তিমির বিদারী অলখ বিহারী [ Timiro Bidari Olokho Bihari ]

“তিমির বিদারী অলখ বিহারী” গানটি একটি নজরুলগীতি । নজরুলগীতি বা নজরুল সঙ্গীত বাংলাভাষার অন্যতম প্রধান কবি ও সংগীতজ্ঞ কাজী নজরুল ইসলাম লিখিত গান। কাজী নজরুল ইসলাম তার সীমিত কর্মজীবনে তিনি ৫৬০০-এরও বেশি গান রচনা করেছেন।

তিমির বিদারী অলখ বিহারী [ Timiro Bidari Olokho Bihari ]

গীতিকারঃ কাজী নজরুল ইসলাম 

প্রথম রেকর্ডের কন্ঠশিল্পীঃ ইন্দুবালা দেবী 

তিমির বিদারী অলখ বিহারী [ Timiro Bidari Olokho Bihari ]

তিমির বিদারী অলখ-বিহারী,
কৃষ্ণ-মুরারী আগত ঐ
টুটিল আগল নিখিল পাগল,
সর্বসহা আজি সর্বজয়ী
তিমির বিদারী অলখ-বিহারী
কৃষ্ণ-মুরারী আগত ঐ
বহিছে উজান অশ্রু যমুনায়,
হৃদি-বৃন্দাবনে
আনন্দ ডাকে আয়
বসুধা যশোদার
স্নেহধার উথলায়
কাল রাখাল নাচে থৈ তা থৈ
তিমির বিদারী অলখ-বিহারী,
কৃষ্ণ-মুরারী আগত ঐ
বিশ্ব ভরি’ ওঠে স্তব নমো নম:
অরির পুরী মাঝে
এলো অরিন্দম
ঘিরিয়া দ্বার বৃথা জাগে প্রহরীজন
কারোর মাঝে এলো
বন্ধ-বিমোচন
ধরি’ অজানা পথ
আসিলো অনাগত
জাগিয়া ব্যথাহত ডাকে মাভৈ:
তিমির বিদারী অলখ-বিহারী,
কৃষ্ণ-মুরারী আগত ঐ
টুটিল আগল নিখিল পাগল
সর্বসহা আজি সর্বজয়ী
তিমির বিদারী অলখ-বিহারী
কৃষ্ণ-মুরারী আগত ঐ

ইন্দুবালা দেবীঃ

ইন্দুবালা দেবী  বাংলার খ্যাতনামা গায়িকা-অভিনেত্রী এবং নজরুলগীতির প্রবাদপ্রতিম শিল্পী । ইন্দুবালার জন্ম ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বরে বৃটিশ ভারতের অমৃতসরে। পিতা মতিলাল ছিলেন কবি মনমোহন বসুর দ্বিতীয় পুত্র। ইন্দুবালার মা রাজাবালা । মায়ের কাছে ইন্দুবালা গান শেখার পর প্রথমে সঙ্গীত চর্চা শুরু করেন গৌরীশঙ্কর মিশ্রের কাছে। এ ছাড়াও তালিম নেন কালীপ্রসাদ মিশ্র, ইলাহি বক্স এবং কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী গওহর জানের কাছে। আঠারো বছর বয়সে তার প্রথম গানের রেকর্ড – ‘ওরে মাঝি তরী হেথায়’ এবং ‘তুমি এস হে, এস হে’। শোভাবাজার রাজবাড়ি, কালীকৃষ্ণ ঠাকুরের বাড়ি, হরেন শীল ও খেলাত ঘোষের বাড়ির তিনি নিয়মিত গায়িকা ছিলেন। সঙ্গীতের পাশাপাশি নাটক ও সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছিলেন। অভিনয় শুরু করেন ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে সার্কাসের মেয়েদের নিয়ে তৈরি তার মায়ের ‘রামবাগান ফিমেল কালী থিয়েটার’ এ। পরে বাংলা মঞ্চের বহু নাটকে তিনি অংশ নিয়েছিলেন।

 

ইন্দুবালা দেবী ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে ৩০ শে নভেম্বর কলকাতায় মারা যান । 

কাজী নজরুল ইসলামঃ

তিমির বিদারী অলখ বিহারী গীতিকার কাজী নজরুল ইসলাম বিংশ শতাব্দীর প্রধান বাঙালি কবি ও সঙ্গীতকার। তার মাত্র ২৩ বৎসরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় ছিল তিনি কবি । ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। চুরুলিয়া গ্রামটি আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া ব্লকে অবস্থিত।পিতামহ কাজী আমিন উল্লাহর পুত্র কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান তিনি।

তার বাবা ফকির আহমদ ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং মাযারের খাদেম। নজরুলের তিন ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ কাজী আলী হোসেন এবং দুই বোনের মধ্যে সবার বড় কাজী সাহেবজান ও কনিষ্ঠ উম্মে কুলসুম।কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল “দুখু মিয়া”১৯০৮ সালে তার পিতার মৃত্যু হয়, তখন তার বয়স মাত্র নয় বছর। পিতার মৃত্যুর পর পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে তার শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয় এবং মাত্র দশ বছর বয়সে জীবিকা অর্জনের জন্য কাজে নামতে হয় তাকে। এসময় নজরুল মক্তব থেকে নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উক্ত মক্তবেই শিক্ষকতা শুরু করেন। মক্তব, মসজিদ ও মাজারের কাজে নজরুল বেশি দিন ছিলেন না।বাল্য বয়সেই লোকশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে একটি লেটো (বাংলার রাঢ় অঞ্চলের কবিতা, গান ও নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক চর্চার ভ্রাম্যমাণ নাট্যদল) দলে যোগ দেন। তার চাচা কাজী বজলে করিম চুরুলিয়া

পরদেশী মেঘ এর রচয়িতা নজরুল  আগস্ট ২৯- ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন ।

Leave a Comment