সঞ্জীব চৌধুরী বাংলা সংগীতের এক অমর ছায়াপথ। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের মাকালকান্দি গ্রামে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী, লেখাপড়ায়ও ছিলেন মেধাবী। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক উভয় পরীক্ষাতেই মেধাতালিকায় স্থান অর্জন করেছিলেন। ঢাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হলেও তিনি নিজেকে শান্তি পেলেন না; পরে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে স্থানান্তরিত হয়ে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। কিন্তু সঞ্জীবের প্রকৃত স্বতন্ত্রতা প্রকাশ পায় তাঁর সংগীতে।
তিনি মাত্র ৪৩ বছর বয়সে ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর আমাদের ছেড়ে চলে গেলেও বাংলা সংগীতে তার ছাপ অম্লান। সঞ্জীব গানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। তাঁর গানের ভাষা ‘ফিচার’ হিসেবে পরিচিতি পায়; ভালোবাসা, বিরহ, প্রতিবাদ—সবকিছুর অভিব্যক্তি হয়ে উঠেছে তার সুরে। বাপ্পা মজুমদারের সুরে ‘আমি তোমাকেই বলে দেব’ গানটি মানুষের মনকে ছুঁয়ে যায়। “আমি কাউকে বলিনি সে নাম / কেউ জানে না, না জানে আড়াল / জানে কান্নার রং, জানে জোছনার ছায়া”—এই লাইনগুলোই প্রমাণ করে যে, নাম না বলেও ভালোবাসা ও অনুভূতি প্রকাশ করা সম্ভব।
সঞ্জীব সংগীতচর্চা শুরু করেছিলেন শঙ্খচিল নামের ফোক দলে। পরে বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে গঠন করেছিলেন জনপ্রিয় ব্যান্ড দলছুট, যা শ্রোতাদের মন জয় করে। আহ, হৃদয়পুর, স্বপ্নবাজি, আকাশচুরি, জোছনা বিহার—এর মতো অ্যালবামগুলো তাঁর সৃষ্টিশীলতার সাক্ষ্য বহন করে। এছাড়া কবিতা, ছোটগল্প ও নাটকের মাধ্যমে তিনি বহু পরিচয়কে একত্রিত করেছেন।
আজও সামাজিক মাধ্যমে এবং কনসার্টে নতুন প্রজন্মের শ্রোতারা সঞ্জীবের গান গেয়ে স্মরণ করেন। তার সংগীত শুধুমাত্র শিল্পী সঞ্জীবের নয়; এটি মানুষের অনুভূতি, ভালবাসা এবং হৃদয়ের প্রতিধ্বনি।
