সিঙ্গাপুরের সংগীত ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক স্পর্শ করতে আয়োজিত হয়েছে ‘সিঙ্গ৬০’ (Sing60) ফেস্টিভ্যাল। উৎসবের প্রথম দিনেই ঐতিহাসিক ফোর্ট ক্যানিং পার্কের সবুজ চত্বর পরিণত হয়েছিল সুর, তাল আর ছন্দের এক মোহনীয় মিলনমেলায়। স্থানীয় সংগীতের ৬০ বছর পূর্তিকে উদ্যাপন করতে আয়োজিত এই উৎসবের প্রথম দিনটি দর্শকদের উপহার দিয়েছে ধ্রুপদী ঘরানা থেকে শুরু করে আধুনিক হিপ-হপ পর্যন্ত এক বিশাল সংগীতের সম্ভার।
Table of Contents
সুরের বৈচিত্র্য ও শিল্পীদের পরিবেশনা
ফোর্ট ক্যানিং পার্কের দুটি সুসজ্জিত মঞ্চে স্থানীয় শিল্পীরা তাঁদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। পপ, পোস্ট-হার্ডকোর, হিপ-হপ এবং অ্যাম্বিয়েন্ট সংগীতের সংমিশ্রণে পুরো এলাকাটি এক উৎসবমুখর পরিবেশ ধারণ করে। আরঅ্যান্ডবি (R&B) শিল্পী ইমরান আজমেইন এবং লুলাবয় তাঁদের অসাধারণ কণ্ঠস্বরের জাদুতে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। বিশেষ করে তাঁদের ‘ভোকাল রেঞ্জ’ বা স্বরগ্রামের বিস্তার ছিল প্রশংসনীয়।
অন্যদিকে, বর্তমান প্রজন্মের (Gen Z) প্রিয় শিল্পী শিয়ে (Shye) তাঁর ‘শোগেজ’ (Shoegaze) মিশ্রিত পপ সংগীতের মাধ্যমে তরুণ দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। শান্ত এবং মায়াবী সুরের আবহে তাঁর পরিবেশনাটি ছিল অনন্য। তবে শান্ত সুরের পাশাপাশি ছিল উত্তাল উন্মাদনাও। পোস্ট-হার্ডকোর ব্যান্ড ‘কারাকাল’ এবং ‘এ ভ্যাক্যান্ট অ্যাফেয়ার’-এর পরিবেশনার সময় দর্শকরা ‘মোশ-পিট’ (Mosh-pit) তৈরি করে উল্লাসে ফেটে পড়েন, যা উৎসবের শক্তিমত্তাকে ফুটিয়ে তোলে।
উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ও পরিবেশনা এক নজরে
নিচে ‘সিঙ্গ৬০’ উৎসবের প্রথম দিনের প্রধান শিল্পী ও তাঁদের পরিবেশনার একটি সংক্ষিপ্ত সারণি দেওয়া হলো:
| শিল্পী/ব্যান্ডের নাম | সংগীতের ধরণ | বিশেষ উল্লেখযোগ্য দিক |
| ইমরান আজমেইন ও লুলাবয় | আরঅ্যান্ডবি (R&B) | শক্তিশালী কণ্ঠস্বর ও আবেগঘন পরিবেশনা। |
| শিয়ে (Shye) | শোগেজ-পপ | জেনারেশন জেড-এর কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। |
| কারাকাল ও এ ভ্যাক্যান্ট অ্যাফেয়ার | পোস্ট-হার্ডকোর | ড্রাম ও গিটারের ঝংকারে ‘মোশ-পিট’ উন্মাদনা। |
| বেনজামিন খেং | আধুনিক পপ | ২০২৪ ন্যাশনাল ডে প্যারেড থিম সং পরিবেশন। |
| বারসি (বার্ড মাসকট) | পারফরম্যান্স আর্ট | নাচের মাধ্যমে দর্শকদের বিনোদন প্রদান। |
বারসি মুরগির নাচ ও অনাবিল আনন্দ
উৎসবের সবচেয়ে চমকপ্রদ এবং মজাদার দৃশ্যটি ছিল একটি বিশালাকার কালো মুরগির বেশধারী মাসকটের উপস্থিতি। গানে গানে যখন চারপাশ মাতোয়ারা, তখন হঠাৎ করেই এই মাসকটটিকে দর্শকদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচতে দেখা যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, এটি বিশ্বখ্যাত চেইন রেস্তোরাঁ ‘নান্দোস’-এর জনপ্রিয় মাসকট ‘বারসি’ (Barci)। ফেস্টিভ্যাল ভিলেজে তাদের বিখ্যাত পেরি-পেরি চিকেন বিক্রির পাশাপাশি বারসি দর্শকদের বিনোদনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। পারফরম্যান্সের সময় বারসি কেবল মঞ্চের সামনেই নাচেনি, বরং ভক্তদের সঙ্গে সেলফি তোলা এবং খুনসুটিতে মেতে উঠে এক নির্মল আনন্দের পরিবেশ তৈরি করে।
সংহতি ও সমাপনী আবহ
উৎসবের আরেকটি বিশেষ দিক ছিল শিল্পীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা। প্রখ্যাত গায়ক বেনজামিন খেং তাঁর ২০২৪ সালের ন্যাশনাল ডে প্যারেডের জনপ্রিয় থিম সং “Not Alone” পরিবেশন করার সময় আরও অনেক স্থানীয় শিল্পীকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান। বিভিন্ন প্রজন্মের শিল্পীদের এই যুগলবন্দি এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন সিঙ্গাপুরের সংগীত অঙ্গনের ঐক্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। প্রবীণ এবং নবীন—উভয় প্রজন্মের শিল্পীদের এই সংযোগ পুরো উৎসবকে এক অনন্য প্রাণশক্তি দান করেছে, যা আগামী দিনের স্থানীয় সংগীতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত দেয়।
