কান্ট্রি মিউজিকের জনপ্রিয় শিল্পী ওয়াকার সম্প্রতি তার দীর্ঘদিনের লড়াই—মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস)—নিয়ে হৃদয়ছোঁয়া ও বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মঞ্চে দাঁড়িয়ে দর্শকদের জন্য গান গেয়ে যাওয়ার সংগ্রাম যে কতটা কঠিন, তা তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন।
ওয়াকার বলেন, “মানুষ যখন আমাকে স্টেজে ওঠানামা করতে দেখে এবং বুঝতে পারে আমি কষ্ট পাচ্ছি—এটা কি আমাকে ব্যথিত করে? অবশ্যই করে।” তবে এই লড়াইয়ে তিনি একা নন। তার ব্যান্ড সদস্যরা তার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি জানান, তার সহশিল্পীরা চোখের ইশারাতেই বুঝে যান তিনি কেমন অনুভব করছেন। বিশেষ করে তার বেস প্লেয়ার কার্ট ওয়ালশ সবসময় তার পাশে থাকেন। হাসিমুখে ওয়াকার বলেন, “আমি কার্টকে বলি—‘দোস্ত, যদি আমাকে পড়ে যেতে দেখো, তাহলে আমাকে বাঁচাতে সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ো।’”
সম্প্রতি এমএস চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি আর্কানসাসে নির্ধারিত একটি কনসার্ট বাতিল করে সার্জারি করান। ‘পিপল’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াকার জানান, এই চিকিৎসা তাকে নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছিল। তবে বাস্তবতা এখনো কঠিন। “আমি আশা করেছিলাম বড় কোনো পরিবর্তন আসবে, কিন্তু এখনো ভারসাম্যের সমস্যা পুরোপুরি কাটেনি,” বলেন তিনি।
তবুও অগ্রগতির ছোট ছোট মুহূর্তগুলো তার কাছে অনেক বড় অর্জন। ওয়াকার বলেন, “আমি কি পুরোপুরি হাঁটতে পারি? না। কিন্তু আমি কি আগের চেয়ে ভালো হাঁটছি? অবশ্যই।” সম্প্রতি তিনি ট্রেডমিলে পাঁচ মিনিট হাঁটতে পেরেছেন, তাও পড়ে যাওয়ার ভয় ছাড়াই—যা তার কাছে বিশাল সাফল্য।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ওয়াকারের শরীরে এমএস রোগ ধরা পড়ে। তখন চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছিলেন, তার অবস্থা গুরুতর—স্পাইনাল কর্ড, ব্রেনস্টেম ও মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে ক্ষত রয়েছে। এমনকি বলা হয়েছিল, তিনি হয়তো বেশিদিন বাঁচবেন না এবং শিগগিরই হুইলচেয়ারে নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াকার শিখেছেন জীবনকে ভিন্নভাবে দেখতে। তিনি বলেন, “আমরা সবকিছুর দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছি। আমরা তো আগেই যুদ্ধটা জিতে ফেলেছি।” এখন তার লক্ষ্য বড় স্বপ্ন নয়, বরং ছোট ছোট সাফল্য, প্রতিদিনের অগ্রগতি আর বর্তমান মুহূর্তকে উদযাপন করা।
শারীরিক দুর্বলতার মাঝেও ওয়াকারের এই মানসিক দৃঢ়তা ও ইতিবাচক মনোভাব তাকে শুধু একজন সফল সংগীতশিল্পীই নয়, বরং অসংখ্য মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক করে তুলেছে। তার গল্প মনে করিয়ে দেয়—জীবনের লড়াইয়ে জয় সবসময় বড় কোনো মুহূর্তে আসে না; অনেক সময় তা লুকিয়ে থাকে পাঁচ মিনিটের নির্ভীক হাঁটার মধ্যেই।
