তিন দশক পর আঁখি আলমগীর–মিল্টন খন্দকারের গান

দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর আবারও সংগীতে একসঙ্গে হলেন জনপ্রিয় প্লেব্যাক শিল্পী আঁখি আলমগীর এবং গীতিকার–সুরকার মিল্টন খন্দকার। তাঁদের নতুন মৌলিক গান ‘জোড়া শালিক’ শুধু একটি নতুন প্রকাশনা নয়, বরং এটি স্মৃতি, অপেক্ষা এবং শিল্পীসত্তার পুনর্মিলনের এক আবেগঘন দলিল। সময়ের ব্যবধানে সংগীতের ধারা, শ্রোতার রুচি এবং প্রযোজনার ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এলেও এই দুই শিল্পীর সৃষ্টিশীল সম্পর্ক যে এখনো প্রাসঙ্গিক, এই গান তারই প্রমাণ।

নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে আঁখি আলমগীর প্রথমবার মিল্টন খন্দকারের লেখায় কণ্ঠ দেন। তখন তিনি ‘আসামি বধূ’ চলচ্চিত্রের ‘এত ছোট জনম নিয়া জগতে আসিয়া’ গানটি গেয়েছিলেন, যার সুর করেছিলেন প্রয়াত সংগীত পরিচালক আলম খান। গানটি মুক্তির পরপরই দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং আবেগঘন কথা, হৃদয়স্পর্শী সুর ও আঁখি আলমগীরের দরদি কণ্ঠের কারণে তা দ্রুতই বাংলা চলচ্চিত্র সংগীতের একটি স্মরণীয় অধ্যায়ে পরিণত হয়। আজও বহু শ্রোতার কাছে গানটি সমানভাবে প্রিয়।

তবে সেই সাফল্যের পর দীর্ঘ ২৭ বছর এই দুই শিল্পী নতুন কোনো মৌলিক গানে একসঙ্গে কাজ করেননি। প্রত্যেকে আলাদা পথে সংগীতাঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু মিল্টন খন্দকারের লেখা ও সুরে সম্পূর্ণ মৌলিক গানে আঁখি আলমগীরের কণ্ঠ—এই প্রত্যাশা দীর্ঘদিন অপূর্ণই থেকে গিয়েছিল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল ‘জোড়া শালিক’ গানের মাধ্যমে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ‘জোড়া শালিক’ এই প্রথম গান যেখানে মিল্টন খন্দকার নিজেই গানটির কথা ও সুর করেছেন এবং তাতে কণ্ঠ দিয়েছেন আঁখি আলমগীর। গানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘বৈঠকখানা’র জন্য ধারণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শুটিং চলাকালেই গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়, যেখানে দুজন শিল্পীর উপস্থিতি পুরো প্রক্রিয়াকে আরও আবেগপূর্ণ করে তোলে।

মিল্টন খন্দকার জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল—নিজের লেখা ও সুরে আঁখি আলমগীরের কণ্ঠ শোনা। তাঁর ভাষায়, ‘জোড়া শালিক’ যেন বহু বছর ধরে লালিত একটি সৃষ্টির নতুন জন্ম। অন্যদিকে আঁখি আলমগীর মনে করেন, এই গান কোনোভাবেই অতীতের পুনরাবৃত্তি নয়; বরং এটি সময়ের সঙ্গে মানানসই এক নতুন ও প্রাণবন্ত সৃষ্টি। বৈঠকখানার মঞ্চে গানটি পরিবেশন করতে পেরে তিনি বিশেষ তৃপ্তির কথাও জানান।

ব্যক্তিগত আবেগের বাইরে এই পুনর্মিলন বাংলা সংগীতাঙ্গনের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি আঁখি আলমগীরের সংগীতজীবনের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেয় এবং একই সঙ্গে মিল্টন খন্দকারের সৃষ্টিশীলতার ধারাবাহিকতাকেও সামনে আনে। শ্রোতাদের জন্য ‘জোড়া শালিক’ স্মৃতি ও নতুনত্বের এক সুন্দর সমন্বয়।

আঁখি আলমগীর–মিল্টন খন্দকারের সংগীতযাত্রার উল্লেখযোগ্য ধাপসমূহ

সময়কালঘটনাগুরুত্ব
নব্বইয়ের দশক‘আসামি বধূ’ চলচ্চিত্রে প্রথম সহযোগিতাশিল্পীজুটির সূচনা
নব্বইয়ের দশকগানটির দেশব্যাপী জনপ্রিয়তাশ্রোতাপ্রিয়তা ও স্বীকৃতি
দুই হাজার বিশের দশক‘জোড়া শালিক’ ধারণপ্রথম সম্পূর্ণ মৌলিক সহযোগিতা
বর্তমানবৈঠকখানায় সম্প্রচার২৭ বছর পর সৃজনশীল পুনর্মিলন

সব মিলিয়ে বলা যায়, সময় বদলায়, প্রবণতা বদলায়, কিন্তু প্রকৃত সৃষ্টিশীল সম্পর্ক টিকে থাকে। ‘জোড়া শালিক’ সেই স্থায়ী বন্ধনেরই সংগীতময় সাক্ষ্য।