গৌরী চৌধুরী এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ গায়িকা এবং সঙ্গীত গুরু। ভারত উপমহাদেশের বাইরে বাংলা গানের শীর্ষ সব্যসাচী শিল্পী গৌরী চৌধুরী কথা বলেছেন তাঁর একান্ত সঙ্গীতভাবনা, স্বপ্ন এবং চলমান সঙ্গীত-কার্যক্রম নিয়ে। বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী জর্জ হ্যারিসন এবং পণ্ডিত রবিশংকরের স্নেহধন্যা গৌরী চৌধুরী গত ত্রিশ বছরেরও অধিক সময় ধরে বাংলা গানের মশাল হাতে নিয়ে গান করে বেড়িয়েছেন ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডাসহ বিশ্বের আনাচে কানাচে।
প্রাথমিক জীবন
গৌরি সিলেট জেলা, সিলেট বিভাগ, পূর্ব পাকিস্তান(বর্তমানে বাংলাদেশ) এ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মাত্র ছয় বছর বয়সে গান গাওয়া শুরু করেন।
১৯৮৪ সালে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় পাশ করেন। পরবর্তী বছর ১৯৮৫ সালে তিনি সিলেট একাডেমী অব ফাইন আর্টসে ভর্তি হন এবংয় লোক সঙ্গীতের উপর পান্ডিত্য অর্জন করেন। এরপর তিনি সিলেট শিল্পকলায় পড়ালেখা শুরু করেন এবং সঙ্গীতে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। তার শিক্ষাবর্ষ ১৯৮৮ সালে তিনি তার ক্যারিয়ারকে আরা উন্নত করতে চেয়েছিলেন এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এ স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং সেখানে তিনি কলা বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষ করে ১৯৮৯ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান যেখানে তিনি অনেক চাকরি করেন। তিনি প্রাথমিকভাবে লন্ডনের অনেকগুলো স্কুরে বাংলা গানের শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের একজন নারী উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে প্রচুর স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করেন যা থাকে জাতিগত সংখ্যালঘু মহিলাদের অধিকার, দক্ষতা এবং মেধা উন্নয়নে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে। সময়ের পরিক্রমায় তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেন এবং তার চারটি ক্যাসেট এবং দুইটি সিডি প্রকাশিত হয়। ২০১১ সালের সেপ্টম্বরে জি টিভির সা রে গা মা পা, একটি জনপ্রিয় সঙ্গীত অনুষ্ঠান, এ অংশগ্রহণ করেন।
পুরস্কার এবং স্বীকৃতি
গৌরি সঙ্গীতে প্রচুর পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ২০০৪ সালে বাংলা টিভির, ২০০৪ সালে বিমা, ২০০৫ সালে এটিএন বাংলা এবং ২০০৬ সালে চ্যানেল আইয়ের কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ডের “সেরা সঙ্গীত শিল্পী”র পুরস্কার অর্জন কেরেন। ২০০২ সালে জি টিভির আনতাকসারি অনুষ্ঠানের বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
