দেশি সঙ্গীত হল অব ফেম এবং যাদুঘরের দীর্ঘদিনের পরিচালক বিল আইভি ৭ নভেম্বর, ২০২৫ সালে ন্যাশভিল, টেনেসিতে ৮১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি ২৬ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তার নেতৃত্ব ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যাদুঘরটি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গীত সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
সঙ্গীত সংরক্ষণে বিল আইভির অবদান
বিল আইভি ১৯৭১ সালে দেশি সঙ্গীত হল অব ফেমে প্রথম যোগ দেন লাইব্রেরিয়ান হিসেবে। তাঁর কাজের মধ্যে সৃজনশীলতা, মনোযোগ এবং শিল্পের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ দেখে একই বছর তাঁকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আইভি তার নেতৃত্বে যাদুঘরের সংগ্রহ এবং রেকর্ডিংয়ের মান ব্যাপকভাবে উন্নত করেন। তার তত্ত্বাবধানে যাদুঘরের বহু গুরুত্বপূর্ণ বস্তু সংরক্ষিত হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষার্থী ও ভক্তদের জন্য এটি একটি প্রিমিয়ার গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
আইভি দুইটি বড় মাপের ভবন সম্প্রসারণ প্রকল্প পরিচালনা করেছেন, যার ফলে যাদুঘরটি শুধু দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় হয়নি, বরং আন্তর্জাতিক সঙ্গীত গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি সঙ্গীতের বিভিন্ন ধারা—কান্ট্রি, ব্লুজ, ফোক, এবং আরও অনেককে সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
শিল্পকলায় তার প্রভাব
বিল আইভি একজন চ্যালেঞ্জিং চিন্তক ও কৌশলী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সহকর্মীরা উল্লেখ করেছেন, তার প্রভাব শুধুমাত্র দেশি সঙ্গীত শিল্পে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তিনি সঙ্গীত ও অন্যান্য শিল্পকলার জগতে বিশাল প্রভাব ফেলেছেন। তার নেতৃত্বে দেশি সঙ্গীত হল অব ফেম আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি প্রামাণ্য সঙ্গীত ইতিহাস কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
আইভির কাজের মধ্যে শুধু সংগ্রহ সংরক্ষণ নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে সঙ্গীত ইতিহাসে আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও প্রদর্শনী প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্পী ও দর্শক উভয়ের জন্য সমৃদ্ধি তৈরি করা ছিল।
স্মরণীয় অবদান এবং উত্তরাধিকার
বিল আইভির মৃত্যুর খবর জানিয়ে দেশি সঙ্গীত হল অব ফেম একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিল আইভি শুধুমাত্র একজন পরিচালক ছিলেন না; তিনি একজন দাতা, শিক্ষক ও পরামর্শদাতা ছিলেন। তার উদার ও সদয় ব্যক্তিত্ব সঙ্গীত ও শিল্পকলার জগতে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
শিল্পকলা ও সঙ্গীত জগত থেকে বিভিন্ন শ্রদ্ধা নিবেদন এসেছে। বিল আইভির সংগ্রহ, তত্ত্বাবধান এবং দর্শন আগামী প্রজন্মের জন্য অমূল্য ঐতিহ্য হিসেবে রক্ষিত থাকবে। তার নেতৃত্বে সংগৃহীত দেশি সঙ্গীতের ঐতিহাসিক রেকর্ডগুলো আজীবন সংরক্ষিত থাকবে এবং নতুন গবেষক ও শিল্পী সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে।
বিল আইভির মৃত্যু দেশি সঙ্গীতের জন্য একটি বড় ক্ষতি হলেও, তার কাজের প্রভাব ও অবদান চিরকাল জীবন্ত থাকবে।
