নারীদের অবমাননাকর কনটেন্টে বাদশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সম্প্রতি হরিয়ানা রাজ্যে র‍্যাপার বাদশা তাঁর নতুন গান ‘টাটিরি’–র কারণে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন। গানের দৃশ্যায়ন ও কথায় নারীদের আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এই বিতর্কের জেরে একাধিক এফআইআর দায়ের হওয়া ছাড়াও হরিয়ানা নারী কমিশন গায়ককে তলব করেছে, এবং হরিয়ানা পুলিশ ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

১ মার্চ বাদশা গানটি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেন। প্রাথমিকভাবে গানটি মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে অনুরাগীরা আনন্দ প্রকাশ করলেও, কয়েকদিনের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, মিউজিক ভিডিওতে স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের কাঁধের ব্যাগ নামিয়ে নাচানো হয়েছে, সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথোপকথন। এই ধরনের দৃশ্য এবং কথোপকথন নারীদের ‘ভোগ্যপণ্য’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে বলে নিন্দা করা হচ্ছে।

হরিয়ানা পুলিশের ডিজিপি অজয় সিংঘল জানিয়েছেন,

“নারী ও নাবালিকাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা কনটেন্টের ক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করব। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এর মধ্যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে গানটির লিংক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পঞ্চকুলা পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৮৫৭টি কনটেন্ট সরানো হয়েছে, যার মধ্যে ইউটিউব ভিডিও ১৫৪টি এবং ইনস্টাগ্রাম রিল ৭০৩টি।

প্ল্যাটফর্মসরানো কনটেন্ট সংখ্যা
ইউটিউব১৫৪
ইনস্টাগ্রাম রিল৭০৩
মোট৮৫৭

পঞ্চকুলার সাইবার ক্রাইম শাখায় বাদশার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন অভয় চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি। তিনি অভিযোগ করেছেন যে গানটি নারীদের অশালীন ও অসম্মানজনকভাবে উপস্থাপন করছে। বিশেষ করে স্কুল পোশাক পরা ছাত্রীদের নাচ প্রদর্শন বর্তমান প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা ছড়াতে পারে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে হরিয়ানা নারী কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করেছে। গানের প্রচার বন্ধ রাখতে এবং সমাজে অনৈতিক বার্তা ছড়ানো প্রতিরোধ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, প্রাক্তন রাজনীতিবিদ মুলায়ম সিং যাদবের পুত্রবধূ অপর্ণা যাদবও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে হরিয়ানা রাজ্যে বাদশার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন করেছিলেন। এই চিঠি এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে পুলিশ কড়া পদক্ষেপে এগিয়েছে।

এই ঘটনা বাদশা ও তার গান ‘টাটিরি’–কে একবারে সামাজিক ও আইনি সমালোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে অনৈতিক কনটেন্টের সম্প্রচার কমানো সম্ভব হবে এবং সমাজে সঠিক বার্তা পৌঁছানো যাবে।