ক দুর্ঘটনায় ছোট ভাইয়ের মৃত্যু |
| ১৯৯৮ | যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ ও দেশে প্রত্যাবর্তন |
| ২০২৪ | কনসার্টের জন্য ভিসা আবেদন বাতিল |
| ২০২৬ | পুনরায় সফর পরিকল্পনা, অনিশ্চয়তা |
সবশেষে কমল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি দেশের মাটিতেই থেকে সত্য কথা বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর মতে, তাঁর সংগীত মূলত বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের জন্য নিবেদিত, এবং বিশ্বজয়ের কোনো আকাঙ্ক্ষা তাঁর নেই। মানবিক মূল্যবোধ ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
