কলম্বিয়ার সংগীতাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং লাতিন আমেরিকার অত্যন্ত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইয়েসন জিমেনেজ এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (১০ জানুয়ারি), দেশটির বোয়াকা প্রদেশের পাইপা এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় জিমেনেজসহ বিমানের মোট ছয়জন আরোহী নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কলম্বিয়াসহ পুরো লাতিন আমেরিকার সাংস্কৃতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ
কলম্বিয়া ওয়ান ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েসন জিমেনেজ একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে মেডেলিন শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। রবিবার রাতে মারিনিলায় একটি বহুল প্রতীক্ষিত সংগীতানুষ্ঠানে তাঁর পারফর্ম করার কথা ছিল। কিন্তু উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই পাইপা ও ডুইতামা এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানটি রানওয়েতে ট্যাক্সি করার পর উড্ডয়ন করতে গিয়েই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের শেষ প্রান্তে আছড়ে পড়ে।
নিচে দুর্ঘটনার মূল তথ্যাবলি একটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
এক নজরে কলম্বিয়া বিমান দুর্ঘটনার বিবরণ
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ ও তথ্য |
| প্রধান নিহত ব্যক্তিত্ব | ইয়েসন জিমেনেজ (৩১), জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। |
| দুর্ঘটনার তারিখ ও সময় | শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬; স্থানীয় সময় দুপুর। |
| ঘটনাস্থল | পাইপা ও ডুইতামা এলাকা, বোয়াকা প্রদেশ, কলম্বিয়া। |
| মোট হতাহত | নিহত ০৬ জন, আহত ০৫ জন। |
| বিমানের ধরণ | ছোট ব্যক্তিগত চার্টার্ড বিমান। |
| গন্তব্য ও উদ্দেশ্য | মারিনিলা সংগীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য মেডেলিন যাত্রা। |
| তদন্তকারী সংস্থা | বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (Aerocivil)। |
তদন্ত ও যান্ত্রিক ত্রুটির প্রাথমিক ধারণা
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কলম্বিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। কারিগরি দুর্ঘটনা তদন্ত অধিদপ্তর (DIACC) ঘটনাস্থল থেকে তথ্য-প্রমাণ ও বিমানের ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উড্ডয়নের ক্রান্তিলগ্নে বিমানটি কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল, যা যান্ত্রিক ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়। তবে আবহাওয়া বা পাইলটের কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা বিস্তারিত তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এক নক্ষত্রের বিদায় ও ভক্তদের শোক
ইয়েসন জিমেনেজ তাঁর দরদী কণ্ঠ এবং আধুনিক ‘পপুলার’ (Música Popular) ঘরানার গানের জন্য কলম্বিয়ার মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন। মাত্র ৩১ বছর বয়সে তাঁর এই অকাল প্রয়াণকে দেশটির সংগীত ইতিহাসের এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তরা তাঁদের প্রিয় শিল্পীর বিভিন্ন গানের ক্লিপ শেয়ার করে শোক প্রকাশ করছেন। মারিনিলায় যে অনুষ্ঠানে তাঁর গান গাওয়ার কথা ছিল, সেখানে হাজার হাজার ভক্ত মোমবাতি জ্বালিয়ে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছেন।
ইয়েসন জিমেনেজ কেবল একজন শিল্পীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন কলম্বিয়ার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের রূপকার। তাঁর এই আকস্মিক বিদায় লাতিন আমেরিকার সংগীতাঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করল।
