ক্ষত ও সুরে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ স্মরণ

রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে গতকাল শুক্রবার বিকেলে শুরু হলো দুই দিনব্যাপী শুদ্ধসংগীত উৎসব ১৪৩২, যা উৎসর্গ করা হয়েছে কিংবদন্তি সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ-কে। উৎসবের সূচনা হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে এবং প্রথম অধিবেশন চলেছে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত।

ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “এই ভবনে হামলার পর এটি আমাদের প্রথম অনুষ্ঠান। মধ্যরাতের পরে একদল মানুষ জোর করে ঢুকে ছয়তলা ভবনের প্রতিটি কক্ষে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায়। তাদের প্রধান আক্রোশ ছিল বাদ্যযন্ত্রগুলোর প্রতি। তারা ‘নালন্দা’ শিশু বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তক ও সহায়ক বইও নষ্ট করেছে। আর্থিক ক্ষতির চেয়ে বড় ক্ষতি হলো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হৃদয়ের। তবে এই ক্ষত আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই নিরাপদে গান গাইতে, নিরাপদে সংগীত চর্চা ও পরিবেশন করতে পারি। বাংলা সংস্কৃতির অবাধ চর্চা আমাদের মৌলিক দাবি।”

উৎসবের প্রথম পরিবেশনায় মঞ্চে ওঠে ছায়ানটের সম্মেলক গানের দল, অসিত কুমার দের পরিচালনায়। মূর্ছনায় পাঁচটি রাগ, তবলার দৃঢ় তাল এবং হারমোনিয়ামে টিংকু শীলের মিহি সংগত মিলিয়ে তৈরি হয় গভীর ধ্যানী আবহ। এরপর দীপ্র নিশান্ত পূরবী রাগে কণ্ঠের মাধ্যমে সন্ধ্যার বিষণ্নতা ও আলোর সংমিশ্রণ উপস্থাপন করেন।

পরবর্তী অংশে ইগ্নেসিউস রোজারিও ও অপ্রতিম রায় তবলার যুগলবাদনে আগুনে পোড়া ভবনের স্মৃতি পুনরায় জীবন্ত করেন। সেতারে এবাদুল হক সৈকত ইমনকল্যাণ রাগে আলাপন তুলে নেন, আর তানপুরায় রিদওয়ান রহমান সুরের অবিচ্ছিন্ন ভিত্তি প্রদান করেন।

রাজশাহীর শিল্পী শায়লা তাসমীন শ্যামকল্যাণ রাগে নদীপারের শান্ত কিন্তু দৃঢ় সুরভাষা মঞ্চে আনেন। বিটু শীল বাচসপতি রাগে আবেগ ও প্রতিরোধের সংমিশ্রণ তৈরি করেন। রাতে বাঁশিতে মৃত্যুঞ্জয় দাস রাগেশ্রী রাগে ক্ষতের নিরাময়ী সুর উঁকি দেয়।

উৎসবের মূল পরিবেশনা এবং শিল্পী তালিকা:

ক্রমশিল্পী / দলরাগ / সুরবাদ্যযন্ত্রবিশেষত্ব
ছায়ানট সম্মেলক গান দলপাঁচটি রাগতবলা, হারমোনিয়ামমূর্ছনায় গভীর ধ্যানী আবহ
দীপ্র নিশান্তপূরবী রাগতবলা, সারেঙ্গী, হারমোনিয়ামসন্ধ্যার বিষণ্নতা ও আলোর সংমিশ্রণ
ইগ্নেসিউস রোজারিও ও অপ্রতিম রায়যুগল তবলাতবলাআগুনে পোড়া ভবনের স্মৃতি পুনর্জীবিত
এবাদুল হক সৈকতইমনকল্যাণ রাগসেতার, তবল, তানপুরাসুরের প্রতিশ্রুতি এবং কাঠামোয় বন্ধন
শায়লা তাসমীনশ্যামকল্যাণ রাগহারমোনিয়াম, তবল, তানপুরানদীপারের শান্ত ও দৃঢ় সুরভাষা
বিটু শীলবাচসপতি রাগতবলা, হারমোনিয়ামআবেগ ও প্রতিরোধের মিশ্রণ
মৃত্যুঞ্জয় দাসরাগেশ্রী রাগবাঁশি, তবলাক্ষতের নিরাময়ী সুর, গভীর প্রভাব

উৎসব শেষ হয় অসিত কুমার দের পরিচালনায় পরিবেশনা দিয়ে, যা ক্ষত ও প্রতিরোধের অনুভূতিকে সঙ্গীতের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত করে।