কাজরি গান বা কাজলি গান বা এক কথায় কাজরি বা কাজলি। ভারতের উত্তর প্রদেশে কাজলি দেবীকে কেন্দ্র করে যে সংগীত গাওয়া হয় তাকেই কাজরি বা কাজলি গান বলা হয়ে থাকে। উত্তর প্রদেশের প্রচলিত লোকগীতিগুলোর মধ্যে এই গান বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।
কাজরি গান বা কাজলি গান [ Kajri, Music Genre] গীত ধারা । হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত
ভাদ্র মাসের কৃষ্ণা তৃতীয়াতে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় মহিলারা নতুন বস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে সারারাত ধরে কাজরি গান গেয়ে থাকে। এই পুজোতে ভাই ও ভ্রাতৃসমকে রাখি বাঁধা হয় বলে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকলকেই কাজরি গানের আসরে মিলিত হতে দেখা যায়।
![কাজরি গান বা কাজলি গান [ Kajri, Music Genre] গীত ধারা । হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত 1 YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 কাজরি গান বা কাজলি গান [ Kajri, Music Genre] গীত ধারা । হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত](https://bn.musicgoln.com/wp-content/uploads/1965/12/YaifwwriN4BzRFCyqbslL4-300x225.png)
শৃঙ্গার রসপ্রধান কাজরি বা কাজলি গান মির্জাপুর ও বারানসি অঞ্চলে বেশি প্রচলিত ভক্তিরসাত্মক কিছু কাজরি গান রচিত হলেও এর বিষয়বস্তু বিরহ ও মিলনের বিভিন্ন অবস্থা। বারানসিতে ভাদ্র মাসে অনুষ্ঠিত ছট পরবের সময়ও কাজরি বা কাজলি গান গাওয়া হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের কীর্তন গানের মতোই এর গায়ন পদ্ধতি এবং কীর্তনীয়া দলের মতোই কাজলি গানেরও পৃথক পৃথক দল থাকে। একজন মূল গায়কের সঙ্গে অন্যান্য সহশিল্পী নিয়ে বসে কাজরি গানের আসর।
এ গানের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, শৃঙ্গার রসাত্মক ভাষায় মূল শিল্পীকে কেন্দ্র করে দোহারি হিসেবে অন্য শিল্পীবৃন্দ তাঁকে অনুসরণ করেন। কাজরি বা কাজলি গানের দলের প্রধানকে মুখিয়া (মুখ্য) বলা হয়।
তিনি স্থানীয় ভাষায় নতুন নতুন কাজরি রচনা করে দলের অন্য শিল্পীদের তা শিখিয়ে দেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাজরি গান উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা হলো –
রিম ঝিম রিম ঝিম্ ঝিম্ ঘন দেয়া বরষে
কাজরি গাহিয়া চলে পুরনারী হরষে
কদম-তমাল ডালে দোলনা দোলে
কুহু পাপিয়া ময়ূর বোলে
মনের বনের মুকুল খোলে।
নট-শ্যাম-সুন্দর মেঘ পরশে ॥
হৃদয় যমুনা আজ কূল জানে না গো
মনের রাধা আজ বাধা মানে না গো
বাধা মানে না।
ডাকিছে ঘর ছাড়া ঝড়ের (শ্যামের) বাঁশী
অশনি আঘাত হানে দুয়ারে আসি
গরজাক গুরুজন ভবন বাসী
আমরা বাহিরে যাব শ্যাম-মেঘ দরশে।
[গীতিকার : কাজী নজরুল ইসলাম, সুর : কাজরি ভাঙা গান, তাল: কাহারবা (৮ মাত্রা)]