খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে পুতুলের আবেগঘন গল্প

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। রাজনীতি থেকে শুরু করে সংস্কৃতি, বিনোদন ও সমাজজীবনে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিশেষভাবে শোবিজ তারকারাও সামাজিক মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এই শোকপ্রকাশের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত স্মৃতি শেয়ার করেছেন গায়িকা ও সংগীতশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল।

পুতুল জানিয়েছেন, ২০০৩ সালে তিনি নতুন কুঁড়িতে অনুষ্ঠিত দেশাত্মবোধক গান প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, যিনি নিজ হাতে পুতুলকে ট্রফি প্রদান করেছিলেন।

পুতুল সামাজিক মাধ্যমে সেই মুহূর্তের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন:

“জীবনে প্রথম তাঁকে দেখেছিলাম শৈশবে; ছুঁয়েছিলাম তাঁর তুলতুলে হাত। বিজয়ী হয়ে আনন্দের চেয়ে কম ছিল না তাঁকে ছুঁতে পারার অনুভূতি। পুরস্কার গ্রহণের সময় তাঁর চোখে তাকিয়ে মনে হয়েছিল, এক মোমের মতো মানবী হাসছেন আমার সামনে। ধূসর চুল ও শুভ্র শাড়িতে তাঁকে দেখে বুঝেছিলাম, রাষ্ট্রপতি হতে হলে এই আভিজাত্য থাকতে হয়।”

পুতুল আরও উল্লেখ করেছেন, পরবর্তী সময়ে তিনি সংগীতাঙ্গনে পেশাদার হিসেবে যাত্রা শুরু করার পরও খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে গান পরিবেশন করেছেন। তিনি লিখেছেন,

“তিনি মঞ্চে বসে, ঠিক কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে আমি গান গাইছিলাম। পরিবেশনা শেষে তিনি আমাকে আদর করেছিলেন। বুঝেছিলাম, তিনি একজন প্রকৃত সংস্কৃতিপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী।”

শেষে পুতুল বলেছেন,

“একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ওপারে চলে গেছেন, যিনি লাখো তরুণীকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। একজন সাধারণ গৃহবধূও আত্মবিশ্বাস ও প্রজ্ঞা দিয়ে অসাধারণ হতে পারে, এমন শিক্ষা দিয়েছেন তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে। ইতিহাস আপনাকে স্মরণ রাখবে, মাননীয়া।”

নিম্নে পুতুলের স্মৃতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ টেবিলে তুলে ধরা হলো:

বছরঘটনাস্থান/মঞ্চখালেদা জিয়ার উপস্থিতিপুতুলের অনুভূতি
২০০৩নতুন কুঁড়ি গান প্রতিযোগিতানতুন কুঁড়িপ্রধানমন্ত্রী ট্রফি প্রদানপ্রথম সাক্ষাৎ, অত্যন্ত আনন্দ
২০১০পেশাদার পরিবেশনাশিল্প মঞ্চশ্রোতা হিসেবে উপস্থিতআদর, সংস্কৃতিপ্রেম বোঝা

এই স্মৃতিচারণ পুতুলের জীবনের এক অমূল্য অধ্যায় ও খালেদা জিয়ার সাংস্কৃতিক সহমর্মিতার প্রমাণ হিসেবে রয়ে গেছে।