ছয় বছর পর থান্ডারক্যাটের নতুন অ্যালবাম

দীর্ঘ ছয় বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বখ্যাত বেজিস্ট এবং সংগীতশিল্পী থান্ডারক্যাট (Thundercat) প্রকাশ করেছেন তার পঞ্চম একক স্টুডিও অ্যালবাম ‘ডিস্ট্রাক্টেড’ (Distracted)। গত শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬-এ অ্যালবামটি বিশ্বজুড়ে মুক্তি পায়। ২০২০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার ‘ইট ইজ হোয়াট ইট ইজ’ অ্যালবামটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে সেরা প্রগ্রেসিভ আরঅ্যান্ডবি (Best Progressive R&B Album) ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জয় করেছিল। দীর্ঘ সময় পর নতুন অ্যালবাম নিয়ে ফিরলেও, এই ছয় বছর থান্ডারক্যাট মোটেও হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন না। সিল্ক সনিক, গোরিলাজ এবং কেনড্রিক ল্যামারের মতো বড় মাপের শিল্পীদের প্রজেক্টে কাজ করার পাশাপাশি গত বছর ম্যাক মিলারের মরণোত্তর অ্যালবাম ‘ব্যালুনিজম’ (Balloonerism) এর প্রযোজনা নিয়েও তিনি ব্যস্ত ছিলেন।

অ্যালবামের আবহ ও উল্লেখযোগ্য গান

অ্যালবামটির সূচনা হয়েছে বেশ সাবলীলভাবে। শুরুর ট্র্যাক ‘ক্যান্ডিলাইট’ (Candlelight) পুরো অ্যালবামের একটি স্নিগ্ধ ও আরামদায়ক আবহ তৈরি করে দেয়। যথারীতি, থান্ডারক্যাট তার অসাধারণ বেসলাইনের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করতে ভুল করেননি। অ্যালবামের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ শুরু হয় দ্বিতীয় ট্র্যাক থেকে, যেখানে পরপর তিনটি দুর্দান্ত গান স্থান পেয়েছে।

১. নো মোর লাইস (No More Lies): টেম ইম্পালার সাথে এই গানটি আসলে প্রায় তিন বছর আগে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে একক গান হিসেবে মুক্তি পেয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর অ্যালবামে স্থান পেলেও এর আবেদন বিন্দুমাত্র কমেনি। দুই মেধাবী সংগীতশিল্পীর রসায়ন এখানে স্পষ্ট।

২. শি নোজ ওয়ে টু মাচ (She Knows Way Too Much): প্রয়াত ম্যাক মিলারের একটি মরণোত্তর ফিচার সম্বলিত এই গানটি অত্যন্ত রুচিশীলভাবে তৈরি করা হয়েছে। স্যাক্সোফোনের ব্যবহার এবং চমৎকার গ্রুভ গানটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

৩. আই ডিড দিস টু মাইসেলফ (I Did This to Myself): ফ্লাইং লোটাসের প্রযোজনায় এবং লীল ইয়টির (Lil Yachty) অংশগ্রহণে এই গানটি অ্যালবামের অন্যতম আকর্ষণ। এর শক্তিশালী বেসলাইন এবং মজার সব অ্যাড-লিবস গানটিতে আলাদা প্রাণ যোগ করেছে।

অ্যালবামের ট্র্যাকলিস্ট ও সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ

নিচে অ্যালবামের উল্লেখযোগ্য গান এবং তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

গানের শিরোনামসহযোগী শিল্পী/প্রযোজকবৈশিষ্ট্যরেটিং (৫-এ)
ক্যান্ডিলাইটএককস্নিগ্ধ সূচনা ও বেসলাইন৩.৫
নো মোর লাইসটেম ইম্পালাদুর্দান্ত রসায়ন ও মেলোডি৫.০
শি নোজ ওয়ে টু মাচম্যাক মিলারস্যাক্সোফোন ও গ্রুভি সুর৪.৫
আই ডিড দিস টু মাইসেলফলীল ইয়টি / ফ্লাইং লোটাসপ্লেফুল অ্যাড-লিবস ও বেস৪.৫
ফানি ফ্রেন্ডসএএসএপি রকিপুনরাবৃত্তিমূলক কোরাস২.৫
থান্ডারওয়েভউইলো (Willow)সিন্থ প্যাসেজ ও ডুয়েট৪.০
গ্রেট আমেরিকানসএককবিড়াল সদৃশ শব্দ (মিউইং)১.৫

মিশ্র অভিজ্ঞতার দ্বিতীয় অর্ধাংশ

অ্যালবামের প্রথমার্ধ যতটা জাঁকজমকপূর্ণ, শেষার্ধ কিছুটা ম্লান বলে মনে হতে পারে। ‘ফানি ফ্রেন্ডস’ গানটি এএসএপি রকির উপস্থিতি সত্ত্বেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এর কোরাস ছিল বেশ একঘেয়ে। অন্যদিকে, ‘হোয়াট ইজ লেফট টু সে’ গানটিতে ‘দ্য লেমন টুইগস’-এর প্রচ্ছন্ন প্রভাব বেশ স্পষ্ট, যা শ্রোতাদের মে মাসে মুক্তি পেতে যাওয়া তাদের পরবর্তী অ্যালবামের কথা মনে করিয়ে দেয়।

অ্যালবামের মধ্যভাগের গানগুলো যেমন— ‘অ্যানাকিন লার্নস হিজ ফেট’ বা ‘ওয়াকিং অন দ্য মুন’ খুব বেশি চমকপ্রদ না হলেও পড়ার টেবিলে শোনার মতো আরামদায়ক সংগীত হিসেবে মন্দ নয়। তবে ‘থান্ডারওয়েভ’ গানটিতে উইলোর সাথে থান্ডারক্যাটের ডুয়েট এবং প্রবহমান পানির শব্দ শ্রোতাদের কানে প্রশান্তি জোগায়।

চূড়ান্ত মূল্যায়ন

অ্যালবামটি যখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন কিছুটা একঘেয়েমি চলে আসে। বিশেষ করে ‘গ্রেট আমেরিকানস’ গানটিতে থান্ডারক্যাটের মিউইং বা বিড়ালের ডাকের মতো শব্দ ব্যবহার শ্রোতাদের বিরক্তির কারণ হতে পারে। মোটের ওপর, ‘ডিস্ট্রাক্টেড’ অ্যালবামটি তখনই সেরা যখন থান্ডারক্যাট অন্য কোনো বড় মাপের শিল্পীর সাথে মিলে কাজ করেছেন। প্রথমার্ধের গানগুলো অত্যন্ত উঁচু মানের হলেও, দ্বিতীয় অর্ধাংশের দুর্বলতা অ্যালবামটির সামগ্রিক প্রভাব কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। তবুও, থান্ডারক্যাটের নিজস্ব ঘরানা এবং বেস গিটারের পারদর্শিতা এই অ্যালবামটিকে বছরের অন্যতম আলোচিত সংগীত সংকলনে পরিণত করেছে।