যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সাউথ মিয়ামি সিনিয়র হাই স্কুল–এর ব্যান্ড পরিচালক জেনিফার জিমেনেজ ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ সঙ্গীত শিক্ষাবিদ পুরস্কার অর্জন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। সংগীতশিক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদত্ত এই সম্মাননা গ্র্যামি পুরস্কারের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সারা যুক্তরাষ্ট্রে সংগীতশিক্ষকদের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ স্বীকৃতিগুলোর একটি।
এবারের আসরে ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে দুই হাজারেরও বেশি মনোনয়ন জমা পড়ে। দীর্ঘ কয়েক মাসের যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জন চূড়ান্ত প্রার্থীর মধ্য থেকে জিমেনেজকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। কঠোর প্রতিযোগিতামূলক এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষাদর্শ, শিক্ষার্থীদের সাফল্য, সামাজিক প্রভাব এবং পেশাগত নেতৃত্বের মতো মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় জিমেনেজ বলেন, “প্রতিদিন নিরলস পরিশ্রম করা সারা দেশের সংগীতশিক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। এই স্বীকৃতি আমাদের অসাধারণ বিদ্যালয়ের ওপর আলোকপাত করেছে।” তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে সংগীতশিক্ষার সামষ্টিক গুরুত্বই বেশি প্রতিফলিত হয়েছে।
বর্তমানে তিনি টানা ১৯ বছর ধরে সাউথ মায়ামি সিনিয়র হাই স্কুলে ব্যান্ড পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ‘কোবরা ব্যান্ড’ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। শিক্ষার্থীরা কেবল শ্রেণিকক্ষেই নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। তাঁর তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক কার্নেগি হল–এ পরিবেশনার সুযোগ পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর সুপার বোল–এর দুটি আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছে।
শুধু সংগীতচর্চা নয়, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ এবং জীবনদক্ষতা বিকাশেও জিমেনেজের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে। তাঁর শিক্ষা-দর্শনের মূল ভিত্তি হলো—সংগীতকে জীবনের অনুশাসন, শৃঙ্খলা ও দলগত চেতনার অনুশীলন হিসেবে গড়ে তোলা। এর ফলস্বরূপ বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও পেশাজীবনে সাফল্য অর্জন করেছে।
পুরস্কারের অংশ হিসেবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১০ হাজার মার্কিন ডলার সম্মানী পেয়েছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সংগীত কর্মসূচির উন্নয়নের জন্য আরও ১০ হাজার মার্কিন ডলারের অনুদান দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ নতুন বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশনায় অংশগ্রহণে ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে।
এছাড়া তিনি পূর্বে কেনেডি সেন্টারের অনুপ্রেরণাদায়ী শিক্ষক সম্মাননা অর্জন করেছেন এবং অতীতেও গ্র্যামি সংগীত শিক্ষক পুরস্কারের চূড়ান্ত পর্বে স্থান পেয়েছিলেন। তাঁর ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে যে, সংগীতশিক্ষা কেবল সাংস্কৃতিক বিকাশ নয়; সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব গঠনেরও অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম।
নিচে এবারের গ্র্যামি মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট নির্বাচিত শিক্ষকদের তালিকা তুলে ধরা হলো:
| নাম | শিক্ষা প্রতিষ্ঠান | অবস্থা |
|---|---|---|
| অলিভার দিয়েজ | পামেট্টো প্রাথমিক বিদ্যালয় | কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট |
| ড. জ্যানেট ডুগে-কিরস্টেন | দান্তে বি. ফ্যাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয় | কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট |
| সিন্ডি এলিস | মায়ামি আর্টস স্টুডিও (৬-১২) | কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট |
| জিম গ্যাসিওর | নিউ ওয়ার্ল্ড স্কুল ফর দ্য আর্টস | কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট |
| জেনিফার জিমেনেজ | সাউথ মায়ামি সিনিয়র হাই স্কুল | বিজয়ী |
জেনিফার জিমেনেজের এই অর্জন শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি সংগীতশিক্ষার মর্যাদা ও সম্ভাবনাকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
