কুইন্সে মামদানি সমর্থনে তহবিল সংগ্রহে গান, সংস্কৃতি ও কমিউনিটির মিলন

নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরোতে এক ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে সংগীত হয়ে ওঠে মূল ভাষা। বাংলাদেশি গায়ক ও সুরকার জন কবির এই আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করে রাজনীতি ও সংস্কৃতির মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি করেন। থিকানা কমিউনিটি হাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল নিউইয়র্কের প্রগতিশীল মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানির পক্ষে তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আয়োজিত, যেখানে অংশ নেয় শহরের বৃহৎ বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি।

অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় থিকানা নিউজ অফিসে, যেখানে জন কবির মঞ্চে ওঠেন আরেক কণ্ঠশিল্পী রুহিন হোসেনের সঙ্গে। উপস্থিত দর্শকদের সামনে তাঁরা পরিবেশন করেন জনপ্রিয় গান “হাই হোপস”। গানের সময় মঞ্চের পেছনে বড় পর্দায় ভেসে ওঠে লেখা—“জোহরান, এ নিউ ইরা, নিউইয়র্ক”। এই ভিজ্যুয়াল বার্তা এবং গানের আশাবাদী কথামালা মিলিত হয়ে পুরো পরিবেশকে রূপ দেয় এক প্রতীকী রাজনৈতিক মুহূর্তে। দর্শকরাও গানের কোরাসে কণ্ঠ মিলিয়ে এক ধরনের সম্মিলিত অংশগ্রহণের অনুভূতি তৈরি করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জোহরান মামদানি নিজেও। কালো স্যুট পরিহিত মামদানি দর্শকদের সঙ্গে হাসিমুখে করতালি দেন, গান উপভোগ করেন এবং উপস্থিত জনতাকে উৎসাহিত করেন। এই দৃশ্যটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নয়, বরং প্রার্থী ও কমিউনিটির মধ্যে সরাসরি আবেগী সংযোগের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনুষ্ঠান শেষে জন কবির অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এই অভিজ্ঞতা তার কাছে ছিল স্বপ্নের মতো। থিকানা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন মামদানির সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় সম্পর্কটি কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতির ভাষায় এক ধরনের ‘ভাই-ভাই’ সম্পর্কের মতো। একই সঙ্গে তিনি জানান, থিকানায় প্রোগ্রাম, ইভেন্ট ও মিউজিক বিভাগের প্রধান হিসেবে তার নতুন দায়িত্ব তাকে আরও বৃহৎ পরিসরে কমিউনিটির সাংস্কৃতিক উদ্যোগে যুক্ত হতে সহায়তা করবে।

এই তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে থিকানা গ্রুপ, যা নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুইন্সে এটি ছিল একমাত্র বাংলাদেশি মুসলিম নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠান। থিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এম শাহীন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং গ্রুপের সিইও মুশরাত শাহীন পুরো আয়োজনের নেতৃত্ব দেন। প্রযুক্তি ও যোগাযোগ সহযোগিতা প্রদান করে রিভারটেল, যার সিইও রুহিন হোসেন অনুষ্ঠানের অন্যতম সংগঠক হিসেবেও ভূমিকা রাখেন।

থিকানা টিভির সিইও খালেদ মুহিউদ্দিনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক অতিথি অংশ নেন এবং দেড় লাখ মার্কিন ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ হয়। এই অর্থ মামদানির রাজনৈতিক রূপান্তর কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।

থিকানা কমিউনিটি হাব একটি ছয় হাজার বর্গফুটের আধুনিক স্থান, যা কমিউনিটি শিক্ষা, সংগঠন গড়া এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। আয়োজকদের মতে, এই স্থান অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। জোহরান মামদানি, যিনি উগান্ডায় জন্মগ্রহণকারী ৩৪ বছর বয়সী এক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী, তরুণ ভোটারদের মধ্যে ইতোমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তার এই ধরনের সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি-ভিত্তিক উপস্থিতি নিউইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণকে আরও দৃশ্যমান করছে।