নেটফ্লিক্সের রোমান্টিক কমেডিতে নাম লেখালেন ব্ল্যাকপিঙ্ক তারকা লিসা

বিশ্বখ্যাত দক্ষিণ কোরীয় পপ ব্যান্ড ‘ব্ল্যাকপিঙ্ক’-এর থাই সদস্য লিসা এখন কেবল মঞ্চ কাঁপানো পারফরমার নন, বরং রূপালি পর্দার উদীয়মান এক শক্তি। এইচবিওর দর্শকনন্দিত সিরিজ ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’–এর তৃতীয় মৌসুমের মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেকের পর থেকেই লিসাকে নিয়ে বিনোদন জগতে আলোচনার শেষ নেই। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জানা গেল লিসার নতুন মিশনের কথা। বিশ্বখ্যাত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের একটি নতুন রোমান্টিক কমেডি সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে চলেছেন ২৯ বছর বয়সী এই তারকা।

অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনায় লিসা

লিসার এই নতুন প্রজেক্টটি কেবল অভিনয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি নাম লেখাতে চলেছেন নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও। মিডল চাইল্ড প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করছেন ডেভিড বার্নাড। উল্লেখ্য, ডেভিড বার্নাড লিসার অভিষেক সিরিজ ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’–এরও প্রযোজক ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সিরিজের শুটিং চলাকালীনই লিসার সৃজনশীলতায় মুগ্ধ হয়ে এই নতুন সিনেমার পরিকল্পনা করেন বার্নাড। সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন কেটি সিলভারম্যান, যিনি এর আগে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিনেমা ‘সেট ইট আপ’–এর জন্য প্রশংসিত হয়েছেন।

লিসার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য মাইলফলকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
ব্যান্ডে যোগদান২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরীয় ব্যান্ড ‘ব্ল্যাকপিঙ্ক’
অভিনয়ে অভিষেকএইচবিওর ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ (মৌসুম ৩)
নতুন সিনেমানেটফ্লিক্সের নাম ঠিক না হওয়া রোমান্টিক কমেডি
একক অ্যালবাম‘অলটার ইগো’ (২০২৫ সালে প্রকাশিত)
অ্যালবাম সাফল্যবিলবোর্ড ২০০ তালিকায় সপ্তম স্থান
ক্যারিয়ার ভূমিকাসংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, অভিনেত্রী এবং নির্বাহী প্রযোজক

‘নটিং হিল’ থেকে অনুপ্রাণিত নতুন গল্প

যদিও লিসার আসন্ন এই সিনেমার নাম বা গল্পের বিস্তারিত এখনো গোপন রাখা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে যে, সিনেমাটি ক্ল্যাসিক রোমান্টিক কমেডি ‘নটিং হিল’ থেকে অনুপ্রাণিত। ১৯৯৯ সালের সেই বিখ্যাত সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন জুলিয়া রবার্টস ও হিউ গ্রান্ট। লিসার নতুন সিনেমাটিতেও সেই সময়ের আমেজ এবং একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে লিসাকে নেটফ্লিক্সের অ্যাকশনধর্মী ‘এক্সট্র্যাকশন’ ইউনিভার্সের একটি সিনেমাতেও দেখা গেছে, যা তাঁর বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দেয়।

থাইল্যান্ড থেকে বিশ্বজয়

লিসার জীবনের গল্পটিও কোনো সিনেমার চেয়ে কম নয়। মাত্র ১৩ বছর বয়সে থাইল্যান্ড থেকে একা পাড়ি জমিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায়। কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছা শক্তিতে আজ তিনি এশিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে ইউরোপ-আমেরিকার ভক্তদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। গত বছর প্রকাশিত তাঁর প্রথম একক পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবাম ‘অলটার ইগো’ বিশ্বসংগীতের মানচিত্রে তাঁর অবস্থান আরও মজবুত করেছে। অ্যালবামটি বিলবোর্ড টপ অ্যালবাম সেলস চার্টের শীর্ষে উঠে আসার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, ব্যান্ডের বাইরেও লিসার নিজস্ব একটি বিশাল বাজার রয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা

বিনোদনের দুনিয়ায় লিসা এখন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম। সংগীত থেকে অভিনয়ে তাঁর এই রূপান্তর ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রোমান্টিক কমেডিতে লিসার প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং পর্দার রসায়ন দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ‘ব্লিংক’ (ব্ল্যাকপিঙ্ক ভক্ত)। নেটফ্লিক্সের এই প্রজেক্টটি সফল হলে লিসা যে হলিউডের মূলধারার অভিনেত্রীদের কাতারে শামিল হবেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।