নারী দিবসে কোনাল, অন্তরা ও মাশার নতুন গান উন্মোচন হলো শিল্পীদের

প্রতিবছরের ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস, যা নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে উদযাপিত হয়। এই বিশেষ দিনে বাংলাদেশের তিনজন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সোমনূর মনির কোনাল, অন্তরা রহমান ও মাশা ইসলাম তাদের নতুন গান ‘নারী যায় বাড়ি’ প্রকাশ করেছেন। গানটি নারীর জীবনের চিরন্তন যাত্রা ও ঘরের সন্ধানের গল্পকে কেন্দ্র করে গাওয়া হয়েছে।

গানটির সঙ্গীত ও কথা তৈরি করেছেন দেশের দুই বরেণ্য শিল্পী শহীদ মাহমুদ জঙ্গী ও পিলু খান। শহীদ মাহমুদ জঙ্গীর লেখা কথার সঙ্গে পিলু খানের সুর মিলিয়ে গানটি তৈরি হয়েছে, আর সংগীত আয়োজন করেছেন মীর মাসুম। গানটির অ্যানিমেশন ভিডিওর কাজ করেছেন মীর হিশাম ও সারাফ চিশতী। ৮ মার্চ নারী দিবসে আজব রেকর্ডসের মাধ্যমে গানটি প্রকাশিত হবে, পাশাপাশি এটি শিল্পীদের সোশ্যাল মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেও পাওয়া যাবে।

শহীদ মাহমুদ জঙ্গী গানটি প্রসঙ্গে বলেন,

“নারীরা আজীবন তাদের নিজের ঘর খুঁজে বেড়ান—কখনো বাবার ঘর, কখনো স্বামীর ঘর, কখনো ছেলেমেয়ের ঘর। তাঁদের কি কখনো নিজের ঘর হয়? এই চিরন্তন প্রশ্নকে কেন্দ্র করে গানটি লেখা হয়েছে।”

পিলু খান বলেন,

“জঙ্গী ভাইয়ের সঙ্গে চার দশক ধরে নানা বিষয়ভিত্তিক গান করেছি। এবার তালিকায় যুক্ত হলো নারী বিষয়ক এই গান। আশা করি, শ্রোতাদের এটি ভালো লাগবে।”

সোমনূর মনির কোনাল মন্তব্য করেছেন,

“কিংবদন্তি দুজন মানুষের সঙ্গে গান করতে পেরে আমি আনন্দিত। জঙ্গী ভাই ও পিলু ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করা আমার সংগীতজীবনের একটি অনন্য অর্জন।”

অন্তরা রহমান বলেন,

“একজন নারী হিসেবে এমন কথার গানে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। জঙ্গী ভাই ও পিলু ভাইয়ের মতো বরেণ্য মানুষের সান্নিধ্য আমার জন্য পরম পাওয়া।”

মাশা ইসলামও যোগ করেছেন,

“শহীদ মাহমুদ জঙ্গী ও পিলু খান আমাদের গানের জগতে দুই মহিরুহ। তাঁদের সঙ্গে কাজ করা দারুণ অভিজ্ঞতা। আশা করি গানটি শুনে সবাই উপভোগ করবেন।”

নিচের টেবিলে গানটি সম্পর্কিত মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

বিষয়বিবরণ
গান শিরোনামনারী যায় বাড়ি
শিল্পীসোমনূর মনির কোনাল, অন্তরা রহমান, মাশা ইসলাম
কথাশহীদ মাহমুদ জঙ্গী
সুরপিলু খান
সংগীত আয়োজনমীর মাসুম
অ্যানিমেশন ভিডিওমীর হিশাম, সারাফ চিশতী
প্রকাশ মাধ্যমআজব রেকর্ডস, সোশ্যাল মিডিয়া, আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম
প্রকাশের তারিখ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস

গানটি নারীর জীবনের সংগ্রাম, আবেগ ও আত্মপরিচয়কে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। নারী দিবসের এই বিশেষ আয়োজন বাংলাদেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য একটি অনন্য উপহার হিসেবে ধরা হচ্ছে। শিল্পীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নেবে এবং নারীর অবদানের প্রতি সামাজিক সচেতনতা আরও বাড়াবে।

এই গান শুধু বিনোদন নয়, বরং নারীর সম্মান ও আত্মপরিচয়ের কথা তুলে ধরার একটি প্রতীক হিসেবে দাঁড়াবে।