মার্কিন র্যাপ তারকা নিকি মিনাজের জনপ্রিয় গান “Beez in the Trap” এবার জায়গা করে নিয়েছে হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল টিকটক অ্যাকাউন্টে। হোয়াইট হাউস প্রকাশিত একটি ভিডিওতে গানটি “What’s Up?”–এর সঙ্গে মাশআপ আকারে ব্যবহার করা হয়, যা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর নিকি মিনাজ নিজেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ধন্যবাদ।” এরপর আরও একটি পোস্টে তিনি আরও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান—“যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি!!!!!!!!!!!!!!”—এবং ভিডিওটি যিনি আপলোড করেছেন, তার প্রশংসা করে মজার ছলে বলেন, “যে এটা আপলোড করেছে, সে আজীবনের জন্য ‘অনির্দিষ্ট ব্যাকস্টেজ গ্যাগ সিটি’ পাবে।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হোয়াইট হাউসের পোস্টের আগেই এই মাশআপ অডিওটি টিকটকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ব্যবহারে ইতোমধ্যে ৭০ লক্ষেরও বেশি টিকটক ভিডিওতে এই অডিও ব্যবহৃত হয়েছে। পাশাপাশি, ৮ আগস্ট ইউটিউবে আপলোড হওয়ার পর থেকে ভিডিওটি প্রায় ১০ লাখ প্লে অতিক্রম করেছে। এই জনপ্রিয়তাই সম্ভবত হোয়াইট হাউসের নজর কেড়েছে।
হোয়াইট হাউসের মতো একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সমসাময়িক পপ ও হিপ-হপ গান ব্যবহারের বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অতীতে দেখা গেছে, বহু শিল্পী রাজনৈতিক প্রচারণা বা সরকারি কনটেন্টে তাদের গান ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে নিকি মিনাজের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া অনেকের কাছেই কিছুটা ব্যতিক্রম হিসেবে ধরা দিয়েছে।
এদিকে, নিকির সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক অবস্থানও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য শেয়ার করেন, যেখানে নাইজেরিয়ার খ্রিস্টানদের ওপর নিপীড়নের প্রসঙ্গ উঠে আসে। সেই মন্তব্যের প্রতি নিকির সমর্থন প্রকাশ তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি তার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন সুরের ইঙ্গিত হতে পারে।
তবে নিকি মিনাজ দীর্ঘদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কে সরব। তাই হোয়াইট হাউসের একটি ভিডিওতে নিজের গান ব্যবহারে তার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে অনেকেই স্বাভাবিক বলেই দেখছেন। ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক অবস্থান কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এই ঘটনাটি নিঃসন্দেহে সংগীত, রাজনীতি ও ডিজিটাল সংস্কৃতির এক অনন্য সংযোগ হিসেবে আলোচনায় থাকবে।
