ছায়ানটের আয়োজনে একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণ

ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমণ্ডির ছায়ানট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে শুক্রবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় এক বৈশিষ্ট্যময় অনুষ্ঠান, যেখানে গান, কবিতা ও দেশপ্রেমের মননকে একত্রিত করে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিকে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটি ছিল একদিকে স্মৃতিময়, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক গৌরবের নিরব প্রকাশ।

ছায়ানটের সভাপতি সরওয়ার আলী বক্তব্যে বলেন, “ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাষ্ট্রের বীজ রোপিত হয়, এবং সেই পথ দিয়েই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। ১৯৫২ সালের শহীদদের আত্মত্যাগের কাছে আমরা চিরঋণী। তাদের সংগ্রামের ফলে বাঙালি জাতীয় পরিচয় অর্জন করতে সক্ষম হয়।”

তিনি আরও বলেন, “ভাষা একটি জাতির পরিচয় স্থির করে, আর তার জীবনধারার প্রকাশ ঘটে সংস্কৃতির মাধ্যমে। ছায়ানট সেই সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে নিবেদিত।” সরওয়ার আলী ভাষার সংরক্ষণের গুরুত্বও গুরুত্বারোপ করে বলেন, “যে ভাষা সংরক্ষিত না থাকলে তা বিলুপ্তির পথে চলে। আমরা সৌভাগ্যবান যে এমন একটি ভাষায় চিন্তা করি, সৃষ্টিশীল হই, যার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী করেছে।”

ছায়ানটের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনের অবদানও তিনি স্মরণ করেন। উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের আন্দোলনের অনেক সক্রিয় ব্যক্তি ১৯৬০-এর দশকে ছায়ানট প্রতিষ্ঠা করেন। সরওয়ার আলী বলেন, “যদি একুশে ভুলে যাই, তবে ১৯৭১-এর ঘটনা অস্পষ্ট হয়ে যাবে। আর যদি ১৯৭১ ভুলে যাই, বাঙালি জাতীয় পরিচয় টিকে থাকতে পারবে না। এজন্য ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জীবনে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানসূচি ও শিল্পী প্রদর্শনী

সময়পরিবেশনাশিল্পী/দল
১০:৩০-১০:৪৫কোরাস – “আমাদের চেতনার সৈকতে”ছায়ানট কোরাস
১০:৪৫-১১:০০গান – “মোদের গরব মোদের আশা”সুষ্মিতা দেবনাথ শুচি
১১:০০-১১:১৫গান – “নিশিদিন ভরসা রাখিস”ইফফাত বিনতে নাজির
১১:১৫-১১:৩০গান – “সালাম সালাম হাজর সালাম”ধ্রুব সরকার
১১:৩০-১১:৪৫গান – “অপমানে তুমি জ্বলে উঠেছিলে”প্রিয়ান্তু দেব
১১:৪৫-১২:০০গান – “ও আমার এই বাংলা ভাষা”ঐশ্বর্য সামদ্দার
১২:০০-১২:১৫গান – “মাগো ধন্য হলো”মহিত খান
১২:১৫-১২:৩০গান – “আমায় গুনতে দাও না মাগো”নুসরাত জাহান রুনা
১২:৩০-১২:৪৫গান – “মাগো অতি ফাল্গুনের কথা”অর্ণব বড়ুয়া
১২:৪৫-১:০০গান – “আমার দেশের মতো এমন”ফারজানা আফরিন এভা
১:০০-১:১৫গান – “ভাবো না গো মা তোমার ছেলেরা”সুমন মজুমদার
১:১৫-১:৩০কবিতা – “মাতৃভূমির জন্য”দালিয়া আহমেদ
১:৩০-১:৪৫কবিতা – “একুশে ফেব্রুয়ারি”দেওয়ান সৈদুল হাসান
১:৪৫-২:০০সম্মিলিত গান – “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” ও জাতীয় সংগীতসকল শিল্পী

অনুষ্ঠানটি শেষ হয় সকল শিল্পীর সম্মিলিত পরিবেশনা এবং জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা”-র মাধ্যমে। এই সমারোহে উপস্থিত দর্শকরা একুশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বাঙালি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য মুহূর্ত উপভোগ করেন।