জাতীয় স্বীকৃতির আলোয় প্রিন্স মাহমুদ

বাংলাদেশি কালজয়ী সুরকার ও গীতিকবি প্রিন্স মাহমুদ সম্প্রতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার ‘ঈশ্বর’ গানের জন্য শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে ভূষিত হয়েছেন। দীর্ঘ ১৯৯৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সঙ্গীত জগতে অবদান রাখা এই সুরকারের জন্য এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত, যেটি শুধু তাঁর সৃষ্টিশীলতা নয়, বরং দর্শক ও শ্রোতাদের সঙ্গে তাঁর সংযোগকেও মান্যতা দিয়েছে।

পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি শেয়ার করতে গিয়ে তিনি বলেন, “যা থাকে অনুভবে, তার প্রকাশ ভাষায় হয় না। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়ে অন্যরকম এক আনন্দ অনুভব করছি। তবে শুধু আনন্দ নয়, এর সঙ্গে নতুন দায়িত্বও বেড়েছে।” তিনি তার প্রশংসা জানিয়েছেন ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার পুরো টিম এবং পুরস্কারের জুরি সদস্যদের প্রতি।

প্রিন্স মাহমুদ জানালেন, “যে কোনো স্বীকৃতি না পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের কষ্টের চেয়েও বেশি হতাশ হয়েছিলেন তার কাছের মানুষ ও শ্রোতারা। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থন আমার কাজের মূল শক্তি।”

পুরস্কারের আগের অভিজ্ঞতা

প্রিন্স মাহমুদ বহু বছর ধরে সিনেমায় সঙ্গীত দিয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য তার আগে বহুবার প্রত্যাশা থাকলেও, পুরস্কার হাতে আসেনি। তিনি উল্লেখ করেছেন:

বছরসিনেমাগানপুরস্কারের প্রত্যাশাফলাফল
২০০০কষ্টমাউচ্চপুরস্কার পাননি
২০০৯থার্ড পারসর সিঙ্গুলার নাম্বারজেলখানার চিঠিউচ্চপুরস্কার পাননি
২০২৩প্রিয়তমাঈশ্বরসর্বোচ্চপুরস্কার পান

তিনি বলেন, “প্রত্যেক সৃষ্টিই আমার জন্য আনন্দের উৎস। পুরস্কার না পাওয়ায় হতাশা থাকলেও, সৃষ্টির নেশায় আমি মেতে উঠতে পারি।”

সাম্প্রতিক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

২০২৫ সালের ‘জংলি’ সিনেমার গানও দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। তাঁর নতুন পরিকল্পনায় রয়েছে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ তরুণদের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশেষ স্মরণীয় ব্যক্তিদের নিয়ে গান তৈরি করা। তিনি ইতিমধ্যেই আবরার ফাহাদসহ কয়েকজন শহীদের নিয়ে নতুন গান রচনা শুরু করেছেন।

প্রিন্স মাহমুদ বলেন, “এই কাজগুলো কোনো তাড়াহুড়া ছাড়া করছি। প্রতিটি গানের মধ্যে আমার ভেতরের অনুভূতি ও মায়া ঢেলে দিচ্ছি। এ কারণে গানগুলো শ্রোতাদের মনে আলাদা ধরনের আবেগ সৃষ্টি করে।”

তিনি আরও জানান, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে নতুন পাঁচটি গান তৈরি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ নতুন সাউন্ডে রচিত। তার লক্ষ্য শুধুই স্বীকৃতি নয়; বরং গানগুলো দর্শকের মনকে স্পর্শ করবে, এবং ইতিহাস ও ন্যায়ের মূল্যকে তুলে ধরবে।

এই অর্জন এবং পরবর্তী সৃষ্টিশীল পরিকল্পনা প্রিন্স মাহমুদকে সঙ্গীত জগতে আরও অনুপ্রাণিত করেছে, যা আগামী দিনে নতুন ধারার বাংলা গান শ্রোতাদের উপহার দেবে।