গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বগুড়ার পাঁচ তারকা হোটেল মম ইন-এ অনুষ্ঠিত টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-এ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন খালি গলায় গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানমঞ্চে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর’র অনুরোধে মন্ত্রী ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ, আমার মরণ বাংলাদেশ’ গানটির অংশবিশেষ গেয়ে শোনান।
উদ্বোধনী ভাষণে মন্ত্রী বলেন, “সংগীত হলো মানুষের অনুভূতি প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম। এটি এমন এক ভাষা, যা দিয়ে অপরাধের বিনিময় করা যায় না। প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত সুকুমারবৃত্তির মাধ্যমে মানুষ যেভাবে অনুভূতি প্রকাশ করে, সংগীত সেই অভিব্যক্তির একমাত্র মাধ্যম।”
তিনি আরও বলেন, “যাঁরা এই প্রকৃতিপ্রদত্ত প্রতিভা ধারণ করেছেন, তাঁরা আমাদের জাতীয় সম্পদ। চ্যানেল আই একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যা এই ক্ষেত্রের গুরুত্ব সঠিকভাবে উপলব্ধি করে শিল্পীদের সম্মান প্রদানের মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে। এর ফলে শিল্পীসমাজ অনুপ্রাণিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষও চ্যানেল আইকে কৃতজ্ঞ।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার, টিএমএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা বেগম এবং আরও অনেক অতিথি।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মোট ১৯টি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়। বিশেষভাবে সংগীতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা পান কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। এছাড়া লোকসংগীতশিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পুরস্কার ও সম্মাননার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিভাগ | পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি / সংস্থা | মন্তব্য / বিশিষ্টতা |
|---|---|---|
| আজীবন সম্মাননা | কনকচাঁপা | সংগীতে দীর্ঘমেয়াদী অবদান |
| বিশেষ সম্মাননা | কাঙালিনী সুফিয়া | লোকসংগীত চর্চায় বিশেষ অবদান |
| অন্যান্য ১৭টি বিভাগ | বিভিন্ন শিল্পী ও সংগঠন | শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী, সুরকার, গীতিকার প্রভৃতি |
অনুষ্ঠানটি দেশের সংগীত অঙ্গনের মানুষের মধ্যে অনুপ্রেরণার সঞ্চার করেছে। মঞ্চে মন্ত্রীর সরল অথচ হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনা এবং শিল্পীদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চ্যানেল আইয়ের এই উদ্যোগ শিল্পীদের স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে সমৃদ্ধ করছে।
মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, “সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষকে সংযুক্ত করে, অনুভূতি জাগ্রত করে এবং সমাজকে মানবিকভাবে সমৃদ্ধ করে।”
উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানটি টিএমএসএস ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়, যা বাংলাদেশের সংগীত অঙ্গনের জন্য এক বিশেষ উৎসবের মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
