“দে দোল দোল দোল” একটি জনপ্রিয় বাংলা গান, যার শিকড় রয়েছে মহারাষ্ট্রীয় সঙ্গীতে। এটি মূলত মারাঠি গান “Mi Dolkara Daryacha Raja”–র বাংলা সংস্করণ। মূল মারাঠি গানটি গেয়েছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও লতা মঙ্গেশকর, সুর করেছিলেন হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর।
পরবর্তী সময়ে কিংবদন্তি সুরকার, গীতিকার এবং সংগীত ব্যক্তিত্ব সলিল চৌধুরী গানটির বাংলা ভাষান্তর ও রূপান্তর করেন। বাংলা সংস্করণটি শুধু অনুবাদ নয়— এটি এক নতুন আবেগ, নতুন কাব্যরস, এবং বাংলার নদীনির্ভর জীবনযাত্রার সাংস্কৃতিক অনুভব বহন করে।
এই বাংলা গানটি গেয়েছেন—
🎙️ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
🎙️ লতা মঙ্গেশকর
এবং কোরাস।
সুরকার: হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর
গীতিকার (বাংলা): সলিল চৌধুরী
লেবেল: সারেগামা
গানের উৎস ও প্রেক্ষাপট
মারাঠি গান “Mi Dolkara Daryacha Raja” মহারাষ্ট্রীয় লোকসংগীত–ধারার একটি শ্রুতিমধুর উপস্থাপনা, যেখানে সমুদ্রযাত্রা, প্রেম, অপেক্ষা ও বেদনার গল্প উঠে এসেছে।
গানটি হিন্দি–বাংলা উভয় ভাষার সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বাংলা সংস্করণ “দে দোল দোল দোল” –এ সলিল চৌধুরী যোগ করেছেন—
- নদী–নৌকার উপমা
- বাংলার লোকজ বর্ণনা
- প্রেমিক–প্রেমিকার ব্যাকুলতা
- নদীর ভাঙন, জোয়ার–ভাটা, প্রান্তিক জীবনের অনুভূতি
ফলে গানটি হয়ে ওঠে এক সমুদ্র থেকে নদীতে অভিযোজিত প্রেমকাব্য।
গানটির মারাঠি মূল সংস্করণ রয়েছে ১৯৬০–৭০ দশকের জনপ্রিয় সঙ্গীতায়োজনে। বাংলা সংস্করণ রেডিও, স্টেজশো ও চলচ্চিত্রে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল। গানটির কথায় “নদী হওয়া”, “পালতোলা নৌকা”, “ফেরার প্রতিশ্রুতি”—এসবই বাংলা লোকজ প্রেমকাহিনির স্থায়ী উপাদান। গানটির তাল–ছন্দে ভাটিয়ালি ও দোহার রিদমের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
দে দোল দোল দোল — গান পরিচিতি
🎵 Song: De Dol Dol Dol
🎙️ Singer: Hemanta Mukherjee, Lata Mangeshkar, Chorus
🎼 Music Director: Hridaynath Mangeshkar
✍️ Bengali Lyrics: Salil Chowdhury
📀 Label: Saregama
দে দোল দোল দোল — লিরিক্স
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
দে দোল দোল দোল, তোল পাল তোল
চল ভাসি সবকিছু তাইগ্যা,
দে দোল দোল দোল, তোল পাল তোল
চল ভাসি সবকিছু তাইগ্যা,
মোর পানিতে ঘর, বন্দরে আসি তোর লাইগ্যা……
দে দোল দোল দোল, তোল পাল তোল
চল ভাসি সবকিছু তাইগ্যা।
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
হায় কুমারী অবলা শুধু মুই নারী
আমি কি কব গো দংশায় সর্পের সারি
হায় কুমারী অবলা শুধু মুই নারী
আমি কি কব গো দংশায় সর্পের সারি
তুমি দূরেতে যাও, অজানা ঢেউয়েতে ভাসো
আমি ঘরেতে রই, জোয়ারে যদি গো আসো
আনো রঙ্গিন চুড়ি বেলোয়ারি
কামরাঙ্গানো রঙ্গের শাড়ী
আনো রঙ্গিন চুড়ি বেলোয়ারি
কামরাঙ্গানো রঙ্গের শাড়ী
হব তোমার আমি ঘরনী………..
নদী হব আমি
আমাতে যাইওগো ভাইস্যা
নদী হব আমি
আমাতে যাইওগো ভাইস্যা………..
দে দোল দোল দোল, তোল পাল তোল
চল ভাসি সবকিছু তাইগ্যা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
তুমি জলে থাকো জলে থাকো
দীপ যেন জলেতে তুমি…….
কেন জাননা কি
স্বপ্নের সুন্দর তুমি যে আমারো তুমি
কেন পিছু ডাকো পিছু ডাকো
বারে বারে আমারে তুমি,
কাঁদো কন্যা তুমি
চক্ষের জলে কি ভাসাবে সাধের জমি….
হায় যাবনা যাবনা ফিরে আর ঘরে
পোড়া মন মানেনা, সংসার কারই বা তরে
দেহ কাটিয়া মুই বানাবো নৌকা তোমারই
দুটি কাটিয়া হাত বানাবো নৌকার দাঁড়ি
আর বসন কাটিয়া দেবো,
পাল তুফানে আমি উড়াবো
হবো ময়ূরপঙ্খি তোমারই……….
তরে বুকে নিয়া সুদূরে যাবো গো ভাইস্যা
তরে বুকে নিয়া সুদূরে যাবো গো ভাইস্যা……….আ
দে দোল দোল দোল, তোল পাল তোল
চল ভাসি সবকিছু তাইগ্যা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
আর কাইন্দনা কাইন্দনা তুমি সজনী
হবে আরও আঁন্ধার আমার এ জীবন রজনী
আর কাইন্দনা কাইন্দনা তুমি সজনী
হবে আরও আঁন্ধার আমার এ জীবন রজনী
তুমি হাসো যদি, আকাশে চাঁদিনী হাসে
পথ চেয়ে থাকো, তাই ভরসা বুকেতে আসে
খর ধারায় এ জীবন নদী
পাল ছেড়ে ভাঙ্গি হাল যদি
খর ধারায় এ জীবন নদী
পাল ছেড়ে ভাঙ্গি হাল যদি
শুধু প্রেমেরই পাল তুলিয়া
পাড়ে চলে যাবো
দুজনে কুজনে হাইস্যা
পাড়ে চলে যাবো
দুজনে কুজনে হাইস্যা………আ
দে দোল দোল দোল, তোল পাল তোল
চল ভাসি সবকিছু তাইগ্যা
দে দোল দোল দোল, তোল পাল তোল
চল ভাসি সবকিছু তাইগ্যা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
হেঁইয়ো রে মারো জোর হে আল্লা হে রামা
“দে দোল দোল দোল” একটি স্বতন্ত্র সৃষ্টি— যা মারাঠি লোকসংগীতের মূল ভাব বজায় রেখে বাংলার নদী–জীবন, প্রেম, বেদনা ও অপেক্ষাকে তুলে ধরেছে অসাধারণ কাব্যমাধুর্যে। হেমন্ত–লতা–হৃদয়নাথ–সলিল—এই চার কিংবদন্তির সহযোগিতায় গানটি হয়ে উঠেছে এক পার্থিব–কাব্যময় চিরসবুজ সৃষ্টি।